সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:
ডেমরা-আমুলিয়া-রামপুরা সড়ক নির্মাণ এবং ডেমরা-সায়েদাবাদ সংযোগ সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প শেষ হতে সময় লেগেছে এক যুগের বেশি।
একটি প্রকল্পে ২৩ বার প্রকল্প পরিচালক বদল করা হয়েছে। আড়াই বছরে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করার কথা থাকলেও তা শেষ হতে সময় লেগেছে এক যুগের বেশি। তাতে খরচ বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি।

একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন যেসব কারণে বিঘ্নিত হতে পারে, তার প্রায় সবই এই প্রকল্পের ক্ষেত্রে ঘটেছে। প্রকল্পটির নাম ডেমরা-আমুলিয়া-রামপুরা (শেখের জায়গা সংযোগ) সড়ক নির্মাণ এবং ডেমরা-সায়েদাবাদ সংযোগ সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প। পরিকল্পনা কমিশনের বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) প্রতিবেদনে এ চিত্র উঠে এসেছে।
দেশের পূর্বাঞ্চল অর্থাৎ চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের সব যানবাহন রাজধানী ঢাকা আসার ও বের হওয়ার মূল পথ হলো যাত্রাবাড়ী। এ কারণে যাত্রাবাড়ী ও সায়েদাবাদ এলাকায় দিন-রাত নির্বিশেষে সব সময় অস্বাভাবিক যানজট লেগে থাকে। এই যানজট নিরসনে বিকল্প পথ তৈরির উদ্দেশ্যেই এই প্রকল্প নেওয়া হয়েছিল। সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করেছে।
২০০৩ সালের জুলাই মাস থেকে শুরু হয়ে প্রকল্পটি ২০০৫ সালের ডিসেম্বর মাসের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা ছিল। তখন এই প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছিল সাড়ে ৪৮ কোটি টাকা। কিন্তু বছরের পর বছর যায় প্রকল্পটি যেন আর শেষই হয় না। বারবার সময় ও খরচ বাড়ানো হয়েছে। প্রথম দুই-আড়াই বছর কোনো কাজ হয়নি বললেই চলে। ভূমি অধিগ্রহণে বিলম্ব, নির্মাণকাজ অসমাপ্ত থাকা এবং নির্মাণসামগ্রীর মূল্য বৃদ্ধির কারণে পরের দশ বছরে প্রকল্পের মেয়াদ ছয়বার বৃদ্ধি করা হয়। সর্বশেষ ২০১৫ সালের ৩০ জুন প্রকল্পটির মেয়াদ শেষ হয়। তখন প্রকল্পটি পরিদর্শন করেন আইএমইডির কর্মকর্তারা। সেই পরিদর্শনের ভিত্তিতে প্রতিবেদন তৈরি করা হয়। ২০১৫ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত প্রকল্পের কাজ ৯৬ শতাংশের বেশি সম্পন্ন হয়। তাই প্রকল্পটি শেষ বলেই ধরে নেওয়া হয়েছে।

প্রতিবেদন সম্পর্কে জানতে চাইলে আইএমইডির সচিব মফিজুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কাছে প্রতিবেদনটি পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পের বিভিন্ন সমস্যা সম্পর্কে আইএমইডির পক্ষ থেকে কিছু সুপারিশ তুলে ধরা হয়েছে। এখন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় কী ব্যবস্থা নেয়, সেটাই দেখার বিষয়। সুপারিশগুলো মানা হলে প্রকল্প বাস্তবায়নে গতি আসবে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রথমে যখন প্রকল্পটি পাস করা হয় তখন এর খরচ ধরা হয়েছিল সাড়ে ৪৮ কোটি টাকা। একাধিকবার খরচ বাড়িয়ে প্রকল্পটি শেষ করায় খরচ বেড়ে দাঁড়ায় ৯৫ কোটি টাকায়। আইএমইডি বলেছে, এটি ‘অস্বাভাবিক খরচ’ বৃদ্ধি। আইএমইডি আরও বলেছে, প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ১২ বছর সময় লেগেছে। এটি অস্বাভাবিক।
সবচেয়ে মজার বিষয় হলো, এই প্রকল্পের ২৩ বার প্রকল্প পরিচালক বদল করা হয়েছে। তাঁরা সবাই খণ্ডকালীন দায়িত্ব পালন করেছেন। বারবার প্রকল্প পরিচালক বদলের ফলে কাজের তদারকি জোরদার হয়নি। সাতজন প্রকল্প পরিচালক এক মাস করেও দায়িত্ব পালন করতে পারেননি। নিয়োগের এক মাসের মধ্যেই তাঁদের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। একজন পরিচালক শুধু তিন বছরের মতো দায়িত্ব পালন করেছেন। আর চারজন এক বছর বা এর বেশি সময় কাজ করেছেন। ছয়জন এক বছরের কম সময় দায়িত্ব পালন করেছেন। এ বিষয়ে আইএমইডির পর্যবেক্ষণ হলো, এমন গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে প্রকল্প পরিচালকের ঘনঘন বদলি ও স্বল্পকালীন সময়ের জন্য দায়িত্ব পালন প্রকল্পের বাস্তবায়নকে বিঘ্নিত করেছে। এর ফলে তদারকির দুর্বলতা দেখা গেছে।
প্রকল্প কাজ কেমন হয়েছে-তাও আইএমইডির ওই প্রতিবেদনে আছে। সেখানে বলা হয়েছে, এই সড়কটি মূলত ডেমরা থেকে শুরু হয়ে আমুলিয়া-শেখের জায়গা ও মেরাদিয়া বাজারের নিকটবর্তী স্থান দিয়ে রামপুরা সেতুর কাছে প্রগতিসরণির সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করেছে। বনশ্রী এলাকার বিভিন্ন স্থানে বিটুমিন উঠে গেছে। এ ছাড়া শেখের জায়গার বিভিন্ন স্থানেও রাস্তা ভেঙে গেছে। এই প্রকল্পের আওতায় তিনটি আরসিসি কালভার্ট নির্মাণের কথা থাকলেও নির্মাণ করা হয়েছে দুটি।
সম্প্রতি আইএমইডির পক্ষ থেকে এই প্রতিবেদনটি সড়ক, পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। ওই মন্ত্রণালয়ের প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ওই প্রতিবেদ









