
নিজস্ব প্রতিবেদক :
ফ্রিডম পার্টি ও বিএনপির সঙ্গে একসময়ে যোগসূত্র ছাড়াও নানা বিতর্কিত কর্মকান্ডের কারণে প্রায়ই গণমাধ্যমের শিরোনাম হন তানোর-গোদাগাড়ী আসনের সংসদ সদস্য ওমর ফারুক চৌধুরী। এ জন্য দলের নেতা-কর্মীদের বড় অংশই তাঁর পক্ষে নেই।

এদিকে আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী ভোটগ্রহণ আগামী ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে। তবে আচরণ বিধিমালার কোনো তোয়াক্কা না করে দর্লীয় মনোনয়ন সিদ্ধান্তের আগেই তিনি (ওমর ফারুক) এবার নিজেকে নৌকার প্রার্থী ঘোষণা করে নির্বাচনী সভা-সমাবেশ করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে।
এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার (১৬ নভেম্বর) তানোর উপজেলার কৃষ্ণপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে পাঁচন্দর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের আয়োজনে হলেও পাচন্দর ইউনিয়ন পরিষদের ব্যানারে বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় সভার আড়ালে নির্বাচনী সভা করেন তিনি। ওই সভায় পাঁচন্দর ইউনিয়নের সকল সরকারি বিভিন্ন ভাতাভোগী এবং প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের উপস্থিত থাকতে বাধ্য করার অভিযোগ উঠেছে। এমনকি পাচন্দর ইউনিয়ন এলাকার সকল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ৮ম ও ৯ম শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষা দশটায় হওয়ার কথা থাকলেও আজ সকাল আটটা থেকে বেলা ১১টার মধ্যে শেষ করে ওই সমাবেশে স্কুল ড্রেস পরে উপস্থিত করা হয়েছিল শিক্ষার্থীদের।
এমনকি এদিন বিকেলে উপজেলার কলমা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের আয়োজনে হলেও কলমা ইউনিয়ন পরিষদের ব্যানারে দরগাডাঙ্গা স্কুল এন্ড কলেজ মাঠেও একই ধরনের আরেকটি সভাতেও প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, এমপি ওমর ফারুক চৌধুরী। এসব সভাতে তিনি নিজেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ঘোষণা করে উপস্থিত সকলের কাছে ভোট চান এবং এলাকার উন্নয়নে নানান প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন তিনি।
এসব সভায় অন্যন্যের মধ্যে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মাইনুল ইসলাম স্বপন, সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ প্রদীপ সরকার, উপজেলা যুবলীগ সভাপতি ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান লুৎফর হায়দার রশিদ ময়না সহ এমপি ওমর ফারুক অনুসারী নেতাকর্মী ও জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
এব্যাপারে উপজেলার কৃষ্ণপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শরিফুল ইসলামের সাথে কথা বলতে তার মোবাইল যোগাযোগ করা হলে ফোন বন্ধ থাকায় তার মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
বিষয়টি নিয়ে একসঙ্গে ইউনিয়নের সকল প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধের বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মুনিরা খাতুনের সাথে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি রিসিভ না করায় মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
রাজশাহী জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার নাসির উদ্দীন বলেন, প্রাথমিব বিদ্যালয় আমার অধিনে নেই। যার কারণে তানোরে কি ঘটেছে সেটা জানি না।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মাইনুল ইসলাম স্বপন বলেন, বিদ্যালয় বন্ধ করে সভা করার বিষয়টি সঠিক না। তিনি এখনো এমপি রয়েছেন। চাইলে তিনি সভা সেমিনার করতে পারেন। এতে আচারণ বিধি লঙ্ঘনের কোনো বিষয় আমরা দেখিনা।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও দ্বাদশ জাতীয় সংসদ আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী গোলাম রাব্বানী বলেন, এমপি ফারুক চৌধুরি নিজের ক্ষমতা বলে কোনো কিছুই মানেন না। শুধু আজ নয়, একের অধিকবার তিনি স্কুল কলেজ বন্ধ করে শিক্ষার্থী অভিভাবকদের জিম্মি করে সভা সেমিনার করেছেন। এমন কি ভাতা ভোগিদের জোর করে সভা সেমিনারে উপস্থিত করার রেকর্ড তার রয়েছে। এমপির এসব কাজের জন্য তানোরে সাধারণ মানুষ আওয়ামী লীগকে গালমন্দ করেন। যা একটা দলের জন্য এটি শুভ নয়।
রাজশাহী সিনিয়র জেলা নির্বাচন অফিসার শাহিনুর ইসলাম প্রামানিক বলেন, এমপি ফারুক চৌধুরিকে সভা সেমিনার করতে নিষেধ করা হয়েছিল। তারপরও তিনি করেছেন। বিষয়টি নিয়ে কেউ অভিযোগ দিলে আমাদের যতটুকু করণীয় আমরা করবো।
এব্যাপারে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজশাহীর রিটানিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক শামীম আহমেদ ফোন রিসিভ না করায় মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
এব্যাপারে তানোর-গোদাগাড়ী আসনের সাংসদ ওমর ফারুক চৌধুরীর সাথে মোবাইল ফোন যোগাযোগ করা হলে ফোন রিসিভ না করায় মন্তব্য পাওয়া যায়নি।








