ধর্ম

আকার-বর্ণ ও স্বভাবে মানুষের ভিন্নতার কারণ

নিউজ ডেস্ক১৭ আগস্ট ২০২৫৩ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক :

কোরআনুল কারিমের অনুবাদ ও সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা

সুরা আনআম, আয়াত : ২

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ

পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

هُوَ الَّذِیۡ خَلَقَكُمۡ مِّنۡ طِیۡنٍ ثُمَّ قَضٰۤی اَجَلًا ؕ وَ اَجَلٌ مُّسَمًّی عِنۡدَهٗ ثُمَّ اَنۡتُمۡ تَمۡتَرُوۡنَ ﴿۲﴾

সরল অনুবাদ

(২) তিনিই তোমাদেরকে কাদামাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন, তারপর একটা সময় নির্দিষ্ট করেছেন এবং আর একটি নির্ধারিত সময় আছে যা তিনিই জানেন, এর পরও তোমরা সন্দেহ কর।

সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা

সুরাটির প্রথম আয়াতে সমগ্র বিশ্বের বৃহত্তম বস্তুগুলোকে আল্লাহ্ তায়ালার সৃষ্ট ও মুখাপেক্ষী বলে মানুষকে নির্ভুল একত্ববাদের শিক্ষা দেওয়া হয়েছে। অতঃপর দ্বিতীয় আয়াতে মানুষকে বলা হচ্ছে যে, “আল্লাহই সে সত্তা যিনি তোমাদেরকে মাটি থেকে সৃজন করেছেন।” আল্লাহ্ তায়ালা আদম আ.-কে একটি বিশেষ পরিমাণ মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন।

যেই মাটিতে সমগ্র পৃথিবীর অংশ অন্তর্ভুক্ত ছিল। এ কারণেই আদম-সন্তানরা বর্ণ, আকার, চরিত্র ও অভ্যাসে বিভিন্ন। কেউ কৃষ্ণবর্ণ, কেউ শ্বেতবর্ণ, কেউ লালবর্ণ, কেউ কঠোর, কেউ নম্র, কেউ পবিত্র-স্বভাব বিশিষ্ট এবং কেউ অপবিত্র স্বভাবের হয়ে থাকে। (ইবনে কাসির) অর্থাৎ যে ব্যক্তি মাটির যেই অংশ থেকে সৃজিত হয়েছে সে মাটির যে বর্ণ, বৈশিষ্ট ও ধরন ছিল ব্যক্তিও সে দ্বারা প্রভাবিত।

হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ তায়ালা আদমকে এমন এক মুষ্টি মাটি থেকে তৈরি করেছেন যে মুষ্টি সমস্ত মাটি থেকে নেয়া হয়েছে। তাই আদম সন্তান মাটির মতোই হয়েছে। তাদের মধ্যে লাল, সাদা, কালো, আবার এর মাঝামাঝি রয়েছে। তাদের মধ্যে কেউ নম্র, কেউ চিন্তাগ্রস্ত, কেউ মন্দ, কেউ ভাল, কেউ এর মাঝামাঝি পর্যায়ের রয়েছে।

(আবু দাউদ, হাদিস: ৪৬৯৩)
আয়াতে আদম সন্তানদের সৃষ্টির সূচনা বর্ণনা করার পর এর পরিণতির দুটি মঞ্জিল উল্লেখ করা হয়েছে।

যার প্রথমটি মানুষের ব্যক্তিগত পরিণতি; যাকে মৃত্যু বলা হয়। আয়াতে (ثُمَّ قَضَىٰ أَجَلًا) অর্থাৎ (মানব সৃষ্টির পর) “তারপর একটা সময় নির্দিষ্ট করেছেন” বলে এই প্রথম পরিণতির কথাই বুঝানো হয়েছে। যেখানেমহান আল্লাহ মানুষের আয়ুস্কালের জন্য একটি মেয়াদ নির্ধারণ করে দিয়েছেন। এ মেয়াদের শেষ প্রান্তে পৌছার নাম মৃত্যু।

এ মেয়াদ মানুষের জানা না থাকলেও এর প্রকৃতি বা ধরণ মানুষ জানে। কেননা, সে সর্বদা আশ-পাশের মানুষ মারা যেতে দেখে।
দ্বিতীয় পরিণতি হচ্ছে সমগ্র মানবগোষ্ঠী ও তার উপকারে নিয়োজিত সৃষ্টিজগত- সবার সামষ্টিক পরিণতি। যাকে কেয়ামত বলা হয়। যা আয়াতে (اَجَلٌ مُّسَمًّی), “আরো একটি মেয়াদ নির্দিষ্ট আছে” বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এই কিয়ামতের সময়কাল একমাত্র আল্লাহই জানেন। এ মেয়াদের পূর্ণ জ্ঞান ফিরিশতা বা মানুষ কারোও নেই।

মোটকথা, মানুষকে শৈথিল থেকে জাগ্রত করার জন্য বলা হয়েছে যে, প্রত্যেক মানুষের একটি বিশেষ আয়ুষ্কাল রয়েছে, যার পর তার মৃত্যু অবধারিত। প্রতিটি মানুষ এ বিষয়টি সর্বক্ষণ নিজের আশ-পাশে প্রত্যক্ষ করে। এটা যেহেতু সত্য, সেহেতু এরপরও আরেকটি সময় তাদের জন্য নির্ধারিত রয়েছে। যার ঘোষণা আল্লাহ নিজেই দিয়েছেন। সুতরাং এ ব্যাপারে সন্দেহ থাকতে পারে না। (তাফসিরে ইবন কাসির, সা’দী, আল-মুনীর, ফাতহুল কাদির, আত-তাহরির ওয়াত তানওয়ীর)

এ কারণে আয়াতের শেষভাগে কিয়ামতের উপযুক্ততা প্রকাশার্থে বলা হয়েছে (ثُمَّ أَنْتُمْ تَمْتَرُونَ) অর্থাৎ এহেন সুস্পষ্ট যুক্তি-প্রমাণ সত্বেও তোমরা কেয়ামত সম্পর্কে সন্দেহ পোষণ কর! এটা অনুচিত।