সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:
চব্বিশ্বের আন্দোলন দমাতে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ফাঁসির দণ্ড পাওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘বিদ্বেষমূলক বক্তব্য’ প্রচারে বাধা থাকলেও অন্য বক্তব্যের ক্ষেত্রে ‘ঢালাও কোনো নিষেধাজ্ঞা’ না থাকার কথা বলেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান কৌসুলী মো. আমিনুল ইসলাম।
ট্রাইব্যুনালের আদেশের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে দুই বছর ধরে ভারতে থাকা শেখ হাসিনাকে ‘শুধু বিদ্বেষমূলক বক্তব্য’ দেওয়া থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।

মঙ্গলবার নিজ কার্যালয়ে নিয়মিত বিফ্রিংয়ের সময় তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছিলেন। এ সময় তাকে প্রশ্ন করা হয় শেখ হাসিনার বক্তব্য দেওয়ার খবর এবং তা প্রচারে কোনো আইনি বাধা আছে কি না?
এর জবাবে প্রধান কৌঁসুলি বলেন, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে করা আদালত অবমাননার (কনটেম্পট) আবেদনের পর জারি করা রুলের আদেশে তাকে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য বা হেট স্পিচ না দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
“তাকে কিন্তু উনার বক্তব্য বলতে বারণ করা হয় নাই। শুধু বলা হয়েছে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য বা হেট স্পিচ। যদি উনি স্বাভাবিক কথাবার্তা বলেন, ওইটার ওপরতো আমাদের কোনো নিষেধাজ্ঞা নাই।
“শেখ হাসিনার বিদ্বেষমূলক বক্তব্য আপনারা (গণমাধ্যম) প্রচার করবেন না। বাকি বক্তব্য প্রচার করতে আইনগত বাধা নেই।”
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান কৌঁসুলী আমিনুল সাংবাদিকদের এমন কথা বললেও এদিন সরকারের তরফে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় তথ্য বিবরণী দিয়ে ভারতে থাকা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার না করার অনুরোধ করে।
তথ্য বিবরণীতে আদালতের নিষেধাজ্ঞার কথা তুলে ধরে বলা হয়, “সরকার জুলাই আন্দোলনের মূল চেতনা ধরে রাখতে এবং আইনি বাধ্যবাধকতা সমুন্নত রাখতে দেশের সকল প্রকার গণমাধ্যমকে (টেলিভিশন, সংবাদপত্র, অনলাইন পোর্টাল ও সোশাল মিডিয়া) পলাতক শেখ হাসিনার কোনো ধরনের বক্তব্য বা বিবৃতি প্রচার না করার জন্য আবারও বিশেষভাবে অনুরোধ জানাচ্ছে।”
এর আগে সচিবালয়ে নিয়মিত বিফ্রিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার না করতে আবারও আদালতের নির্দেশনা মেনে চলার কথা বলেন।
তিনি এ ব্যাপারে সতর্ক করে দিয়ে ‘আইনগত ব্যবস্থা’ নেওয়ার কথা বলেছেন।
জুলাই অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগের সরকার পতনের দ্বিতীয় বার্ষকীতে বুধবার দিল্লিতে দক্ষিণ এশিয়ার ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে শেখ হাসিনার।
এ নিয়ে নানা আলোচনার মধ্যে ট্রাইব্যুনালের প্রধান কৌঁসুলি আমিনুল বলেন, “বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন ধরনের কথা শোনা যাচ্ছে। কখনো বলা হচ্ছে তিনি সরাসরি বক্তব্য দেবেন, কখনো রেকর্ড করা বক্তব্য প্রচারের কথা বলা হচ্ছে, আবার কখনো জনসমক্ষে আসার কথাও বলা হচ্ছে।”
এসব বক্তব্যের সত্যতা সম্পর্কে তাদের কাছে কোনো প্রমাণ না থাকার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “এটার অথেন্টিসিটি নিয়ে তো আমাদের কোনো আমাদের কাছে কোনো প্রমাণ নাই।” সূত্র: বিডিনিউজ









