রাজশাহীর খবর

আত্রাইয়ের অভিশাপ চলনবিল প্রকল্প, হতশায় হাজারো কৃষক

নিউজ ডেস্ক২ আগস্ট ২০১৬২ মিনিট পড়া

আত্রাই প্রতিনিধি :
নওগাঁর আত্রাইয়ের চলনবিল প্রকল্প বর্তমানে এখন আত্রাইবাসীর জন্য অভিশাপ হিসাবে দেখা দিয়েছে। প্রায় তিন যুগ আগে বহু ঢাক-ঢোল পিটিয়ে নওগাঁর আত্রাই উপজেলাসহ পার্শ্ববর্তী রাণীনগর, মান্দা ও নাটোরের সিংড়া উপজেলার প্রভৃতি এলাকায় বন্যা প্রতিরোধের লক্ষ্যে বিপুল অর্থ ব্যয়ে চলনবিল প্রকল্প বাস্তবায়ন কাজ শুরু হয়েছিল।

প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য বিস্তীর্ণ এলাকায় বাঁধ নির্মাণ, খাল খনন, সুইস গেট নির্মাণ প্রভৃতি কাজ করা হয়। এর সঙ্গে যোগ হয়েছিল সেচ প্রকল্প, রক্তদহ প্রকল্প এবং নাগর ভ্যালি প্রকল্প।

ঠিক সে সময় পরিকল্পিতভাবে বাঁধ নির্মাণ না করার কারণে এখন প্রতি বছর বন্যা মৌসুমে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বিভিন্ন স্থানে বাঁধ ভেঙ্গে এলাকার সমুদয় ফসল পানির নিচে তলিয়ে যায়। সেই সাথে এলাকার শত শত পরিবার পানিবন্দী হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করে।

এতে আত্রাই-রাণীনগর উপজেলার হাজার হাজার হেক্টর ফসলি জমি পানির নিচে তলিয়ে যায়। ফলে জমিতে বালি জমে ফসলি জমি হারাচ্ছে তার উর্বরতা শক্তি। তাই দিন দিন আত্রাই উপজেলার অসংখ্য কৃষকের জীবনে নেমে আসছে চরম অনিশ্চয়তা।

আত্রাই উপজেলা ও সন্নিহিত অঞ্চল চারদিকে উচ্চভূমি দ্বারা বেষ্টিত বিশাল পিরিধির তলাসদৃশ্য। প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে বরেন্দ্র এলাকাসহ বিস্তীর্ণ উচ্চভূমির পানি অসংখ্য খাল, বিল, নদী-নালা, আত্রাই ও তার উপনদী হয়ে এ অঞ্চলে এসে জমা হয়। আর সে পানি গুলো নিষ্কাশনের একমাত্র পথ উচুঁ রেল-সড়কের সরু কালভার্ট ও বাঁধবদ্ধ আত্রাই নদী, যা একটি বড় বোতলের সরু মুখের মতো। কয়েক“শ বর্গমাইল এলাকার পানি নিষ্কাশনের জন্য এই পথটি একেবারেই সংকীর্ণ।

সরেজমিনে বিভিন্ন এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের সাথে কথা বলে জানা যায়, স্মরণকালে ১৯২২ ও ১৯৩০ সালের বড় বন্যার পর কয়েকটি ছোট-খাটো বন্যা ছাড়া বাঁধ নির্মাণের পর পর্যন্ত বড় ধরণের ফসলহানি এবং ঘরবাড়ির ক্ষতি হয়নি। কিন্তু চলনবিল প্রকল্পের বাঁধ নির্মাণের পর প্রতি বছর কম পক্ষে ৪/৫ স্থানে এমন কি তারও অধিক স্থানে বাঁধ ভেঙে পানির তোড়ে ঘর-বাড়ির ক্ষতিসহ হাজার হাজার একর জমির ফসল তলিয়ে যাচ্ছে।

বাঁধ নির্মাণের আগে বন্যার পানি বাড়লে অল্প ক্ষতি ছাড়া ব্যাপক ক্ষতি হত না। এখন বাঁধের ভাঙন যেন বাৎসরিক ধারাবাহিক নিয়মে পরিণত হয়েছে। এদিকে বছরের ৮ থেকে ১০ মাস পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের জনগণ তাদের এলাকায় দেখতে পায় না। কিন্তু বর্ষা মৌসুমে কোথাও বাঁধ ভাঙার সঙ্গে সঙ্গে তাদের আনাগোনা বেড়ে যায়।

উপজেলা প্রকৌশলী মোবারক হোসেন বলেন, এই প্রকল্প অনেক দিন আগের। তাছাড়া অন্য স্থানে ভাঙলে আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি।

স/আ