জাতীয়

স্কুল-কলেজ ফাঁকি দিয়ে তারা ঘুরে বেড়ায় ট্রেনে

নিউজ ডেস্ক১১ মে ২০২৬২ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক :

গাজীপুরের জয়দেবপুর যাওয়ার জন্য ঢাকার বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশন থেকে একটি আন্ত নগর ট্রেনে উঠে স্কুলের তিন শিক্ষার্থী। টঙ্গী যাওয়ার পর তারা বুঝতে পারে ট্রেনটি জয়দেবপুর নয়, নোয়াখালীর পথে যাবে। চলতি অবস্থাতেই একজন শিক্ষার্থী লাফিয়ে পড়ে। স্কুল-কলেজ ফাঁকি দিয়ে শিক্ষার্থীদের ট্রেন চড়ার প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে একটি ঘটনার কথা এভাবেই বলছিলেন মো. সোহেল রানা ভূঁইয়া।

সোমবার (১১ মে) দুপুর ১২টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেস ক্লাবে কথা হয় ‘ট্রেনপ্রেমী’ মো. সোহেল রানার সঙ্গে। কথা টেনে নিয়ে এক অভিভাবক একেবারে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরলেন।

ওই অভিভাবক বলেন, ‘আমার ছেলেও এমন করেছে। স্কুল ফাঁকি দিয়ে সে ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে আশুগঞ্জে ছুটে যায় মেঘনা নদীতে।

স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের এ প্রবণতা এখন সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে।’ এ বিষয়ে অভিভাবকদেরকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সরেজমিন ঘুরে ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কুমিল্লা থেকে ঢাকার বিমানবন্দর স্টেশন পর্যন্ত বিভিন্ন স্টেশন থেকে স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরা ট্রেনে উঠেন। চট্টলা, উপকূল, মহানগর, কর্ণফুলীসহ বিভিন্ন ট্রেনে তারা চড়ে থাকেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া, আখাউড়া, ভৈরব, নরসিংদীসহ বিভিন্ন স্থানে তারা ছুটে যান। বেশিরভাগ ছাত্রের পরনেই স্কুল-কলেজের নির্ধারিত পোশাক থাকে। সবচেয়ে ভয়াবহ বিষয় হচ্ছে, শিক্ষার্থীরা বেশির ভাগ সময়ই ট্রেনের ছাদে চড়ে থাকেন। এতে তারা দুর্ঘটনারও শিকার হচ্ছেন।
রবিবার নরসিংদী ঘুরতে এসে মেঘনা নদীতে গোসল করতে নেমে মাহির শাহরিয়ার নামে এক স্কুলছাত্র নিখোঁজ হয়।

এরপর থেকেই বিষয়টি আলোচনায় আসে। বিএফ শাহীন কলেজের ওই ছাত্রসহ আরো কয়েকজন সহপাঠী ট্রেনে করেই ঢাকা থেকে নরসিংদী আসেন।
সোমবার ঢাকার দু’টি সরকারি কলেজ থেকে ট্রেনে করে যাওয়ার পথে ৩০ জনের বেশি শিক্ষার্থীকে কিশোরগঞ্জের ভৈরব রেলওয়ে জংশন স্টেশনে নামানো হয়। পরে কলেজ কর্তৃপক্ষ ও তাদের অভিভাবকদের সঙ্গে আলোচনা করে আরেকটি ট্রেনে উঠিয়ে দেওয়া হয়।

আখাউড়া রেলওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এস এম শফিকুল ইসলাম সোমবার দুপুরে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘স্কুল-কলেজের ছাত্রদের ট্রেনে করে ঘোরাঘুরির বিষয়টি আমাদের নজরেও এসেছে। এ বিষয়ে সবাইকে নির্দেশনা দিয়ে বলা হয়েছে যে, এমন কাউকে পেলে যেন আটক করা হয়।’

ভৈরব রেলওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সাঈদ আহমেদ এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘সোমবার ৩০ জনের বেশি শিক্ষার্থীকে ট্রেন থেকে নামানো হয়। তারা ঢাকার দু’টি কলেজের শিক্ষার্থী। অভিভাবক ও কলেজ অধ্যক্ষের সঙ্গে কথা বলে এবং তাদেরকে এমন কাজ না করার অঙ্গীকার করিয়ে আরেকটি ট্রেনে তুলে দেওয়া হয়েছে।’