সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক :
অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় গত ২৪ ঘণ্টায় চালানো ইসরাইলি বিমান হামলায় আরও অন্তত ২৩ জন নিহত হয়েছেন। যার মধ্যে শিশু এবং তাদের পরিবারের সদস্যরাও রয়েছেন।
এর মধ্যে সর্বশেষ হামলাগুলো সোমবার গভীর রাতে এবং মঙ্গলবার ভোরে চালানো হয়। মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে গাজার স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন। খবর বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও ইরনার।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসের কাছে একটি তাঁবুতে হামলা চালিয়ে তিন শিশু এবং তাদের বাবা-মাকে হত্যা করা হয়েছে বলে নাসের হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে।
ইসরাইলের যুদ্ধ ও গণহত্যা
ইসরাইল ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে গাজায় সামরিক আগ্রাসন শুরু করে। দীর্ঘ ১৫ মাসের অব্যাহত আগ্রাসনের পর চলতি বছরের জানুয়ারিতে স্বল্প সময়ের জন্য যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও গত ১৮ মার্চ থেকে ইসরাইল গাজায় পুনরায় হামলা শুরু করে।
আল-জাজিরা জানিয়েছে, এতে গত ৭ দিনে প্রায় ৭৫০ ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১,২০০ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে শিশুদের সংখ্যাই ২৭০ জনের বেশি।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গাজায় ইসরাইলি আগ্রাসন শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত ৫০,০০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং ১,১৩,০০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। তবে কয়েকটি অধিকার সংস্থার মতে, প্রকৃত নিহতের সংখ্যা ৬২ হাজারেরও বেশি।
প্রায় ১৮ মাস ধরে চলা এই আগ্রাসনের ফলে গাজার ২.৩ মিলিয়ন জনসংখ্যার বেশিরভাগই ইতোমধ্যেই একাধিকবার বাস্তুচ্যুত হয়েছে। এমনকি চলতি মাসের শুরুতে বর্বর ইসরাইল সব ধরনের সাহায্য সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়ার পর গাজাবাসী খাদ্য ও পানির ক্রমবর্ধমান সংকটের মুখোমুখি হচ্ছে।
এরই মধ্যে ইসরাইলি সেনাবাহিনী মঙ্গলবার গাজার উত্তরের সীমান্তবর্তী শহরগুলোর বাসিন্দাদের সরে যেতে বলেছে। জানিয়েছে, এসব এলাকা থেকে নাকি ইসরাইলে ফিলিস্তিনিদের রকেট নিক্ষেপ করা হয়েছে।
জোরপূর্বক উচ্ছেদের শিকার ফিলিস্তিনি শহরগুলোর মধ্যে রয়েছে গাজা শহরের জাবালিয়া, বেইত লাহিয়া, বেইত হানুন এবং শেজাইয়া। দক্ষিণে খান ইউনিস এবং রাফাহ এলাকার জন্যও আদেশ জারি করা হয়েছে।
গাজার ঐতিহাসিক শরণার্থী শিবিরগুলোর মধ্যে বৃহত্তম জাবালিয়ার বাসিন্দাদের উদ্দেশ্যে দেওয়া নির্দেশে দখলদার সেনাবাহিনী বলেছে, ‘আপনাদের নিরাপত্তার জন্য সবাইকে অবিলম্বে দক্ষিণের পরিচিত আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যেতে হবে’।
এ নিয়ে রীতিমত উদ্বেগ প্রকাশ করে ফিলিস্তিনি এবং জাতিসংঘের কর্মকর্তারা বলছেন, ‘গাজা উপত্যকায় কোনো নিরাপদ এলাকা নেই’।
এদিকে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, নতুন করে আক্রমণের লক্ষ্য হামাসকে গাজায় তাদের আটকে থাকা বাকি ৫৯ জন জিম্মিকে মুক্তি দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া। তাদের মধ্যে প্রায় ২৪ জন এখনো জীবিত বলে মনে করা হচ্ছে।
অন্যদিকে গত ১৯ জানুয়ারির যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করার জন্য ইসরাইলের বিরুদ্ধে অভিযোগকারী হামাস জানিয়েছে, তারা কাতার, মিশর এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় শান্তি ফিরিয়ে আনা এবং তিন পর্যায়ের যুদ্ধবিরতি চুক্তি সম্পন্ন করার জন্য একটি নতুন প্রচেষ্টায় সহযোগিতা করছে।
তবে, এখনো পর্যন্ত এতে কোনো অগ্রগতি হয়নি বলেও উল্লেখ করেছে হামাসের কিছু সূত্র। কারণ, মিশরের দেওয়া নতুন প্রস্তাবে যুক্তরাষ্ট্র ও হামাস সম্মতি দিলেও ইসরাইল এখনো তাতে সাড়া দেয়নি।
সূত্র: যুগান্তর









