রাজশাহী

এত সতর্কবার্তার পরও যারা ধূমপান করে, তারা মূর্খ: অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার

নিউজ ডেস্ক১৭ জুন ২০২৬২ মিনিট পড়া

নিজস্ব প্রতিবেদক :

রাজশাহীর অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মো. রেজাউল আলম সরকার বলেছেন, ভালো-মন্দ আলাদা করার সক্ষমতাই প্রকৃত জ্ঞান। ধূমপানের ক্ষতি সম্পর্কে এত সতর্কবার্তার পরও যারা ধূমপান করে, তারা জ্ঞানী হতে পারে না; বরং তারা মূর্খ।রাজশাহী আমের ব্যবসা

বুধবার (১৭ জুন) দুপুরে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত বিভাগীয় পর্যায়ের তামাকবিরোধী সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের আওতায় স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেলের উদ্যোগে এবং রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের আয়োজনে সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হয়।

মো. রেজাউল আলম সরকার বলেন, ধূমপানের কোনো উপকারিতা নেই, এর রয়েছে কেবল ক্ষতিকর প্রভাব। ধূমপায়ীরা যেমন ক্ষতির শিকার হন, তেমনি অধূমপায়ীরাও পরোক্ষ ধূমপানের কারণে বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েন। তিনি ধূমপায়ীদের এ অভ্যাস পরিত্যাগ করার আহ্বান জানান এবং আগামী প্রজন্মকে তামাকমুক্ত রাখতে সবাইকে সচেতন হওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।সরকারী টেন্ডার তথ্য

অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ হাবিবুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন স্বাস্থ্যের বিভাগীয় পরিচালক ডা. মো. হাবিবুর রহমান।

মূল প্রবন্ধে তিনি জানান, দেশে প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষদের মধ্যে তামাক ব্যবহারের হার প্রায় ৩৬ শতাংশ। বর্তমানে দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ রোগী অসংক্রামক রোগে আক্রান্ত, যার অন্যতম প্রধান কারণ তামাক ব্যবহার। তামাকের কারণে প্রতিবছর প্রায় ১২ লাখ মানুষ হৃদরোগ, স্ট্রোক, ক্যান্সার ও দীর্ঘমেয়াদি ফুসফুসজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, তামাক অর্থনৈতিকভাবেও বড় ধরনের ক্ষতির কারণ। তামাক থেকে সরকারের রাজস্ব আয় প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা হলেও তামাকজনিত রোগের চিকিৎসা ব্যয় প্রায় ৮৭ হাজার কোটি টাকা। ২০৪০ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে তামাকমুক্ত দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনকে আরও যুগোপযোগী ও শক্তিশালী করেছে।

সেমিনারের মুক্ত আলোচনা পর্বে অংশগ্রহণকারীরা ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ আইনের কঠোর প্রয়োগ, ই-সিগারেটের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আশপাশে বিড়ি-সিগারেট বিক্রি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের পরামর্শ দেন।

সেমিনারে ধূমপান ও তামাক নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক রাজশাহী বিভাগীয় কমিটির সদস্যরা সরাসরি এবং বিভিন্ন জেলার প্রশাসনের প্রতিনিধিরা অনলাইনে অংশগ্রহণ করেন।