রাজশাহী

আইনের আশ্রয় নিতে চান রাওধার বাবা

নিউজ ডেস্ক৬ এপ্রিল ২০১৭৩ মিনিট পড়া
নিজস্ব প্রতিবেদক:
মেয়ের মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য জানতে আইনের আশ্রয় নিয়ে মামলা করতে চান মালদ্বীপ মডেল রাওধা আতিফের বাবা মোহাম্মদ আতিফ। আজ  বৃহস্পতিবার দুপুরে কলেজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে বের হওয়ার সময় স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে তিনি তার এই ইচ্ছের কথা জানান।
এর আগে বেলা সাড়ে ১২টার দিকে  মালদ্বীপের দুই পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে রাজশাহীর ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজে যান রাওদার বাবা। দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত ক্যাম্পাসে অবস্থান করেন। সেখানে তারা কলেজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেন। পরে বের হওয়ার সময় গণমাধ্যম কর্মীদের প্রশ্নের উত্তর দেন।
তবে এ সময় কেবল রাওদার বাবা কথা বলেন। তদন্তকারী মালদ্বীপ পুলিশ কর্মকর্তারা কথা বলতে চাননি এবং ছবিও তুলতে দেননি।
রাওদার বাবা ডা. মোহাম্মদ আতিফ বলেন, রাজশাহী এসে মেয়ের মরদেহ দেখার পর থেকেই তিনি মানতে পারছেন না রাওধা আত্মহত্যা করেছেন। তার মন কিছুতেই মেনে নিতে চাচ্ছেনা তার মেয়ে আত্মহত্যা করতে পারে। তাই আগেও বলেছেন এখনও বলছেন এ মৃত্যুর পেছনে রহস্য আছে।
তিনি বলেন, রাত ১১টার দিকে তার সঙ্গে কথা হয়েছে। সে স্বাভাবিক ছিলেন। কিন্তু সকালে তার লাশ পাওয়া গেল।
আতিফ বলেন, ধাক্কা দিলেই রাউধার রুমের দরজা খুলে যায়। কিন্তু তাদেরকে বলা হয়েছে দরজা ভেঙ্গে রাওধার লাশ উদ্ধার করা হয়। এছাড়াও পুলিশ পৌঁছার আগেই কর্তৃপক্ষ লাশ নামায় বলে তারা জানায়। কিন্তু সিলিং ফ্যানের সঙ্গে একজন মানুষ ঝুলে থাকার কোন আলমত দেখা যায়নি। আদও রাওধা ফ্যানের সঙ্গে ঝুলে ছিল কিনা এ নিয়েও সন্দেহ রয়েছে বলেন আতিফ।
তাই ময়নাদন্তের রিপোর্ট চ্যালেঞ্জ করে মেয়ের মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য জানতে মামলা করতে চান তিনি। এজন্য সিদ্ধান্তও প্রায় নিয়ে ফেলেছেন। প্রস্তুতি শেষে রাজশাহীতেই মামলা করবেন ডা. আতিফ।
এক প্রশ্নের জবাবে ডা. আতিফ বলেন, বাবা হিসেবে নয় চিকিৎসক হিসেবে তিনি তার মেয়ের মরদেহ দেখেছেন। আর তিনিও ফরেনসিক মেডিসিন পড়েছেন। রাওদার মরদেহ দেখে তার মনে হয়নি যে, সে আত্মহত্যা করেছে। এছাড়া রাজশাহীতে আসার পর ক্যাম্পাসে গিয়ে নিজের মতো করে খোঁজ-খবর নিয়েছেন। সেখান থেকে মনে এমন অনেক প্রশ্ন জেগেছে যার উত্তর পাওয়া জরুরী হয়ে পড়েছে।
জানতে চাইলে রাজশাহী মহানগর পুলিশের মুখপাত্র সিনিয়র সহকারী কমিশনার (সদর) ইফতে খায়ের আলম বলেন, তারা এই বিষয়টি জানেন না। রাওদার বাবা যদি এমন কিছু বলে থাকেন তাহলে বলতেই পারেন।তার সেই অধিকার আছে। তবে মামলার করতে চাওয়ার কথা তারা জানেন না।
এর আগে প্রখ্যাত ‘ভোগ” ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদকন্যা মডেল ও মেডিকেল কলেজ ছাত্রী রাওদা আতিফের মরদেহের ময়নাতদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক মনসুর রহমানকে প্রধান করে তিন সদস্যের টিম গঠন করা হয়।
রওদার মরদেহ ময়নাতদন্তে ওই টিমের অন্য সদস্যদের মধ্যে ছিলেন, রামেক হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান সহকারী অধ্যাপক এনামুল হক ও সাবেক অধ্যাপক এমদাদুর রহমান।
ময়নাতদন্ত শেষে গত পয়লা এপ্রিল দুপুর সোয়া ২টার দিকে রাজশাহীর হেতমখাঁ গোরস্থানে মালদ্বীপের মেয়ে রাওদা আতিফের মরদেহ দাফন করা হয়। এ সময় পরিবারের সদস্য সেখানে উপস্থিত ছিলেন।ময়নাতদন্তের আগে তার বাবা-মা হাসপাতালের হিমঘরে গিয়ে রওদার মরদেহ দেখেন।

গত ২৯ মার্চ ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজ ছাত্রী হোস্টেলের ২০৯ নম্বর কক্ষে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় রাওদার ঝুলন্ত মরদেহ পাওয়া যায়। এই মেডিকেল কলেজের এমবিবিএস ১৩তম ব্যাচের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী ছিলেন রাওদা। বিদেশি কোটায় ভর্তির পর গত বছরের ১৪ জানুয়ারি মহিলা হোস্টেলের দ্বিতীয় তলার ওই কক্ষে উঠেছিলেন রাওদা। ওই ব্লকে আরও ছয়জন বিদেশি শিক্ষার্থী থাকেন।

স/অ