নওগাঁ

অপরুপ সৌন্দর্যের হাতছানি নওগাঁর হাঁসাইগাড়ী বিলে

নিউজ ডেস্ক৮ আগস্ট ২০২০৩ মিনিট পড়া
নিজস্ব প্রতিবেদক:
১৭ মার্চ থেকে দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এর সাথে প্রায় সকল বিনোদনকেন্দ্র গুলোও এখনো বন্ধ আছে;
বৈশ্বিক এই মহামারিতে যখন সবকিছু থমকে দাঁড়িয়েছিলো ঠিক তারই মাঝে এসেছিলো মুসলিম জাতির ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর, করোনা আতঙ্কের মধ্য দিয়ে সার বিশ্বের মুসলিম জাতি, আমাদের বাঙ্গালি জাতি পার করে এই উৎসব;
তার কিছুদিন পর এশিয়া কয়েকটি দেশের সাথে আমাদের বাংলাদেশেও আঘাত হাতে ভয়াবহ বন্যা, তলিয়ে যায় দেশের কয়েকটি জেলা, অসহায় হয়ে পড়ে সে অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রা;
ঠিক এই মুহুর্তে ত্যাগের মহিমায় আসে মুসলিম জাতির আরেক বৃহত্তম উৎসব “পবিত্র ঈদুল আযহা”..
যদিও এখনো করোনা আতঙ্ক কাটেনি কিন্ত আমাদের এ দেশের মানুষজন দের আর আগের মত স্বাস্থ্যবিধি মানতে দেখা যাচ্ছেনা; ঈদের ঘুরাঘুরি তে কখনো কখনো মাস্ক না পড়ায়, স্বাস্থ্যবিধি না মানায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃক কয়েকজনকে জরিমানা করতে দেখা গেছে কিন্ত বিনোদন পিপাসু মানুষ এসব কোন ভীতিই মানছেনা;
এমনি একটা এলাকার কথা তুলে ধরবো আজ;
রাজশাহী বিভাগের অন্তর্গত বৃহত্তম নওগাঁ জেলার সদর থানার ৮নং হাঁসাইগাড়ি ইউনিয়ন, এই ইউনিয়নে রয়েছে বিশাল এক দীর্ঘকায় ঐতিহ্যবাহী বিল “গুটার বিল” আর এই বিলের মাঝ দিয়ে তৎকালীন সাংসদ সদস্য সাবেক বাণিজ্য মন্ত্রী, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ এর সম্মানিত সাধারণ সম্পাদক মরহুম জননেতা আব্দুল জলিল এর তত্ত্বাবধানে নির্মিত স্বপ্নের মত এই গভীর বিলের মাঝখানে কাটখইর-নওগাঁ মেইনরোড,
বিলের পাশে থাকা গ্রামের নামানুসারে বর্তমানে এই বিলের নাম হয় “হাসাইগাড়ি বিল”
গুগল লোকেশন বা ফেসবুক চেক ইন এ সুনামজনক জায়গা করে নিয়েছি এই স্থান;
শীত (ইরি) মৌসুমে এই বিলে ফলে সোনালি ধান আর বর্ষা মৌসুমে এই বিল থাকে নওগাঁ জেলার প্রধান বিনোদন কেন্দ্র তে;
শুধু ঈদেই নয়, মুক্ত বাতাস এর খোঁজে, প্রকৃতির সাথে সাড়া দিতে প্রতিদিন ই আসে বিনোদন পিপাসু হাজারো মানুষ,
প্রতি ঈদের দুই/তিন সপ্তাহ ধরে প্রতিদিন স্থানীয় আশেপাশের এলাকা আর নওগাঁ পৌরসভার পাশাপাশি বিভিন্ন জেলা থেকে প্রায় দশ হাজারের কত মানুষ আসা যাওয়া করে এই বিল; ছোট-বড় সব ধরনের নৌকা দেখা যায় এই বিলে, ঘন্টা বা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য পরিবার নিয়ে ঘুরা যায় বিশাল এই বিলে, প্রতিবছর চলে বাঙ্গালীর ঐতিহ্যবাহী “নৌকাবাইচ” প্রতিযোগিতা;
শুধু বিনোদন ই নয়, এই রোড দিয়ে বিভিন্ন নিত্যপণ্য পরিবহন এর পাশাপাশি সাথে নওগাঁর সাথে সহজ যোগাযোগ এই এলাকাসহ পাশের বিভিন্ন এলাকার মানুষের জীবনযাত্রা সহজ করে দিচ্ছে;
কিন্ত দুঃখের বিষয় রাস্তাটি পর্যাপ্ত প্রশস্ত না হওয়ায় ঈদের সময় ১/২ ঘন্টা জ্যামে পড়তে হয় এই রোডে, আর দুই পাশ যথাযথভাবে বাধাই না করায় ও বন্যার পানি আসার আগে বা আগে থেকে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন আগে থেকেই যথোপযুক্ত পদক্ষেপ নেয়ার অভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে বসেছে এই রোড,
এবারের শুরু হয়েছে ভাঙ্গন, গত ৬ আগস্ট নওগাঁ -৫ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য বারিস্টার নিজাম উদ্দীন জলিল জন উক্ত রোড টি পরিদর্শন করেন এবং সাময়িক ভাবে মানুষের যাতায়াত, সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ রাখার পরামর্শ দেন।
ট্যাগ: