ইন্টারপোলের সহায়তায় দুবাই থেকে আসামি মহসিন গ্রেপ্তার
নিউজ ডেস্ক২৪ জুলাই ২০২৫৩ মিনিট পড়া
নিজস্ব প্রতিবেদক:
নরসিংদীর শিবপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান (বীর মুক্তিযোদ্ধা) হারুনুর রশিদ খান হত্যা মামলার অন্যতম আসামি মহসিন মিয়াকে (৪৬) ইন্টারপোলের সহায়তায় দুবাই থেকে গ্রেপ্তার করে দেশে ফিরিয়ে এনেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) নরসিংদীর পুলিশ সুপার (অতিরিক্ত ডিআইজি) এস এম মোস্তাইন হোসেন এই তথ্য জানান।
এর আগে গত ২০ জুলাই তাকে গ্রেপ্তারের পর ২১ জুলাই আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় মহসিন মিয়া। গ্রেপ্তার মহসিন মিয়া শিবপুর উপজেলার পুটিয়া ইউনিয়নের পূর্ব সৈয়দনগর এলাকার মৃত আয়েছ আলীর ছেলে।
জবানবন্দিতে সে হত্যায় সরাসরি নেতৃত্ব দিয়ে অংশগ্রহণের কথা স্বীকার করেছে।
পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার বলেন, ‘২০২৩ সালের ২৩ জুন হতে হারুন অর রশিদ খান হত্যাকাণ্ডের তদন্ত শুরু করে পিবিআই। এরই মধ্যে পালিয়ে দুবাই চলে যায় অন্যতম আসামি মহসিন মিয়া। পরে ইন্টারপোলের রেড এলার্টের ভিত্তিতে দুবাই পুলিশ মহসিন মিয়াকে গ্রেপ্তার করে।
দুবাই পুলিশের বার্তা পেয়ে বাংলাদেশ পুলিশের একটি দল গত রবিবার মহসিন মিয়াকে দেশে নিয়ে আসে। পরদিন ২১ জুলাই নরসিংদীর আদালতে নেওয়া হলে মহসিন মিয়া হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেয়।’ এ নিয়ে আলোচিত উপজেলা চেয়ারম্যান হত্যা মামলাটির ১৭ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।আসামি মহসীনের বরাত দিয়ে তিনি আরো বলেন, ‘নিহত হারুন খান প্রতিদিন ফজরের নামাজ পড়ার পর তার বাসভবনে প্রায় সময়ই এলাকার লোকজনদের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলতেন।
এরই প্রেক্ষিতে আসামিরা হত্যার পরিকল্পনা করে এবং পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী মামলার ১নং আসামি আরিফ সরকার ২০২৩ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি রাত পৌনে ৯টায় একটি বিদেশি নাম্বার দিয়ে হারুন খানকে ফোন করে বলে, ‘আমি বিদেশে চলে এসেছি এবং আগামীকাল মহসীন মিয়া আপনার কাছে মসজিদের অনুদানের জন্য কিছু টাকা নিয়ে আসবে।’ঘটনার দিন ২৫ ফেব্রুয়ারি সকাল সোয়া ৬টায় এজাহারনামীয় ২ নম্বর আসামি মহসীন মিয়া একটি মোটরসাইকেলে করে দুটি পিস্তলসহ দুইজন শুটারম্যানকে (ইরান মোল্লা ও মোবারক) নিয়ে হারুন খানের বাসভবনের নিচে গিয়ে ফোন করে বলে, ‘আরিফ আমাকে মসজিদের অনুদানের জন্য কিছু টাকা দিয়ে পাঠিয়েছে এবং আমি আপনার বাসার নিচে আছি।’ পরে তিনি মহসিন মিয়াকে তার বাসভবনের তৃতীয় তলার ড্রয়িং রুমে এসে বসতে বলেন এবং ড্রয়িং রুমের দরজা খুলে দেন। হারুন খান আসামিদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং বলেন, ‘তোমরা বসো, আমি তোমাদের জন্য একটু ফল কেটে নিয়ে আসি।’ সোফা থেকে উঠে দাঁড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে দুইজন শুটারম্যান হারুন খানকে দুই রাউন্ড গুলি করে ৩য় তলা থেকে দৌড়ে নেমে মোটরসাইকেল দিয়ে পালিয়ে উপজেলার পালপাড়া বাজারে যায়।সেখানে অপর আসামি হুমায়ুন একটি প্রাইভেট কার নিয়ে অবস্থান করেছিল। পরে তারা প্রাইভেট কার দিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে প্রথমে ভারত ও পরে দুবাই চলে যায়।
২০২৩ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি সকালে নরসিংদীর শিবপুরের উপজেলা চেয়ারম্যান হারুনুর রশিদ খানকে তার বাসায় ঢুকে গুলি করে পালিয়ে যায় আসামি মহসিন মিয়াসহ আরো দুজন। গুরুতর আহত অবস্থায় হারুনুর রশিদ খানকে রাজধানীর একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন থাকার ৯৪ দিন পর ৩১ মে মারা যান আওয়ামী লীগের বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ হারুনুর রশিদ খান। মৃত্যুর আগেই এই ঘটনায় ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করা হয়।