লাইফ স্টাইল

একই টুথব্রাশ দীর্ঘদিন ব্যবহার করছেন? কত দিন পর পরিবর্তন করা উচিত

নিউজ ডেস্ক৩০ আগস্ট ২০২৫৩ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক :

শরীরের আর অন্যান্য অঙ্গের মতো দাঁতের যত্ন অনেকেই নিতে চান না। বিশেষ করে টুথব্রাশ পরিবর্তনের ক্ষেত্রে গাফিলতির শেষ নেই। দাঁতের উজ্জ্বলতা নষ্ট হয়ে গেলে কিংবা দাঁতের ব্যথায় আমরা চিন্তায় পড়ে যাই, কিন্তু টুথব্রাশ নিয়ে কোনো চিন্তা করি না। ব্রাশ একেবারে ব্যবহারের অযোগ্য না হওয়া পর্যন্ত তা পরিবর্তনের কথা মাথায় আসে না।

খুব কম মানুষই জানেন যে একটি টুথব্রাশ ঠিক কতদিন ব্যবহার করা নিরাপদ। চিকিৎসকরা বলছেন, পুরনো টুথব্রাশ শুধু দাঁতের ক্ষতি করে না, জীবাণুর আস্তানায় পরিণত হয়। এমনকি টুথব্রাশ নিয়মিত পরিবর্তন না করা হলে দাঁত ও মাড়ির সমস্যা মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে। পুরনো টুথব্রাশ ব্যবহার করা দাঁতের অযত্নের অন্যতম বড় কারণ হতে পারে।

আমাদের মধ্যে অনেকেই দামি পেস্ট কেনেন। ভাবেন, তাতেই বুঝি সব সমস্যার সমাধান করে ফেলতে পারবেন। তবে এই ধারণা ঠিক নয়। চিকিৎসকদের একাংশের মত, দাঁত ও মুখ পরিষ্কারের ক্ষেত্রে পেস্টের ভূমিকা খুবই নগণ্য।

তাই এই নিয়ে বেশি মাতামাতি করে লাভ নেই। বরং ব্রাশ করার সময় অল্প পরিমাণে পেস্ট ব্যবহার করুন। কারণ, বেশি পেস্ট নিলে ব্রাশের ঘর্ষণ ক্ষমতা কমে যায়। যার ফলে দাঁতের মাঝ থেকে প্লাক বের হতে চায় না।

প্রতিদিন রাতে ও সকালে উঠে ব্রাশ করা জরুরি।

আর ব্রাশ করতে হবে মাড়ি থেকে দাঁতের দিকে এবং দাঁত থেকে মাড়ির দিকে। তবে শুধু ব্রাশ করলেই হয় না, নির্দিষ্ট সময় অন্তর টুথব্রাশ পরিবর্তন করাও জরুরি।
কত দিন পর টুথব্রাশ পরিবর্তন করা উচিত

দন্ত চিকিৎসকরা জানান, ‘৩ মাসের নিয়ম’ মেনে টুথব্রাশ পরিবর্তন সুস্থ দাঁত ও মাড়ির জন্য অপরিহার্য। প্রতি ৩ থেকে ৪ মাস অন্তর টুথব্রাশ পরিবর্তন না করলে শুধু দাঁতের সমস্যা নয়, সংক্রমণ ও অস্বস্তিও বাড়তে পারে।

আসলে এই সময়ের পর ব্রাশের আঁশ (ব্রিসল্স) নরম হয়ে যায় অথবা ফেটে যায়। ফলে দাঁতের ফাঁকে জমে থাকা প্লাক ও জীবাণু কার্যকরভাবে পরিষ্কার হয় না। কোনো অসুস্থতা, বিশেষ করে ভাইরাল রোগ যেমন জ্বর, কাশি থেকে সেরে ওঠার পর টুথব্রাশ পরিবর্তন করে ফেলা উচিত। সেক্ষেত্রে ২-৩ মাসের আগেই ব্রাশ পরিবর্তন করুন। চেবানোর স্বভাব থাকলে ব্রাশ এক মাসেও নষ্ট হয়ে যেতে পারে। ব্রাশের ব্রিসল্সগুলো ভালো আছে কি না, তা যাচাই করে নেওয়া জরুরি।

পুরনো টুথব্রাশ ব্যবহার করলে দাঁতে প্লাক জমে দাঁতের ক্ষয় হতে পারে। মাড়িতে প্রদাহ বা জিঙ্গিভাইটিসের ঝুঁকি বাড়ে। পুরনো ব্রাশে ব্যাকটেরিয়া ও ফাঙ্গাস জমে সংক্রমণ ছড়াতে পারে। মুখের দুর্গন্ধের অন্যতম কারণ হয়ে উঠতে পারে পুরনো ব্রাশ।

কিভাবে টুথব্রাশের যত্ন নেবেন

প্রতিবার ব্রাশ শেষে পরিষ্কার পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে ফেলুন।
উলম্ব অবস্থায় বাতাস চলাচল হয়, এমন জায়গায় শুকাতে দিন।
নিজের টুথব্রাশ অন্যকে বা নিজের অন্যের টুথব্রাশ কখনোই ব্যবহার করবেন না।
প্লাস্টিক কভার দিয়ে ভেজা অবস্থায় ঢেকে রাখবেন না, এতে জীবাণু দ্রুত বাড়ে।