লাইফ স্টাইল

৫৩ বছরেও ফিট মালাইকা, সুস্থ থাকতে মানেন যেসব নিয়ম

নিউজ ডেস্ক২৪ অক্টোবর ২০২৬৩ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:

বলিউড অভিনেত্রী মালাইকা অরোরা ৫৩ বছরে পা দিয়েছেন। নাচের পারফরম্যান্স, শরীরচর্চা ও ফিটনেসের প্রতি সচেতনতার জন্য পরিচিত এই অভিনেত্রী দীর্ঘদিন ধরেই নিজের সুস্থতা ধরে রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়ে আসছেন।

নিয়মিত যোগব্যায়াম, শক্তি বাড়ানোর ব্যায়াম, পরিমিত খাবার ও পর্যাপ্ত ঘুম—এসব অভ্যাসই তার জীবনযাপনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মালাইকা বিভিন্ন সাক্ষাৎকার ও সামাজিকযোগাযোগমাধ্যমে নিজের খাদ্যাভ্যাস ও শরীরচর্চার রুটিনের নানা দিক তুলে ধরেছেন। চরম ডায়েটের বদলে ঘরে তৈরি খাবার, খাবারের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ এবং নিয়মিত শরীরচর্চার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

যোগব্যায়ামে বিশেষ গুরুত্ব

মালাইকার ফিটনেস রুটিনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ যোগব্যায়াম।

দীর্ঘদিন ধরে তিনি যোগচর্চা করে আসছেন। তার রুটিনে সূর্য নমস্কার, অষ্টাঙ্গ বিন্যাস যোগ ও ধ্যানের মতো অনুশীলন রয়েছে।
নিয়মিত যোগব্যায়াম শরীরের নমনীয়তা, ভারসাম্য ও শক্তি বাড়াতে সহায়তা করতে পারে। পাশাপাশি শ্বাস-প্রশ্বাস নিয়ন্ত্রণ এবং মানসিক চাপ কমাতেও এটি ভূমিকা রাখে।

পেশি শক্তিশালী করতে শরীরচর্চা

শুধু যোগব্যায়াম নয়, মালাইকার শরীরচর্চার তালিকায় রয়েছে শক্তি বাড়ানোর বিভিন্ন ব্যায়ামও। তার শরীরচর্চার ভিডিওতে ডাম্বেল দিয়ে ব্যায়াম, লাঞ্জেস, মাউন্টেন ক্লাইম্বারস ও পেটের পেশি শক্তিশালী করার বিভিন্ন অনুশীলন দেখা গেছে। এ ছাড়া তিনি পিলাটিসও করেন।

নিয়মিত শক্তিবর্ধক ব্যায়াম পেশি ধরে রাখতে, হাড়ের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে এবং দৈনন্দিন কাজ সহজে করতে সহায়তা করে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পেশির শক্তি ও ভর ধরে রাখা আরো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

ঘরে তৈরি সাধারণ খাবার

মালাইকা সাধারণ ও ঘরে তৈরি খাবার খেতে পছন্দ করেন। তার খাদ্যাভ্যাসে ঐতিহ্যবাহী ভারতীয় খাবার এবং খাবারের পরিমাণের দিকে নজর দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব পায়। ঘি খাওয়ার প্রতিও তার আগ্রহের কথা বিভিন্ন আলোচনায় উঠে এসেছে।

 

সুস্থ থাকতে সব সময় দামি খাবার কিংবা জটিল খাদ্যতালিকার প্রয়োজন নেই। ডাল, রুটি, ভাত, শাকসবজি, দই, ফল ও প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার দিয়ে সুষম খাদ্যতালিকা তৈরি করা সম্ভব।

খাবারের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ

মালাইকা খাবার খাওয়ার ক্ষেত্রে পরিমাণ নিয়ন্ত্রণের ওপর গুরুত্ব দেন। এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনি বড় প্লেটের পরিবর্তে ছোট বাটি বা পাত্রে খাবার খাওয়ার অভ্যাসের কথা বলেছেন।

এভাবে খাবারের পরিমাণ সম্পর্কে সচেতন থাকা সম্ভব। তবে পরিমিত খাওয়ার অর্থ প্রয়োজনের তুলনায় কম খাওয়া নয়। শরীরের চাহিদা ও ক্ষুধার সংকেত বুঝে খাবার গ্রহণ করাও জরুরি।

নির্দিষ্ট সময়ে খাওয়ার অভ্যাস

মালাইকা জানিয়েছেন, সাধারণত দুপুর ১২টার দিকে তার প্রথম বড় খাবার খাওয়া হয় এবং সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে খাওয়া শেষ করেন। এই অভ্যাস নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে খাবার গ্রহণের পদ্ধতি, যা ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং নামে পরিচিত।

 

তবে এ ধরনের খাদ্যাভ্যাস সবার জন্য সমানভাবে উপযোগী নয়। এর সম্ভাব্য উপকারিতা নির্ভর করে খাবারের মান, মোট ক্যালরি গ্রহণ এবং ব্যক্তির শারীরিক অবস্থার ওপর। ডায়াবেটিস, খাদ্যাভ্যাসজনিত অসুস্থতা বা অন্য কোনো শারীরিক সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এ ধরনের পদ্ধতি অনুসরণ করা উচিত নয়।

পর্যাপ্ত ঘুম ও পানি পান

ফিট থাকার ক্ষেত্রে ঘুম ও পানির গুরুত্বও তুলে ধরেছেন মালাইকা। পর্যাপ্ত ঘুম পেশির পুনরুদ্ধার, মনোযোগ, মেজাজ ও শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে সহায়তা করে। অন্যদিকে, শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ, হজম এবং স্বাভাবিক শারীরিক কর্মক্ষমতার জন্য পর্যাপ্ত পানি পান জরুরি।

কতটা পানি প্রয়োজন, তা আবহাওয়া, শারীরিক পরিশ্রম ও ব্যক্তির স্বাস্থ্যের ওপর নির্ভর করে।

নিয়মিত অভ্যাসই মূল কথা

মালাইকার ফিটনেস রুটিন থেকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে বিষয়টি শেখা যায়, তা হলো ধারাবাহিকতা। নিয়মিত শরীরচর্চা, সুষম খাবার, পর্যাপ্ত ঘুম ও নিজের যত্ন নেওয়ার অভ্যাস দীর্ঘমেয়াদে সুস্থ থাকতে সহায়তা করতে পারে।

হঠাৎ কঠিন ব্যায়াম শুরু করা কিংবা কঠোর ডায়েট অনুসরণ করার পরিবর্তে নিজের শারীরিক সক্ষমতা ও প্রয়োজন অনুযায়ী একটি ভারসাম্যপূর্ণ রুটিন তৈরি করাই বেশি কার্যকর। মালাইকার জীবনযাপনের অভ্যাসও সেই ধারাবাহিকতার গুরুত্ব তুলে ধরে।