লাইফ স্টাইল

সামাজিক মাধ্যমে অন্যের প্রেম দেখে নিজের সম্পর্কে কী প্রভাব পড়ছে?

নিউজ ডেস্ক২৪ অক্টোবর ২০২৬৪ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:

সামাজিক মাধ্যমে অন্যের প্রেমের ভিডিও, রোমান্টিক মুহূর্ত কিংবা দামি উপহারের দৃশ্য দেখে নিজের সম্পর্কের সঙ্গে তুলনা করছেন অনেকে। কখনো সঙ্গীর কাছ থেকে বাড়তি মনোযোগ, কখনো বিশেষ আয়োজন, আবার কখনো সিনেমার মতো রোমান্টিক আচরণের প্রত্যাশা তৈরি হচ্ছে এসব কনটেন্ট দেখে।

প্রত্যাশা পূরণ না হলে সম্পর্কে দেখা দিতে পারে হতাশা, অভিমান ও অশান্তি।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সামাজিকযোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সম্পর্কবিষয়ক রিলস আধুনিক যুগের প্রেম ও ডেটিংয়ের ওপর প্রভাব ফেলছে। এসব ভিডিওতে অল্প সময়ের মধ্যে সম্পর্কের নানা সমস্যা নিয়ে সহজ সমাধান দেওয়া হয়। কিন্তু বাস্তব জীবনের সম্পর্কের পরিস্থিতি সব সময় এতটা সরল নয়।

সম্প্রতি ভারতের ডেটিং অ্যাপ কোয়াককোয়াকের করা এক জরিপে ২২ থেকে ৩৮ বছর বয়সী ১০ হাজারের বেশি মানুষের মতামত নেওয়া হয়। বড় শহর থেকে ছোট শহরের ডেটিংয়ে থাকা ব্যক্তিরা এতে অংশ নেন। জরিপে উঠে এসেছে, সামাজিকযোগাযোগমাধ্যমে সম্পর্কবিষয়ক পরামর্শ দেখে অনেকে নিজের সম্পর্ককে নতুন করে বিচার করতে শুরু করেন। অথচ একটি ভিডিওতে দেওয়া পরামর্শ সব সম্পর্কের ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রযোজ্য নাও হতে পারে।

ভাইরাল পরামর্শেই কি সম্পর্কের বিচার?

সামাজিক মাধ্যমে প্রায়ই দেখা যায়, ‘সঙ্গী সত্যিই ভালোবাসলে নিজে থেকেই সব করবে’ কিংবা ‘প্রিন্সেস ট্রিটমেন্ট না পেলে সম্পর্কের মানে কী’—এমন নানা বক্তব্য। এসব ভিডিও দেখে কেউ কেউ সঙ্গীর কাছে একই ধরনের আচরণ প্রত্যাশা করেন। প্রত্যাশা পূরণ না হলে শুরু হয় অভিমান কিংবা তর্ক।

জরিপে ২৫ বছরের বেশি বয়সী ৪ হাজার ৬৯৪ জন অংশগ্রহণকারীর মতামত বিশ্লেষণ করা হয়। তাঁদের মধ্যে অনেকে মনে করেন, সব যুগলের জন্য একই ধরনের সম্পর্কের নিয়ম প্রয়োগ করতে গেলেই সমস্যা তৈরি হয়।

উদাহরণ হিসেবে, কাজ শেষে কেউ একা কিছুটা সময় কাটাতে চাইলে তা সব সময় আবেগগত দূরত্বের লক্ষণ নয়। জরিপে অংশ নেওয়া ৬০ শতাংশ পুরুষ এমন ধারণার সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেন। আবার ৩৮ শতাংশ অংশগ্রহণকারী মনে করেন, বড় আয়োজন করে ডেটের ব্যবস্থা করতে না পারলেই সঙ্গীকে কম যত্নশীল ভাবা ঠিক নয়।

ডেটিং অ্যাপ কোয়াককোয়াকের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী রবি মিত্তাল বলেন, সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাস্তব পরিস্থিতি ও পারস্পরিক বোঝাপড়া গুরুত্বপূর্ণ। সামাজিক মাধ্যমে পাওয়া প্রতিটি পরামর্শ নিজের সম্পর্কে অন্ধভাবে প্রয়োগ করা ঠিক নয়। কখনো ফোন না করা অবহেলার লক্ষণ হতে পারে, আবার সব ক্ষেত্রে তা নয়।

সামাজিক মাধ্যম থেকে সম্পর্কের ভালো দিকও শেখা যায়

তবে সামাজিক মাধ্যমের প্রভাবকে পুরোপুরি নেতিবাচক বলছেন না জরিপে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা। ৪৮ শতাংশ অংশগ্রহণকারী মনে করেন, সম্পর্কের ওপর সামাজিক মাধ্যমের প্রভাব একেবারে অস্বীকার করা যায় না। ত্রিশের কোঠায় থাকা নারীদের প্রায় ২৭ শতাংশের মতে, এসব কনটেন্ট কখনো কখনো সম্পর্কের কিছু বিষয় নতুনভাবে বুঝতে সাহায্য করে। জরিপে প্রতি ১০ জনে চারজন জানান, অন্যের সম্পর্কবিষয়ক কনটেন্ট দেখে তারা ব্যক্তিগত সীমারেখা বা সম্পর্কে নিজের প্রয়োজন সম্পর্কে শিখেছেন।

অন্যের সাজানো মুহূর্তের সঙ্গে নিজের সম্পর্কের তুলনা

সামাজিক মাধ্যমে দেখা সম্পর্কের অনেক মুহূর্তই পরিকল্পিতভাবে ধারণ করা হয়। একাধিকবার ভিডিও ধারণ, বিশেষ আয়োজন কিংবা বাছাই করা ছবি দিয়ে তৈরি হয় নিখুঁত প্রেমের দৃশ্য। দর্শকেরা জানেন, এগুলো কোনো সম্পর্কের সম্পূর্ণ চিত্র নয়। তবু অনেকেই নিজের সম্পর্কের সঙ্গে সেসব মুহূর্তের তুলনা করেন।

 

জরিপে ৩ হাজার ৩৪৭ জন অংশগ্রহণকারী জানান, তারা বোঝেন যে অনলাইনে সম্পর্কের বাছাই করা কিছু মুহূর্তই তুলে ধরা হয়। তারপরও সেগুলোর সঙ্গে নিজের সম্পর্কের তুলনা করেন।

জরিপে অংশ নেওয়া বেঙ্গালুরুর আকৃতি বলেন, সামাজিক মাধ্যমে বড় আয়োজনের বিয়ের প্রস্তাব, চমকপ্রদ উপহার কিংবা স্বপ্নের মতো যুগল ছবির প্রবণতা সাধারণ সম্পর্ককে ব্যর্থ বলে মনে করাতে পারে। অন্যের কাছ থেকে অনুপ্রেরণা নেওয়া ভালো, কিন্তু তা তুলনায় পরিণত হলে সম্পর্কের ছোট ছোট ভালোবাসার প্রকাশও গুরুত্ব হারায়।

সামাজিক মাধ্যমে অন্যের প্রেম দেখে সঙ্গীর কাছ থেকে একই আচরণ আশা করার আগে নিজের চাহিদা বোঝা জরুরি। সম্পর্কে কি আরো সময় দরকার, স্পষ্ট যোগাযোগ প্রয়োজন, নাকি আশ্বাস—তা সঙ্গীর সঙ্গে খোলামেলা আলোচনার মাধ্যমে বোঝার চেষ্টা করা যেতে পারে। কারণ, অন্যের সম্পর্কের সাজানো মুহূর্ত নয়, পারস্পরিক বোঝাপড়া ও বাস্তব চাহিদাই একটি সম্পর্ককে এগিয়ে নিতে সাহায্য করে।