জাতীয়

সাভার-আশুলিয়ায় শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, সাংবাদিকসহ আহত ৫০

নিউজ ডেস্ক৪ নভেম্বর ২০২৬৪ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউ ডেস্ক:

ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ, কালো তালিকাভুক্তি বন্ধসহ তিন দাবিতে সাভার ও আশুলিয়ার শিল্পাঞ্চলে পঞ্চম দিনের মতো শ্রমিক অসস্তোষ অব্যাহত রয়েছে। বুধবার (৪ নভেম্বর) সকাল থেকে সাভারের হেমায়েতপুর, উলাইল ও আশুলিয়ার বিভিন্ন এলাকায় শ্রমিকদের বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ ও পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

এ সময় পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়েছে।
সংঘর্ষে পুলিশ, শ্রমিক, সাংবাদিকসহ অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন। হামলার শিকার হয়েছেন পাঁচ গণমাধ্যমকর্মী। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শিল্পাঞ্চলে তিন প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।

বন্ধ রয়েছে শতাধিক পোশাক কারখানা।
শিল্প পুলিশ, প্রত্যক্ষদর্শী এবং স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বুধবার সকাল সোয়া ৮টার দিকে হেমায়েতপুরের পদ্মার মোড়ে স্ট্যান্ডার্ড গ্রুপের সামনে এবং সকাল ৯টার দিকে সাভারের উলাইল এলাকায় আল মুসলিম গ্রুপের সামনে শ্রমিকেরা বিক্ষোভ শুরু করেন। একপর্যায়ে তারা ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেন। এ সময় পুলিশ শ্রমিকদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া শুরু হয়।

বিক্ষুব্ধ শ্রমিকেরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ারশেল, সাউন্ড গ্রেনেড ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে।
সকাল সাড়ে ১০টার দিকে হেমায়েতপুর-সিংগাইর সড়কে বিক্ষুব্ধ একদল লোক পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ সময় সাভার মডেল থানার ওসি সাইফুল আলম আহত হন। একই সময়ে পদ্মার মোড় এলাকায় সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার হন স্টার নিউজের ঢাকা জেলা প্রতিনিধি আহমাদ সোহান সিরাজী, একাত্তর টেলিভিশনের জেলা প্রতিনিধি রাইয়ান বিন আমিন, ক্যামেরাপারসন মো. উজ্জ্বল হোসেন, নিউজ টোয়েন্টিফোর টেলিভিশনের রিপোর্টার নাজমুল হুদা ও ক্যামেরাপারসন ইমদাদ হোসেন।

আহত সাংবাদিকরা জানান, সংঘর্ষের খবর সংগ্রহের সময় কয়েকজন বিক্ষুব্ধ ব্যক্তির বক্তব্য নেওয়ার পর ঘটনাস্থলের ফুটেজ ধারণ করছিলেন তারা।

এ সময় মুখোশ ও মাস্ক পরা একদল লোক সাংবাদিক পরিচয় জানার পর লাঠি ও ইট দিয়ে তাদের মারধর করেন। পরে আশপাশের কয়েকজন এগিয়ে এলে তারা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
আহমাদ সোহান সিরাজী অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা তাদের ধাওয়া করে মারধর করেন।

এদিকে, হেমায়েতপুরের পাশাপাশি উলাইল এলাকায়ও শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। সকাল ৯টার পর শ্রমিকেরা কয়েকটি দলে ভাগ হয়ে বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নেন। এতে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের উভয় পাশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে বেলা ১১টার দিকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যরা শ্রমিকদের সরিয়ে দিলে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

 

সাভারে দায়িত্ব পালনরত বিজিবি ঢাকা ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তাইমুন বলেন, ‘সাভার ও আশুলিয়ার বিভিন্ন স্থানে বিজিবির তিন প্লাটুন সদস্য মোতায়েন রয়েছেন। বিশৃঙ্খলা ও জনদুর্ভোগ সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী কাজ করছে।’

অন্যদিকে, আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুর ও নরসিংহপুর এলাকায়ও শ্রমিক অসস্তোষ ছড়িয়ে পড়ে। সকালে হামিম গ্রুপ, শারমিন গ্রুপ, নিউ এজসহ বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা কাজে যোগ দিলেও পরে কর্মবিরতি শুরু করেন। একপর্যায়ে কর্তৃপক্ষ সাধারণ ছুটি ঘোষণা করলে শ্রমিকেরা কারখানা থেকে বেরিয়ে বিক্ষোভ করেন। তাঁরা আব্দুল্লাহপুর-বাইপাইল সড়ক অবরোধের চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

স্থানীয় প্রশাসনের তথ্যমতে, আশুলিয়ায় ১৭৩টি কারখানার শ্রমিকেরা আন্দোলনে অংশ নেন। শ্রমিক অসন্তোষের জেরে সাভার ও আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলে শতাধিক পোশাক কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

শিল্প পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, ‘বুধবার সকালে কারখানাগুলোতে উৎপাদন শুরু হলেও বহিরাগতদের ইন্ধনে কিছু শ্রমিক কাজ বন্ধ করে ভেতরে অবস্থান নেন। দীর্ঘ সময় উৎপাদন বন্ধ থাকায় কর্তৃপক্ষ কারখানাগুলোতে ছুটি ঘোষণা করে। দুপুরের দিকে শিল্প পুলিশের আওতাধীন এলাকাগুলোর পরিস্থিতি স্বাভাবিক ছিল। সড়কে যান চলাচলেও কোনো প্রতিবন্ধকতা ছিল না।’

ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন বলেন, ‘বুধবার সকালে পদ্মার মোড় এলাকায় ৩০ থেকে ৪০ হাজার শ্রমিক দুই দিক থেকে জড়ো হয়ে পুলিশের ওপর আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন। এ সময় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হয় এবং সাভার মডেল থানার ওসির গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। হামলায় ওসি গুরুতর আহত হয়েছেন। সাভারে উত্তেজিত শ্রমিক সড়ক অবরোধ করলে তাদেরকে মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়ায় দুপুরের পর থেকেই যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। এছাড়া অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।’