সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:
লেখাপড়ার জন্য শুধু স্কুল কলেজেই যেতে হবে তা নয়। অনলাইন কোর্সের মাধ্যমেও এখন বিভিন্ন বিষয়ে বিশেষায়িত কোর্স করা যায় এবং সার্টিফিকেট নেওয়া যায়।
যারা চাকরিতে পদোন্নতি পেতে চান বা কোনো কিছু শিখে নিজের দক্ষতা বাড়াতে চান তারা অনলাইন কোর্সে রেজিস্টার করে বিশ্বের নামী দামি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ক্লাস করতে পারেন।

অনলাইন লার্নিং প্ল্যাটফর্মের শীর্ষে থাকা কয়েকটি ওয়েবসাইটের বিস্তারিত নিয়েই সাজানো হলো এবারের ফিচার।
কোর্সেরা
শীর্ষস্থানীয় অনলাইন লার্নিং প্ল্যাটফর্মের মধ্যে একটি হলো কোর্সেরা। ইঞ্জিনিয়ারিং, হিউম্যানিটিজ, মেডিসিন, বায়োলজি, সোশ্যাল সায়েন্স, ম্যাথমেটিক্স, বিজনেস, কম্পিউটার সায়েন্স, ডিজিটাল মার্কেটিং, ডেটা সায়েন্সসহ ৩৬শ’ বিষয়ে তারা কোর্স পরিচালনা করে থাকে। গত বছরের হিসাবে তাদের রেজিস্টার্ড ব্যবহারকারীর সংখ্যা ছিলো ৩ কোটি ৩০ লাখ।
২০১২ সালে কোর্সেরা প্রতিষ্ঠা করেন স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার সায়েন্সের অধ্যাপক অ্যান্ড্রু এনজি ও ড্যাফেন কোলার। ২০১১ সালে স্ট্যানফোর্ডে একটি কোর্স অনলাইনে পরিচালনার পর তারা কোর্সেরা প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নেন। কোর্সেরা প্রতিষ্ঠার পর তারা স্ট্যানফোর্ডের চাকরি ছেড়ে দেন। কোর্সেরাতে প্রিন্সটন, স্ট্যানফোর্ড, দ্য ইউনিভার্সিটি অব মিশিগান ও ইউনিভার্সিটি অব পেনসিলভিনিয়ার তৈরি কন্টেন্টও পাওয়া যায়।
ওয়েবসাইটটিতে বেশিভাগ কোর্সই ফ্রিতে করা যায়। তবে সার্টিফিকেট নিতে হলে টাকা খরচ করতে হয়।
এডএক্স
বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের কোর্স পরিচালনা করে এডএক্স। ২০১২ সালে এডএক্স প্রতিষ্ঠা করে ম্যাসাচুসেটস ইন্সটিটিউট অব টেকনোলজি ও হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি। ১৪০টিরও বেশি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ওয়েবসাইটটিতে কোর্স পরিচালনা করে থাকে। ২০১৮ সালের হিসাব অনুযায়ী, এডএক্সের রেজিস্টার্ড শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১কোটি ৮০ লাখ।
প্রত্যেক সপ্তাহে শিক্ষার্থীদেরকে রিডিং ম্যাটেলিয়াল দেওয়া হয়। এসব রিডিং ম্যাটেরিয়ালে থাকে টিউটোরিয়াল ভিডিও ও অনলাইন টেক্সটবুক। এছাড়াও, শিক্ষার্থীরা যাতে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করতে পারেন, প্রশ্ন করতে পারেন সেজন্য থাকে ডিসকাশন ফোরাম। রিডিং ম্যাটেরিয়াল আত্মস্থ করে এবং ডিসকাশন ফোরামে বিভিন্ন বিষয়ে অন্যের সাহায্য নিয়ে দেওয়া যায় পরীক্ষা। পাশ করলে পাওয়া যায় সার্টিফিকেট।
স্কিলশেয়ার
গ্রাফিক্স ডিজাইন, ক্রিয়েটিভ রাইটিং, ফটোগ্রাফি ও ইলাস্ট্রেটরসহ বেশ কিছু বিষয়ে জানতে ওয়েবসাইটটিতে কোর্স করা যায়। এখানকার লেকচারগুলো বেশ ইন্টার্যাক্টিভ। অর্থাৎ সব কিছুই এখানে শেখানো হয় হাতে কলমে। বিশেষজ্ঞরা নির্দিষ্ট একটি বিষয়ের আদ্যোপান্ত নিয়ে কথা বলেন। নির্দিষ্ট বিষয় সম্পর্কিত একটি প্রজেক্ট নিজে করে দেখাতে পারলেই শেষ হয় কোর্স।
স্কিলশেয়ার প্রতিষ্ঠিত হয় ২০১০ সালে। বর্তমানে এতে ২৭ হাজার প্রিমিয়াম ক্লাস ও ২ হাজার ফ্রি ক্লাস অফার করছে তারা। প্রিমিয়াম ক্লাস করতে চাইলে প্রতি মাসে সাবস্ক্রিপশন ফি হিসেবে দিতে হবে প্রায় ১০ ডলার।
ইউডেমি
কিভাবে অগমেন্টেড রিয়েলিটি সফটওয়্যার ব্যবহার করতে হবে বা কিভাবে এআর অ্যানিমেশন তৈরি করা হয় এসব বিষয়ে শিখতে চাইলে ঢুঁ মারা যেতে পারে ইউডেমির ওয়েবসাইটটিতে। এখানে টুডি ও থ্রিডি গেইম তৈরির বিষয়ও নির্দেশনা মেলে। প্রতিটি কোর্সে রেজিস্টার করতে খরচ হবে প্রায় ১০ ডলার।
টেকেবল
কোনো বিশেষ বিষয়ে দক্ষতা থাকলে যে কেউ এখানে কোর্স তৈরি করে তা আপলোড করতে পারেন। কিভাবে কোর্স তৈরি করতে হবে তা ওয়েবসাইটটি থেকেই জানা যাবে। কোর্স তৈরি করার পাশাপাশি এখানে কোর্স করারও সুযোগ আছে। বেসিক কোর্স করতে বছরে খরচ হবে ৩০০ ডলার। প্রিমিয়াম কোর্সে খরচ হবে ৭৪৯ ডলার।
ইউএন সিসি-লার্ন
জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে ইউএন ক্লাইমেট চেঞ্জ-ইলার্ন নামে একটি ওয়েবসাইট আছে জাতিসংঘের। এখানকার প্রতিটি কোর্সই ফ্রিতে করা যায়। বর্তমানে ওয়েবসাইটটির রেজিস্টারর্ড ব্যবহারকারীর সংখ্যা ২ লাখ ২৩ হাজার।









