সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:
বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে ওপেকের কিংপিন সৌদি আরবকে জ্বালানি তেলের উৎপাদন বাড়াতে বলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত শনিবার এক টুইটে ট্রাম্প নিজেই এ কথা জানান। পরে হোয়াইট হাউজের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়, সৌদি আরবের বাদশাহ সালমান তার দেশ প্রয়োজনে জ্বালানি তেলের দৈনিক উৎপাদন ২০ লাখ পর্যন্ত বাড়াতে সক্ষম বলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে আশ্বস্ত করেছেন। খবর রয়টার্স।
নানা কারণে চলতি বছরের শুরু থেকেই চাঙা জ্বালানি তেলের বাজার। দাম নিয়ে এর আগেও অসন্তোষ প্রকাশ করে আসছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত ২০ এপ্রিল এক টুইটে তিনি কারসাজির মাধ্যমে দাম বাড়ানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে গত ২২ জুন সৌদি আরবসহ ওপেক ও মিত্র দেশগুলো জ্বালানি তেলের দৈনিক উৎপাদন ৭ থেকে ১০ লাখ ব্যারেল বাড়ানোর ব্যাপারে একমত হয়। এ অবস্থায় সৌদি আরবের ২০ লাখ ব্যারেল উৎপাদন বৃদ্ধি বাজারের জন্য অনেকটাই অপ্রত্যাশিত।

শনিবারের টুইটে ট্রাম্প বলেন, ‘এইমাত্র সৌদি আরবের বাদশাহ সালমানের সঙ্গে কথা হলো এবং তাকে বললাম, যেহেতু ইরান ও ভেনিজুয়েলায় অস্থিরতা এবং গোলযোগ চলছে, আমি সৌদি আরবকে জ্বালানি তেলের উৎপাদন বাড়াতে বলছি, সম্ভবত ২০ লাখ ব্যারেল, ওই সংকট কাটানোর জন্য… দাম খুব বেশি! তিনি রাজি হয়েছেন।’
পরে হোয়াইট হাউজের পক্ষ থেকে বলা হয়, শুক্রবার সৌদি বাদশাহর সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প জ্বালানি তেলের সরবরাহ আরো বাড়ানো প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন। জবাবে সৌদি বাদশাহ তার দেশ উৎপাদন বাড়াতে প্রস্তুত বলে জানান।
বিবৃতিতে বলা হয়, বাদশাহ সালমান নিশ্চিত করেছেন, সৌদি আরবের আরো ২০ লাখ ব্যারেল জ্বালানি তেল উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে এবং বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার প্রয়োজনে দেশটি এ সক্ষমতা কাজে লাগাবে।
এদিকে সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সংবাদ মাধ্যমে জানানো হয়, আলাপকালে সৌদি বাদশাহ সালমান ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জ্বালানি তেলের বাজারের স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং যেকোনো সম্ভাব্য সরবরাহ সংকট মোকাবেলায় উৎপাদক দেশগুলোকে সচেষ্ট থাকার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। তবে খবরে সৌদি আরবের উৎপাদন ২০ লাখ ব্যারেল বৃদ্ধির বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি। সৌদি কর্মকর্তারাও এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করেননি।
গত সপ্তাহে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র রয়টার্সকে জানায়, রিয়াদ জুলাইয়ে দৈনিক উৎপাদন বাড়িয়ে ১ কোটি ১০ লাখ ব্যারেলে উন্নীত করতে চায়, যা হবে দেশটির ইতিহাসে এ যাবত্কালের সর্বোচ্চ। একই সঙ্গে তা গত মাসের দৈনিক উৎপাদন ১ কোটি ৮০ লাখ ব্যারেলের চেয়ে বেশি। সৌদি আরবের সর্বোচ্চ উৎপাদন ক্ষমতা দৈনিক ১ কোটি ২০ লাখ ব্যারেল। তবে দেশটি কখনই এ মাত্রার উৎপাদন পরীক্ষা করেনি।
উৎপাদন বৃদ্ধির ব্যাপারে ওপেকের ইরানি গভর্নর হোসেন কাজেমপোর আরদেবিলি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরব মিলে জ্বালানি তেলের দাম নিয়ে কারসাজির চেষ্টা করছে এবং উভয় দেশই ওপেকের মূলনীতির বিরুদ্ধে কাজ করছে। তিনি বলেন, যদি এমনটি হয়ে থাকে, এর মানে ট্রাম্প সৌদি আরবকে ওপেক থেকে বের হয়ে যেতে বলছেন।
তিনি বলেন, যেহেতু সৌদি আরব জুলাইয়ে উৎপাদন বাড়ানোর কথা বলেছে, আমি নিশ্চিত জ্বালানি তেলের দাম ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যাবে। বিশ্বের বাকি অঞ্চলগুলোর পকেট কাটতেই তারা এমনটি করছে।









