অর্থ ও বাণিজ্য

সিপা চুক্তি করবে বাংলাদেশ-ভারত

নিউজ ডেস্ক২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৮৪ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:

বাণিজ্য, বিনিয়োগ তথা অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে একটি সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (সিপা) করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ও ভারত।

চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়ে দু’দেশই সম্মত হয়েছে। প্রাক-প্রস্তুতির কাজ শেষে শিগগিরই চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে। আর এ চুক্তি স্বাক্ষর হলে উভয় দেশই লাভবান হবে।

বুধবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ ও ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী সুরেশ প্রভুর মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে এ বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে। বৈঠক শেষে এ নিয়ে যৌথ ঘোষণা দেয়া হয়। বেলা ১১টায় বৈঠক শুরু হয়।

বৈঠক শেষে তোফায়েল আহমেদ বলেন, বিশ্বের অনেক দেশেই কম্প্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্ট (সিপা) আছে। ইইউ দেশগুলোর মধ্যেও এই চুক্তি রয়েছে। ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তি আছে এবং দুটি দেশই দক্ষিণ এশীয় মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (সাফটা) সদস্য, যার অধীনে স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে ভারতের বাজারে বাংলাদেশি পণ্য শুল্কমুক্ত সুবিধা পাচ্ছে।

কিন্তু কয়েক বছরের মধ্যে স্বল্পোন্নত দেশের কাতার থেকে বাংলাদেশের উত্তরণ ঘটবে। তখন দুই দেশের মধ্যে ব্যবসা ও বাণিজ্য বাড়াতে নতুন দ্বিপক্ষীয় চুক্তির প্রয়োজন হবে। সেই চিন্তা থেকেই বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের স্বার্থে আমরা এই চুক্তি করতে চাই।

তোফায়েল আহমেদ আরও বলেন, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক ঐতিহাসিক। বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারত বিভিন্নভাবে বাংলাদেশকে সহায়তা করেছে। ভারত সরকার মুজিব-ইন্দিরা চুক্তি লোকসভায় রেকটিফাই করে তা বাস্তবায়ন করেছে।

সিটমহলবাসী এখন স্বাধীন জীবনযাপান করছে। উভয় দেশের বাণিজ্য এখন ৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি। তবে এটা ঠিক এই বাণিজ্য ভারতের অনুকূলে। কিন্তু এতে বাংলাদেশের ক্ষতি নেই। কারণ পাশাপাশি দেশ হওয়ায় আমরা ভারত থেকেই বেশি পণ্য আমদানি করছি।

সেগুলো নিজেদের প্রয়োজন মেটানোর পাশাপাশি রূপান্তর করে তা বিদেশে রফতানিও করছি। সেখানে বাণিজ্য কিন্তু বাংলাদেশের পক্ষেই। এখন ভারতের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পণ্যের রফতানি বাড়ছে। বাণিজ্য ক্ষেত্রে সৃষ্ট বাধা দূরীকরণের উদ্যোগে প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান সব বাণিজ্য বাধা দূর করতে একমত হয়েছে ভারত।

বৈঠকে বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন পণ্য রফতানির ক্ষেত্রে বিদ্যমান বাধাসমূহ তুলে ধরা হয়েছে। পাটজাত পণ্য, খাদ্যপণ্য, ভোজ্যতেলসহ বাংলাদেশের বেশকিছু পণ্য ভারতে রফতানির ক্ষেত্রে জটিলতা রয়েছে। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সমস্যাগুলো সমাধান করার বিষয়ে উভয় দেশ একমত হয়েছে। বর্ডার হাটের বিষয়ে উভয় দেশের মানুষের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে।

বর্তমানে ৪টি বর্ডার হাট চালু রয়েছে, আরও ৬টি বর্ডার হাট চালুর বিষয় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশের শেরপুর জেলার নাকুগাঁও এবং ভারতের ডালু সীমান্তে একটি বর্ডারহাট অল্প কিছুদিনের মধ্যে চালু করা হবে।

বাণিজ্যমন্ত্রী আরও জানান, বাংলাদেশ ২১টি পণ্য ভারতে রফতানির ক্ষেত্রে বিএসটিআই-এর টেস্টিং রিপোর্ট গ্রহণ করার অনুরোধ করা হয়েছিল। ইতিমধ্যে ১৫টি পণ্যের রিপোর্ট গ্রহণ করা হয়েছে, অবশিষ্ট ৬টি পণ্যের রিপোর্ট গ্রহণ করতে ভারত সম্মত হয়েছে।

এ ছাড়া আরও ৬টি পণ্যের রিপোর্ট গ্রহণ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। বৈঠকে উভয় দেশের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট অনেক বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়েছে, যেগুলোতে আমরা একমত হয়েছি। উভয় দেশের স্বার্থ রক্ষা করে বাণিজ্য বৃদ্ধি করা হবে।

এ সময় ভারতের বাণিজ্য, শিল্প ও বেসামরিক বিমান চলাচলমন্ত্রী ও ভারতের প্রতিনিধি দলের প্রধান সুরেশ প্রভু বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন ব্যতিক্রম। বাংলাদেশ দ্রুত উন্নতি লাভ করছে। বাংলাদেশের উন্নয়নে ভারত খুশি। উভয় দেশের বাণিজ্য ক্ষেত্রে কিছু জটিলতা আছে।

উভয় দেশের সরকার এবং ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে সব সমস্যার সমাধান করা হবে। বৈঠকে আমরা সমস্যাগুলো নিয়ে আলোচনা করেছি। সমাধানের বিষয়ে আমরা একমত হয়েছি। বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য করতে ভারত খুবই আন্তরিক।

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বিএসটিআইয়ের টেস্টিং রিপোর্ট গ্রহণ, ভোজ্যতেল রফতানির ক্ষেত্রে জটিলতা, নতুন বর্ডারহাট চালু, পাটপণ্য রফতানিসহ যেসব সমস্যার কথা তুলে ধরা হয়েছে, সেগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সমাধান করা হবে।

বৈঠকে বাংলাদেশের ১০ সদস্যের প্রতিনিধি দলে অন্যান্যের মধ্যে ছিলেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিবের দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত সচিব মুন্সী শফিউল হক, ট্যারিফ কমিশনের চেয়ারম্যান জহির উদ্দিন আহমেদ, অতিরিক্ত সচিব (এফটিএ) মো. শফিকুল ইসলাম, রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস- চেয়ারম্যান বিজয় ভট্টাচার্য্য, স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান তপন কুমার চক্রবর্তী।

ভারতের ১০ সদস্যের প্রতিনিধি দলে অন্যান্যের মধ্যে ছিলেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের রাষ্ট্রদূত হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা, ভারতের বাণিজ্য বিভাগের (এফটি-এসএ) যুগ্ম-সচিব ভুপিনদার বাল্লা, বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব শেফালী জুনিগা প্রমুখ।

এদিকে একই স্থানে বিকালে সুরেশ প্রভুর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান ও পর্যটনমন্ত্রী এম শাজাহান কামাল। ওই বৈঠকে দুই দেশের আকাশপথে চলাচল নির্বিঘ্ন ও পর্যটকদের ভিসা সংক্রান্ত জটিলতা নিরসন নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

পর্যটন খাতে বাংলাদেশের বিপুলসংখ্যক শিক্ষিত যুবককে কাজে লাগানোর সুযোগ রয়েছে বলে জানায় সুরেশ প্রভু। তিনি বলেন, ট্যুরিজম ক্ষেত্রকে গুরুত্ব দিয়ে বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা সম্ভব। এ মুহূর্তে বাংলাদেশের জন্য সার্ভিস সেক্টর খুবই গুরুত্বপূর্ণ।