সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:
দীর্ঘদিন থেকে গড়ে তোলা সরকারি তথ্যভাণ্ডারকে সাইবার আক্রমণ থেকে রক্ষার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। এ জন্য ‘বিজিডি ই-গভ. সিআইআরটির (কম্পিউটার ইন্সিডেন্ট রেসপন্স টিম) সক্ষমতা বৃদ্ধি’ নামের একটি প্রকল্প হাতে নিতে যাচ্ছে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ।
এটি বাস্তবায়নে ব্যয় হবে ১৪৬ কোটি ৭১ লাখ টাকা। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে সরকারি দফতরে সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সর্বোপরি জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এটিসহ মোট ১৩টি উন্নয়ন প্রকল্প উপস্থাপন করা হচ্ছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায়। আজ মঙ্গলবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠেয় বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে পরিকল্পনা সচিব মো. নূরুল আমিন সোমবার বলেন, গত ৫ আগস্ট একনেক সভার নোটিশ জারি করা হয়েছে। সেখানে তথ্যভাণ্ডার রক্ষার এ প্রকল্পটিসহ ১৩টি প্রকল্পের তালিকাভুক্ত রয়েছে। এ তালিকার বাইরে টেবিলে কোনো প্রকল্প যাওয়ার সম্ভাবনা নেই। এগুলো থেকেই চূড়ান্ত অনুমোদন পাবে।
পরিকল্পনা কমিশনের একাধিক কর্মকর্তা জানান, প্রকল্পটি প্রস্তাব পাওয়ার পর গত ২২ মে পরিকল্পনা কমিশনে প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় দেয়া সুপারিশগুলো বাস্তবায়ন করে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) পুনর্গঠন করা হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে একনেকে অনুমোদনের সুপারিশ করা হয়েছে। অনুমোদন পেলে চলতি বছর থেকে ২০২৪ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল (বিসিসি)।
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ সূত্র জানায়, রূপকল্প ২০২১ ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নের আওতায় সরকারি কাজের বড় অংশ দ্রুত ডিজিটাইজেশনের মাধ্যমে ই-সেবা, ই-কমার্স, অনলাইন ব্যাংকিং সেবা চালু হয়েছে। জনগণের দোরগোড়ায় ই-সেবা পৌঁছে দিতে সরকার জাতীয় ডাটা সেন্টার স্থাপন ও দেশব্যাপী সব সরকারি দফতরগুলোর মধ্যে নেটওয়ার্ক কানেকটিভিটি সম্পন্ন করেছে।
জাতীয় ডাটা সেন্টার ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অনলাইন সেবাগুলো বিভিন্ন সাইবার আক্রমণে আক্রান্ত হচ্ছে। এসব আক্রমণ থেকে বাংলাদেশ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য অবকাঠামোগুলো নিরাপদ রাখার জন্য বিসিসির আওতায় বিজিডি ই-গভ. সিআইআরটি প্রতিষ্ঠিত হয়। ডিজিটাল বাংলাদেশের আওতায় অর্জনগুলো সুরক্ষিত করার জন্য বিসিসির আইনের কার্যক্রমের আওতায় সাইবার নিরাপত্তা দেয়ার জন্য কম্পিউটার ইন্সিডেন্ট রেসপন্স টিম গঠন করা হয়েছে।
বর্তমানে বিজিডি ই-গভ. সিআইআরটির কার্যক্রম যে এলআইসিটি প্রকল্প থেকে পরিচালিত হতো তার মেয়াদ চলতি বছরের জুনে শেষ হয়েছে। সদ্যসমাপ্ত প্রকল্পের মাধ্যমে পরিচালিত সিআইআরটির কার্যক্রম অব্যাহত রাখা ও সরকারের বিভিন্ন দফতরের নেটওয়ার্ক এবং সংশ্লিষ্ট অবকাঠামোগুলো সাইবার সিকিউরিটি সংক্রান্ত ইন্সিডেন্টগুলো ব্যবস্থাপনা ও নিয়ন্ত্রণ করার পাশাপাশি দেশে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধির মাধ্যমে উদ্ভূত সাইবার ঝুঁকি নিরসনের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য এ প্রকল্প নেয়া দরকার।
সিআইআরটির কার্যক্রমকে পূর্ণাঙ্গ রূপ দেয়ার জন্য এবং সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ক্রিটিক্যাল ইনফ্রাস্ট্রাকচারসহ ন্যাশনাল ডাটা সেন্টারকে নিরাপত্তা দেয়ার জন্য এ প্রকল্প অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। প্রকল্পের প্রধান কার্যক্রমগুলো হচ্ছে, ৩৮টি বিভিন্ন ধরনের সফটওয়্যার সংগ্রহ, ব্যক্তি পরামর্শক নিয়োগ, কম্পিউটার এক্সেসরিজ সংগ্রহ, অফিস ইকুইপমেন্ট ও ফার্নিচার, বৈদেশিক ও স্থানীয় প্রশিক্ষণ, সেমিনার ও কনফারেন্স আয়োজন এবং বিভিন্ন পর্যায়ের জনবল নিয়োগ দেয়া হবে।
এ বিষয়ে প্রকল্পটি দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিকল্পনা কমিশনের আর্থসামাজিক অবকাঠামো বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সদস্য আবুল কালাম আজাদ পরিকল্পনা কমিশনের মতামত দিতে গিয়ে বলেন, এ প্রকল্পের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারের জাতীয় ডাটা সেন্টারে রক্ষিত সরকারের গুরুত্বপূর্ণ তথ্যভাণ্ডার এবং ই-গভর্নমেন্ট অবকাঠামোকে সাইবার ঝুঁকি থেকে রক্ষা সর্বোপরি সরকারি দফতরগুলোকে জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।









