সব খবর

১০ জেলায় করোনার অ্যান্টিজেন পরীক্ষা শুরু আজ

নিউজ ডেস্ক৫ ডিসেম্বর ২০২০৩ মিনিট পড়া

নভেল করোনাভাইরাস শনাক্তে অ্যান্টিজেন টেস্টের বিষয়ে দীর্ঘদিন থেকেই আলোচনা চলছে। মাত্র ৩০ মিনিটে এ পরীক্ষার ফল পাওয়া যায় বলে করোনা শনাক্তে অ্যান্টিজেন টেস্টের বিষয়ে মত দিয়ে আসছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। দীর্ঘ পর্যবেক্ষণ ও আলোচনার পর বর্তমানে নতুন করে সংক্রমণ বৃদ্ধির মধ্যে অবশেষে আজ থেকে দেশের ১০ জেলায় অ্যান্টিজেন টেস্ট শুরু করতে যাচ্ছে সরকার। আর এসব পরীক্ষা সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে করা হবে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

শনিবার (৫ ডিসেম্বর) থেকে দেশের ১০টি জেলায় সদর হাসপাতালে এই পরীক্ষার এই সুবিধা পাওয়া যাবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সন্দেহভাজন করোনা রোগী, যাদের উপসর্গ রয়েছে, শুধু তাদেরই অ্যান্টিজেন পরীক্ষা করা হবে। প্রথম পর্যায়ে গাইবান্ধা, পঞ্চগড়, জয়পুরহাট, যশোর, মেহেরপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, পটুয়াখালী, মুন্সীগঞ্জ, মাদারীপুর ও সিলেটের জেলা হাসপাতালে পরীক্ষাটি চালু করা হচ্ছে। অ্যান্টিজেন পরীক্ষার কার্যক্রম চালাতে চিকিৎসক, মেডিকেল টেকনোলজিস্টসহ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ৩০ জনকে গতকাল ওইসব জেলায় পাঠানো হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা জানান, অ্যান্টিজেন পরীক্ষার মানসম্মত কিট আনা হয়েছে। উপসর্গহীন সন্দেহভাজন রোগীদের অ্যান্টিজেন পরীক্ষা করা হবে না। যেসব জেলায় আরটি-পিসিআর পরীক্ষার ব্যবস্থা নেই, সেসব জেলায় প্রাথমিকভাবে অ্যান্টিজেন টেস্ট শুরু হচ্ছে।

চলতি বছরের ৮ মার্চ দেশে নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হয়। বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে ভাইরাসটি শনাক্তে নমুনা পরীক্ষার সংখ্যা কম হওয়ায় শুরু থেকেই বিষয়টির সমালোচনা করে আসছিলেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

কারো শরীরে করোনাভাইরাসের উপস্থিতি রয়েছে কিনা তা অ্যান্টিজেন পরীক্ষার মাধ্যমে দ্রুততম সময়ে নিশ্চিত হওয়া যায়। এজন্য নাক বা মুখ গহ্বর থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়। তবে রিভার্স ট্রান্সক্রিপশন পলিমারেজ চেইন রিঅ্যাকশন বা আরটি-পিসিআর পদ্ধতি সংক্রমণ শনাক্তে বিশ্বে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য পদ্ধতি হিসেবে বিবেচিত। যদিও এ পদ্ধতিতে নমুনা সংগ্রহের পর ফল পেতে বেশ সময় লেগে যায়। এছাড়া তুলনামূলক খরচ বেশি হয়।

অন্যদিকে অ্যান্টিজেন পরীক্ষা করতে বিশেষায়িত কোনো ল্যাবরেটরির প্রয়োজন হয় না বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। অ্যান্টিজেন পরীক্ষার সংবেদনশীলতা কম হওয়ায় সংক্রমিত ব্যক্তির নমুনা পরীক্ষা করে নেগেটিভ ফলাফল পাওয়ার শঙ্কা রয়েছে। তাই অ্যান্টিজেন পরীক্ষায় নেগেটিভ এলে পিসিআর বা জিন এক্সপার্ট পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হতে হবে।

উল্লেখ্য, গত জুনে করোনাবিষয়ক জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি করোনা শনাক্তে আরটি-পিসিআর পরীক্ষার পাশাপাশি অ্যান্টিজেন পরীক্ষা চালুর পক্ষে মত দেয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর করোনার র্যাপিড টেস্ট বিষয়ে একটি খসড়া নীতিমালা তৈরি করে গত ৯ জুলাই মন্ত্রণালয়ে পাঠায়। নমুনা পরীক্ষা সম্প্রসারণ নীতিমালার ওপর মতামত দেয়ার জন্য মন্ত্রণালয় একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি করে। একাধিক সভার পর কমিটি ২৩ আগস্ট তাদের সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব জমা দেয়। কমিটি দ্রুততম সময়ের মধ্যে দেশে অ্যান্টিবডি ও অ্যান্টিজেন পরীক্ষা চালুর জোর সুপারিশ করে। এ সুপারিশের আড়াই মাস পর গত ১২ নভেম্বর স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ করোনা পরীক্ষাসংক্রান্ত নীতিমালা চূড়ান্ত করে। এরও ২৩ দিন পর শুরু হচ্ছে অ্যান্টিজেন পরীক্ষা।

ট্যাগ: