সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট ক্রিকেটে ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশ। ডারউইনের মারারা ক্রিকেট গ্রাউন্ডে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটে হারিয়ে প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট জয়ের স্বাদ পেয়েছে টাইগাররা।
জয়ের জন্য বাংলাদেশের সামনে লক্ষ্য ছিল মাত্র ৫৭ রান। চতুর্থ দিনের শুরুতেই অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ইনিংস ২৮৪ রানে গুটিয়ে যায়। এতে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের ৪২৬ রানের জবাবে অস্ট্রেলিয়ার লিড দাঁড়ায় মাত্র ৫৬ রানে। দ্বিতীয় ইনিংসে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে লড়াই করেন ক্যামেরন গ্রিন। তিনি ১০৪ রানের সেঞ্চুরি করেন। তবে বাংলাদেশের বোলারদের নিয়ন্ত্রিত আক্রমণে শেষ পর্যন্ত বড় লক্ষ্য দিতে পারেনি স্বাগতিকরা।

বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণে সবচেয়ে উজ্জ্বল ছিলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। দ্বিতীয় ইনিংসে তিনি তুলে নেন ৫ উইকেট। হাসান মাহমুদও গুরুত্বপূর্ণ সময়ে উইকেট তুলে নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিংয়ে চাপ ধরে রাখেন।
এর আগে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের হয়ে দুর্দান্ত ব্যাটিং করেন তানজিদ হাসান। ১৯৭ বলে ১০১ রান করে তিনি অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট সেঞ্চুরি করা প্রথম বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানের কীর্তি গড়েন। মুমিনুল হক করেন ৪৯ এবং অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত করেন ৮৪ রান। তাঁদের ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে ৪২৬ রানের বড় সংগ্রহ গড়ে।
ম্যাচের শুরু থেকেই অবশ্য বাংলাদেশের আধিপত্য ছিল। প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়াকে মাত্র ১৯৮ রানে অলআউট করে দেয় বাংলাদেশ। পেসার হাসান মাহমুদ ক্যারিয়ারসেরা বোলিং করে ৬ উইকেট নেন। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে স্টিভ স্মিথ ৭১ রান করলেও বাকিরা খুব একটা প্রতিরোধ গড়তে পারেননি।
এরপর ব্যাট হাতে বাংলাদেশ ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয়। তানজিদের সেঞ্চুরি ও শান্ত-মুমিনুলদের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংসে প্রথম ইনিংসে ২২৮ রানের লিড পায় বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ইনিংসে অস্ট্রেলিয়া কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের বোলিংয়ের সামনে ২৮৪ রানে থেমে যায়।
শেষ পর্যন্ত ৫৭ রানের সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশ এক উইকেট হারিয়েই জয় নিশ্চিত করে। এই জয়ের মধ্য দিয়ে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট জয়ই শুধু নয়, বিদেশের মাটিতে টাইগারদের অন্যতম বড় সাফল্যও এটি।
চার দিনের এই টেস্টে ব্যাটিং, বোলিং ও ফিল্ডিং—তিন বিভাগেই দারুণ সমন্বিত ক্রিকেট খেলেছে বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়ার মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে তাদেরই মাটিতে এমন জয় বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে নতুন অধ্যায় হয়ে থাকল।









