সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক :
আমার নাম আনোয়ার হুসাইন। আমরা তিন ভাই, দুই বোন। বাবা আমাদের জন্য বিপুল পরিমাণ স্থাবর সম্পদ রেখে গেছেন। ব্যক্তিগতভাবে আমি অবিবাহিত।
আমার স্ত্রী-সন্তান নেই। আমার ছোট ভাইয়ের পরিবার আমার সেবা-যত্ন করে। ছোট ভাইটি আর্থিকভাবে অন্য ভাই-বোনের তুলনায় দুর্বলও বটে। আমি আমার সব সম্পদ ছোট ভাইকে লিখে দিয়ে যেতে চাই।

এ বিষয়ে শরিয়তের নির্দেশনা কী?
প্রাজ্ঞ আলেমরা বলেন, অন্য ওয়ারিশদের বঞ্চিত করার জন্য কোনো একজন ওয়ারিশকে সব সম্পদ লিখে দেওয়া গুনাহের কাজ এবং এটা ইনসাফের পরিপন্থী। হাদিসে এমনটি করতে নিষেধ করা হয়েছে। তবে কাউকে লিখে দিলে যাকে লিখে দেওয়া হবে তার জন্য এটা বৈধ সম্পদ বলেই বিবেচিত হবে।
হ্যাঁ, যদি একজনকে সব সম্পদ লিখে দেওয়া না হয়, বরং সম্পদের একাংশ লিখে দেওয়া হয়, ফলে অন্য ওয়ারিশরা কিছু হলেও সম্পদ লাভ করার সম্ভাবনা থাকে, তবে শরিয়তের দৃষ্টিতে কোনো সমস্যা নেই।
আনাস বিন মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি তার ওয়ারিশের উত্তরাধিকার কর্তন করল, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তার জান্নাতের উত্তরাধিকার কর্তন করবেন।’
(সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস : ২৭০৩)
আল্লামা তিবি (রহ.) বলেন, হাদিসে কিয়ামত দিবস ও জান্নাতের উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত করার কথা বলা হয়েছে অধিক ক্ষতি ও লোকসান বোঝাতে। উভয় বঞ্চনার ভেতরে মিল হলো—ওয়ারিশ যেমন সম্পদ লাভের অপেক্ষায় থাকে এবং শেষ পর্যন্ত ব্যক্তি তাকে বঞ্চিত করে, মানুষও জান্নাত লাভ ও তা লাভের মাধ্যমে সাফল্য অর্জনের অপেক্ষায় থাকবে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত আল্লাহ তাকে বঞ্চিত করবেন। (মিরকাতুল মাফাতিহ : ৫/২০৪০)
আল্লাহ সর্ববিষয়ে সবচেয়ে ভালো জানেন।









