খেলা

আব্দুল হামিদের চতুর্থ প্রয়ান দিবস আজ

নিউজ ডেস্ক৪ আগস্ট ২০১৬২ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজ ক্রীড়া ডেস্ক:

বাংলা ক্রীড়া ধারাভাষ্যের পথিকৃৎ আব্দুল হামিদের চতুর্থ প্রয়ান দিবস আজ (০৪ আগস্ট)।  ২০১২ সালের ৪ আগস্ট রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। বাংলাদেশে বাংলা ক্রীড়া ধারাভাষ্যের শুরু হয়েছিল আব্দুল হামিদের হাত ধরে। একাধারে তিনি খেলোয়াড়, ক্রীড়া সংগঠক ও ক্রীড়া সাংবাদিক ছিলেন।

আব্দুল হামিদকে স্মরণে আগামী শনিবার (৬ আগস্ট) বিকেল ৪ টায় জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সম্মেলন কক্ষে স্মরণসভা করবে বাংলাদেশ স্পোর্টস কমেন্টেটেরস ফোরাম। আব্দুল হামিদের পাশাপাশি সভায় এ অব্দি প্রয়াত আরও ৮ জন ক্রীড়া ধারাভাষ্যকারের স্মৃতিচারণ করবে ক্রীড়া ধারাভাষ্যকারদের সংগঠনটি।

খেলোয়াড় হিসেবে আব্দুল হামিদের ক্যারিয়ার শুরু হয়েছিলো ঢাকার প্রথম বিভাগ ফুটবল লিগে ইস্ট এন্ড ক্লাবের গোলরক্ষক হিসেবে। পরে ইস্পাহানী, ওয়ান্ডারার্স, আজাদ স্পোর্টিং ক্লাবের হয়ে নিয়মিত খেলেন। এছাড়া ১৯৫৫ সালে ওয়ান্ডারার্সের হয়ে কলকাতার আইএফএ শীল্ডে খেলেছেন। একই বছর তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক ভলিবলের দলের হয়েও খেলেন তিনি।

ক্রিকেটারও ছিলেন আব্দুল হামিদ। ক্রিকেটে জগন্নাথ কলেজের হয়ে নিয়মিত খেলেছেন। তবে ফুটবল-ক্রিকেটকে ছাড়িয়ে গেছেন ভলিবলে। ইস্ট এন্ড ক্লাবের হয়ে নিয়মিত ভলিবল খেলেছেন। জাতীয় পুরস্কার পেয়েছেন ভলিবল সংগঠক হিসেবে। বাংলা ধারাভাষ্যের কিংবদন্তি ছিলেন আব্দুল হামিদ। ১৯৭০ সালে ব্যাংককে এশিয়ান গেমসের হকির পাকিস্তান ও ভারতের ম্যাচে বাংলায় ধারাভাষ্য দিয়ে অনন্য নজির স্থাপন করেন তিনি।

খেলোয়াড়ী জীবন শেষ করে চাকরিতে যোন দেন। প্রথমে বাংলাদেশ ব্যাংকে শুরু করলেও ১৯৮৮ সালে আল বারাকা ব্যাংকে যোগ দেন এবং ব্যাংকের জনসংযোগ বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। চাকুরিতে যোগ দিলেও কখনো ক্রীড়াঙ্গন ছেড়ে যাননি। কখনো ধারাভাষ্যকার হিসেবে, কখনো ক্রীড়া সাংবাদিক হিসেবে এবং ক্রীড়া সংগঠক হিসেবে সবসময় নিজেকে জড়িয়ে রাখেন। দৈনিক জেহাদের মাধ্যমে ক্রীড়া সাংবাদিকতায় কর্মজীবন শুরু করেন তিনি।

১৯৬০ সালে দৈনিক আজাদে কাজ করার সুবাদে ক্রীড়া সাংবাদিক হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন আব্দুল হামিদ। তিনি আশি ও নব্বই দশকে দেশের শীর্ষ দৈনিক ইনকিলাবের ক্রীড়া সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। এরপর ২০০৩ সালে ক্রীড়া সম্পাদক হিসেবে দৈনিক আমাদের সময়ে যোগ দিয়ে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সেখানেই কর্মরত ছিলেন। বিটিভি ও চ্যানেল আইসহ বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে ক্রীড়া বিষয়ক অনুষ্ঠানে তার অনবদ্য উপস্থাপনা বেশ জনপ্রিয়তা পায়।

সূত্র: বাংলা নিউজ