লীড নিউজ

সরকারি সিদ্ধান্তকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে রাজশাহীতে দুটি স্কুলে পাঠদান চলমান

নিউজ ডেস্ক২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬৪ মিনিট পড়া

নিজস্ব প্রতিবেদক:

রাজশাহীতে পবিত্র রমজান মাসে সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে দুটি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান কার্যক্রম চালু রাখার অভিযোগ উঠেছে। রাজশাহীর বেসরকারী হলিক্রস স্কুল এবং সৃষ্টি সেন্ট্রাল স্কুল কর্তৃপক্ষ এখনো পাঠদান অব্যাহত রেখেছে। এ নিয়ে অভিভাবকরা পড়েছেন চরম দুর্ভোগে। বিশেষ করে রোজা থেকে প্রাইমারী পর্যায়ের সেহেরে খাওয়ার একটু পরেই শিক্ষার্থীদের স্কুলে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত করা এবং আনা-নেয়া করতে গিয়ে বিপাকে পড়ছেন অভিভাবকরা। এ নিয়ে তাদের মাঝে চরম ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে।

জানা গেছে, রমজানে অভিভবাকদের দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের স্কুল ছুটি ঘোষণা করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। সেই হিসেবে পহেলা রমজান থেকেই সকল প্রকার বিদ্যালয়ে ছুটি কার্যকর হওয়ার কথা। সেই মতাবেক রাজশাহীর প্রায় সবগুলো স্কুলই ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু নগরীর উপশহরে আবাসিক এলাকার ভবন ভাড়া নিয়ে গড়ে তোলা সৃষ্টি সেন্ট্রাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং রাজশাহী নওদাপাড়া এলাকায় নিজস্ব জমিতে প্রতিষ্ঠা করা হলিক্রস স্কুল অ্যান্ড কলেজ এখনো খোলা রাখা হয়েছে।
গতকাল রবিবার সকাল থেকেই, রোজার প্রথম দিন থেকেই নগরীর রাজশাহী সৃষ্টি সেন্ট্রাল স্কুলে নিয়মিত ক্লাস কার্যক্রম চালু রাখা হয়েছে। আর প্রথম রোজায় ছুটি থাকলেও গতকাল থেকে ক্লাস কার্যক্রম চালু রেখেছে হলিক্রস স্কুল অ্যান্ড কলেজ।

এতে করে রোজার মধ্যে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ক্লাস চলায় শিক্ষার্থীদেরও যেমন কষ্ট হচ্ছে। তেমনি অভিভাবকরাও পড়েছেন ভোকান্তিতে এবং বেকায়দায়। বিশেষ করে প্রাথমিকে ছোট শিক্ষার্থীদের নিয়ে অভিভাবকরা পড়েছেন বেশি বেকায়দায়।

রাজশাহীর সৃষ্টি সেন্ট্রাল স্কুলের একজন অভিভাবক আসমাউল হুসনা নামের একজন বলেন, “রোজার মধ্যে রাত চারটার দিকে উঠেই রান্না করতে হয়। এরপর সেহেরি খেয়ে নামাজ পড়ে থালা-বাসন গোছাতে গোছাতে সকাল হয়ে যায়। তখন যে একট বিশ্রাম নিবো তাও পাচ্ছি না বাচ্চাকে নিয়ে। সকাল আটটার মধ্যে প্রস্তুত করে সাড়ে আটটার মধ্যেই স্কুলে আনতে হচ্ছে। আবার দুপুরে নিয়ে যেতে হচ্চে। তার পর বাসায় গিয়ে অন্যান্য কাজকর্ম করতে হচ্ছে। আবার দুপরে আসতে হচ্ছে বাচ্চাকে নিতে। তাহলে বিশ্রামটা নিব কখন? রোজার কথা বিবেচনা করে সরকার স্কুল ছুটি দিলেও তা মানা হচ্ছে না। এতে দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে আমাদের।

আরেক অভিভাবক মাজেদুর রহমান বলেন, ‘আমরা অভিভাবকরা সেহেরি খেতে উঠলে বাচ্চারাও উঠে যাচ্ছে। আবার সকাল হলেই দৌড় দিতে হচ্ছে স্কুলে ফলে তাদেরও ঘুম হচ্ছে না। এতে তাদের ওপর মারাত্মক চাপ পড়ে যাচ্ছে। এটি অমানবিক হয়ে যাচ্ছে।’

এদিকে শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের আপত্তির কারণে গতকাল রবিবার রাজশাহী সৃষ্টি সেন্ট্রাল স্কুল কর্তৃপক্ষ নতুন করে নোটিশ জারি করেছে। অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাক স্বাক্ষরিত ওই নোটিশে বলা হয়েছে, ‘এতো দ্বারা প্রভাতি শাখার সকল শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের জানানো যাচ্ছে যে, সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক আগামীকাল (সোমবার) থেকে স্কুলের ক্লাস কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। তবে অপেক্ষাকৃত দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত কেয়ার ও পরীক্ষার ব্যবস্থা আছে। নোটিশের নিচে অতিরিক্ত ক্লাসের সময়সূচিও দেওয়া হয়। তাতে সকাল সাড়ে আটটা থেকে শুরু হয়ে ১১ টা পর্যন্ত সময় নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে আরেক অভিভাবক নাইমা পারভীন বলেন, ‘এটি একটি চালাকি। যখন ১০ জন শিক্ষার্থী ক্লাসে আসবে, তখন অন্যরাও আসতে বাধ্য থাকবে। কারণ তারা পিছিয়ে পড়বে বলে। ফলে সরকারকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাইয়ে সৃষ্টি সেন্ট্রাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ কর্তৃপক্ষ স্কুল খোলা রাখছে। এতে আমাদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে রোজার মধ্যে।
জানতে চাইলে এ প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘আমরা স্কুল খোলা রেখেছিলাম। কিন্তু অভিভাবকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ছুটি ঘোষণা করেছি। তবে যারা দুর্বল তাদের পাঠদান করানো হবে। এতে অন্যরা না আসলেও চলবে।’

অন্যদিকে, রাজশাহীর নওদাপাড়া এলাকায় গড়ে তোলা হলিক্রস স্কুল অ্যান্ড কলেজেও সকল শ্রেণির পাঠদান গতকাল থেকে চালু হয়েছে। এখানে ক্লাস শুরু হচ্ছে সকাল পৌনে নয়টার থেকে। ফলে দূর-দুলান্ত থেকে শিক্ষার্থীদের সকাল আটটার মধ্যেই বাড়ি থেকে বের করে নিয়ে যেতে বাধ্য হচ্ছেন অভিভাবকরা। এখানকার অভিভাবকদের মধ্যেও এ নিয়ে চরম ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।

জানতে চাইলে এ স্কুলের এক অভিভাবক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘সবচেয়ে সমস্যা হচ্ছে ছোট বাচ্চাদের নিয়ে। তারা সেহেরেতেও উঠে যাচ্ছে অধিকাংশ সময়। আবার ঘুম না হতেই সকালে উঠাতে গেলে প্রচণ্ড কান্নাকাটি করছে। এতে করে শিশুদের মানসিক বেঘাত ঘটছে। স্কুল চালু রেখে কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের ভালো করার চেয়ে আরও খারাপ করছে। আমাদের কষ্ট হচ্ছে, কিন্তু আমরা সহ্য করতে পারছি। কিন্তু শিশুদের এই ঘুমের প্রভাব বড় ক্ষতিও হতে পারে।’ তবে এ বিষয়ে হলিক্রস স্কুল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানার জন্য বার বার চেষ্টা করেও তাদের কাউকে পাওয়া যায়নি। কেউ ফোন রিসিভ করেনি।