রাজশাহীর খবর

একটি প্রকল্পে ভাগ্য বদলে গেছে রাজশাহীর হতদরিদ্র শত পরিবারের

নিউজ ডেস্ক৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৫৪ মিনিট পড়া

নিজস্ব প্রতিবেদক:

সরকারের ‘সমতল ভূ’মিতে বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জীবন মান উন্নয়ন প্রকল্প’ ভাগ্য বদলে দিয়েছে রাজশাহীর পবা ও গোদাগাড়ি উপজেলার অনগ্রসর ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী মানুষের। প্রকল্প বাস্তবায়নে এপর্যন্ত গোদাগাড়ির ও পবা এলাকার ৬হাজার ১ টি পরিবারকে এই প্রকল্পের আওতায় আনা হয়েছে। ইতোমধ্যেই সুফল ভোগী ৩হাজার ৮শত ৩৩ টি পরিবারের মধ্যে বিনা মূল্যে বিতরণ করা হয়েছে হাঁস-মুরগী, হাঁস-মুরগী পালনের ঘরসহ প্রয়োজনীয় বিভিন্ন উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে। এর মধ্যে গোদাগাড়িতে সুফল ভোগীর স্যংখা ৫হাজার ৩শত ২২ ও পবা উপজেলায় ৬শত ৫৬ টি পরিবার। প্রণিসম্পদ বিভাগের সুত্রমতে গোদাগাড়ি উপজেলার সুফল ভোগী পরিবার গুলোর মধ্যে ইতোমধ্যেই অনুদান প্রাপ্ত হয়েছে ৩হাজার ৩শত ৭৭টি পরিবার। অপরদিকে পবার ৪শত ৫৬ টি পরিবার পেয়েছেন এই অনুদান। তৃতীয় দফায় গোদাগাড়ির বাকি ১হাজার ৯শত ৪৫টি এবং পবার ২২৩ টি পরিবারের মধ্যে অনুদান বিতরণ করা হবে বলে জানিয়েছেন এই দুই উপজেলার প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তারা।

গোদাগাড়ি উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ শায়লা শারমিন জানান, ২০১৮-২০১৯ অর্থ বছরে গৃহিত এই প্রকল্পের আওতায় দুই দফায় ১৮০টি পরিবারকে বকনা বাছুর, ১১১টি পরিবারকে এড়েঁ বাছুর, ৭৩৪টি পরিবারকে ২০টি করে ডিমের মুরগী ও ৫৩৫ পরিবারের মাঝে ২০ টি করে হাঁসসহ বকনা বাছুরের জন্য ১৭৯.৬ কেজি, এড়েঁ বাছুরের জন্য ২৬৯.৬ কেজি, মুরগীর জন্য ৮৯.৯ কেজি ও হাঁসের জন্য ৮৯.৯ কেজি দানাদার খাদ্য বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়াও হাঁস মুরগীর ঘর, গরুর সেড নির্মাণের জন্য টিন,ইট, পিলার ও প্রয়োজনীয় ঔষধ সমগ্রী সরবরাহ করা হয়েছে। পরবর্তী ধাপে উপজেলার বাকি ১হাজার ৯শত ৪৫টি পরিবার অনুদান সামগ্রী পাবেন।

এদিকে রাজশাহীর পবা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ সুব্রত কুমার সরকার জানান, উপজেলার মোট ৬৭৯ টি পরিবারকে এই প্রকল্পের আওতায় নেয়া হয়েছে। এর মধ্যে ২দফায় ৪৫৬ টি পরিবারের মাঝে বিনামুল্যে বিতরণ করা হয়েছে হাঁস-মুরগী, গরু, ভেড়াসহ পশুখাদ্য, প্রয়োজনীয় ঔষধ ও ঘর নির্মাণ সামগ্রী।

সরজমিনে প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে দেখামিলে গোদাগাড়ি উপজেলার আদর্শ গ্রামের উপকার ভোগী সোমিত মারান্ডি দম্পতির সাথে। সোমিত মারান্ডি জানান, ২বছর পূর্বে তিনি পেয়েছিলেন একটি বকনা বাছুর। সেখান থেকেই আর অর্থনৈতিক অবস্থা পরিবর্তনের শুরু। অনুদানের এই বকনা পালন করেই তিনি আজ অর্থনৈতিক সাবলম্বি হয়েছেন। তিনি একটি এড়েঁ বিক্রি করে ছেলের বিয়ে দিয়েছেন এবং তার স্ত্রীকে বানিয়ে দিয়েছেন একটি কানের ঝুমনা। এখনও তার রয়েছে গাভিন গাভিসহ আরও ১টি এড়েঁ। তিনি গাভির দুধ বিক্রির পাশাপাশি এই দুধ থেকেই মিটাচ্ছেন পরিবারের সদস্যদের পুষ্টি চাহিদা।

পবা উপজেলার সন্তসপুর খৃষ্টানপাড়া এলাকার উপকার ভোগী শাকিলা মার্ডি জানান, ২বছর পূর্বে প্রকল্প থেকে ২টি ভেড়া পেয়ে তিনি ১৪ টি ভেড়ার মালিক হন। সেখান থেকে ৪ টি ভেড়া বিক্রি করে সেই অর্থ পরিবারের সদস্যদের চিকিৎসা ও সন্তানদের লেখাপড়ার কাজে লাগিয়েছেন। বর্তমানে তার ছোট বড় মিলিয়ে আরও ১০টি ভেড়া রয়েছে। তিনি বলেন, প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তারা প্রায়ই পরিদর্শনে আসেন। ভেড়া গুলোর নিয়মিত টিকা, কৃমিনাষক ও প্রয়োজনিয় পরামর্শ পাওয়ায় উল্লেখযোগ্য রোগবালাই নেই। এতেকরে আগামীতে পারিবারিক আরও সচ্ছলতার স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন তারা।

একই গ্রামের আরেক উপকার ভোগী কিসলু মার্ডি। তিনি তার জীবন বদলানোর গল্প বলতে গিয়ে আবেগ আপলুত হয়ে কেঁদে ফেলেন। তিনি জানান, ২ বছর পূর্বে তিনি পেয়েছিলেন একটি বকনা বাছুর। ইতোমধ্যেই তিনি সেখান থেকে ১টি এড়েঁ বাছুর ও ১টি বকনা বাছুর পেয়েছেন। অনুদানপ্রাপ্ত গাভিটি আবারও গাভিনে রয়েছে। পূর্বের ২টি এড়েঁ ও বকনা বিক্রি করে সেই অর্থ সংসারের উন্নয়নে কাজে লাগিয়েছেন তিনি। পরিবারে ফিরেছে সচ্ছলতা। দৈনিক দুধ বিক্রির টাকা দিয়েই চলে গরুর খাবারসহ তাদের সংসারের দৈনন্দিন খরচ। আর গরু বিক্রির মোট অর্থ কাজে লাগিয়েছেন ঘরবাড়ির উন্নয়নে।

উপকার ভোগীদের সফলতা দেখে উদ্বুদ্ধ হয়েছেন এই দুই উপজেলার সদ্য অনুদান প্রাপ্ত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মানুষ। প্রকল্প থেকে অনুদান প্রাপ্ত হাঁস-মুরগি, গরু-ভেড়া পালনের মাধ্যমে তারা অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতার স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন। তবে সরকারের এই সেবা হতদরিদ্র সকল ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী পরিবারের কাছে পৌঁছে দেয়ার দাবি করেছেন এসব এলাকার সুবিধা বঞ্চিতরা।