সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:
টাকা খরচের স্বচ্ছতা ও আইনি প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন করতে সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের উদ্বৃত্ত অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে আনা হবে। এতে ব্যাংকগুলোয় কোনো ধরনের তারল্য সংকট সৃষ্টি হবে না।
কারণ কোনো ব্যাংক থেকে টাকা আনা হবে না। এটি শুধু হিসাব বইয়ে রের্কড হিসাবে এন্ট্রি করা হবে। আর এখনই বিভিন্ন ব্যাংকে ডিপোজিট করে রাখা সরকারি প্রতিষ্ঠানের উদ্বৃত্ত অর্থ মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত হাত দেয়া হবে না।

বুধবার ক্রয় এবং অর্থনৈতিক সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।
প্রসঙ্গত, সোমবার মন্ত্রিসভায় রাষ্ট্রীয় কোষাগারে সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের উদ্বৃত্ত অর্থ জমা করা সংক্রান্ত একটি প্রস্তাবিত আইনের খসড়া নীতিগত অনুমোদন দেয়া হয়। বর্তমানে এই ধরনের অলস অর্থের পরিমাণ ২ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকার ওপরে।
এ ধরনের আইন প্রসঙ্গে জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন অর্থ মন্ত্রণালয় পর্যবেক্ষণে দেখতে পায়, সরকারের টাকা নিয়ে গড়ে ওঠা অনেক রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বড় হয়ে গেলে সরকারের দেয়া অর্থকে মনে করে তাদের নিজস্ব টাকা। ফলে ওই অর্থ সৎভাবে ব্যবহার করে না। শুধু তা-ই নয়, ওইসব প্রতিষ্ঠানে কর্মরতদের বেতন-ভাতা নিজেরাই ঠিক করে নিচ্ছে। বোনাস কয়টা নেবে, কে কয়টা বোনাস পাবে, সেটিও আমাদের জানানো হয় না। প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন বৈঠকের সম্মানী ভাতাসহ নানা ব্যয়ের ক্ষেত্রেও অনিয়ম হচ্ছে। অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন না নিয়ে বড় ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। এসব হতে পারে না। সেজন্য আইন করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের উদ্বৃত্ত অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে আনার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এতে অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে।
অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, উদ্বৃত্ত অর্থ ফেরত আনার পরও ওইসব প্রতিষ্ঠান পরিচালনার জন্য পর্যাপ্ত অর্থ রাখা হবে। ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রার কমপক্ষে ২৫ শতাংশ অর্থ অতিরিক্ত রাখা হবে। প্রতিষ্ঠানগুলোর হাতে নতুন কোনো প্রকল্প থাকলে এর জন্যও অর্থ রেখে দিতে পারবে। সুতরাং অলস টাকা যা এই মুহূর্তে ব্যবহার হচ্ছে না, ওই টাকাই সরকারি কোষাগারে আনা হচ্ছে।
এই অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে আনার পর ব্যাংকগুলো এতে তারল্যের সংকটে পড়বে কি না জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, অর্থ মন্ত্রণালয় কোনো ব্যাংক না। এসব টাকা এনে সুটকেসে রাখা হবে না। এতে কারও কোনো সমস্যা হবে না। এটি শুধু হিসাবের খাতায় এন্ট্রি হবে। কোনো ব্যাংক থেকে টাকা নেয়া হবে না। আর ব্যাংকের তারল্য সংকট হবে না।
বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের উদ্বৃত্ত অর্থ ডিপোজিট আছে, সেগুলোর কী হবে- জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত ডিপোজিটের অর্থ চাওয়া হবে না। আপনাকে একটি কথা মনে রাখতে হবে, ব্যাংকে ডিপোজিট রাখা হলে সুদ ৩ শতাংশ দিচ্ছে। কিন্তু সরকারকে ব্যয় মেটাতে ৫ শতাংশ সুদে ঋণ করতে হচ্ছে। তাহলে কেন ডিপোজিট রাখা হবে।
তবে এ মুহূর্তে প্রতিষ্ঠানগুলোর উদ্বৃত্তের অর্থের ডিপোজিটগুলো ভাঙা হবে না। মেয়াদ শেষ হলেই তা আনা হবে। এতে আমি মনে করি, এই অর্থে স্বচ্ছ ও আইনিভাবে ব্যবহার সম্ভব হবে।’
কোনো প্রতিষ্ঠান এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করছে কি না জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকার কোনো কোম্পানি বা সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান গঠন করলে এর অর্থ সরকার দেয়। ফলে এসব অর্থের মালিক সরকার। তাহলে বিরোধিতা করবে কেন। সরকারের হয়ে আমাদের অধিকার আছে এই অর্থ কোথায় খরচ হচ্ছে তা জানার।
অর্থমন্ত্রী বলেন, এ সংক্রান্ত আইন করা হয়েছে। তবে অনেক প্রতিষ্ঠান বিনিয়োগ করেছে। বিনিয়োগ মাঝপথে আছে। সেগুলোয় নিয়ে আসব না। বিপিসির কাছে এক হাজার কোটি টাকা রয়েছে। বারবার চেয়েও অর্থ মন্ত্রণালয় পায়নি- এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, এখন তারা দেবে। এর আগে যে টাকা তারা দিয়েছে, সেটিও ভিক্ষার মতো। অনেকবার বলার পর এ টাকা পাওয়া গেছে। এসব প্রতিষ্ঠানসহ ব্যাংকগুলো লোকসান হলে পুনর্মূলধন সরকারই দেয়। সরকার অর্থনীতিকে কার্যকর করবে। তাদের সহায়তা করতে হবে।
অর্থবছরের প্রথম মাসে (জুলাই) বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে ব্যয় হয়েছে ৩ হাজার কোটি টাকা। কিন্তু একই সময়ে ব্যাংক থেকে সরকার ঋণ করেছে ১২ হাজার কোটি টাকা। এ বিষয়ে জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, প্রকল্পের যন্ত্রপাতি আমদানি করতে হচ্ছে। মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নে আমদানি বাড়ছে। সেখাতে ব্যয় হচ্ছে। অর্থনৈতিক ভিত্তি দেখতে হবে।
গত ১০ বছরে সামষ্টিক অর্থনীতি এক মিনিটের জন্য থামেনি। তিনি আরও বলেন, জিডিপিতে সারা বিশ্বের সবার উপরে রয়েছে। ভারত, চীনসহ কোন দেশ প্রবৃদ্ধি কত অর্জন করেছে, সেটি দেয়া হয়েছে। এদিকে ভারতের ‘বিজনেস স্ট্যান্ডাটর্’ নামে একটি পত্রিকা রিপোর্ট করেছে আগামী বছরে মাথাপিছু আয় ভারতের সমান হবে।
অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল আরও বলেন, অর্থনীতি খারাপ হলেই রুপির অবমূল্যায়ন হয়। সেদিক থেকে বাংলাদেশ ভালো আছে। দেশে পুঁজিবাজারে বড় ধরনের বিদেশি বিনিয়োগ নেই। অন্যান্য খাতেও কম। এছাড়া উন্নত বিশ্বের মধ্যবিত্তদের চাহিদাকে মাথায় রেখে বাংলাদেশ রফতানি করছে। যে কারণে রফতানি আঘাত আসবে কম। আমাদের ঝুঁকি কম।









