লীড নিউজ

সমন্বয়ক পরিচয়ে সাবেক মন্ত্রী-এমপিদের টার্গেট করতেন রিয়াদ

নিউজ ডেস্ক২৮ জুলাই ২০২৫২ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক :

রাজধানীর গুলশানে গত শনিবার সন্ধ্যায় সংরক্ষিত আসনের সাবেক সংসদ সদস্যের কাছে চাঁদাবাজির সময় চারজনের সঙ্গে হাতেনাতে আটক হন ‘সমন্বয়ক’ আব্দুর রাজ্জাক বিন সুলাইমান রিয়াদ। পুলিশ তাকে গ্রেপ্তারের পর সংশ্লিষ্ট সংগঠনের পদ থেকে তাকে বহিষ্কারও করা হয়েছে।

রিয়াদের বাবা আট বছর আগে রিকশা চালিয়ে সংসার চালাতেন এবং এখন দিনমজুরের কাজ করেন। তবে সন্তান রিয়াদের টার্গেট আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক এমপি মন্ত্রীদের কাছে চাঁদাবাজি করে কোটি টাকা আয়ের।

 ঢাকায় একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে পরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেন এবং আন্দোলনের নেতাদের সঙ্গে গড়ে তোলেন সুসম্পর্ক। এরপর আর ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। এমনকি নিজের চাঁদাবাজি পাকাপোক্ত করতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে ছবি তুলতেন রিয়াদ। কোনো চাকরি বা ব্যবসা না করলেও গত ছয় মাসে রিয়াদ গ্রামে একটি নতুন বাড়ি করেছেন।
অনেকেই বলছেন, ঢাকার গুলশানেও তার প্লট আছে, রয়েছে দামি বাইকও।  তবে এই টাকা আয়ের উৎস কোথায় তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। 

রিয়াদের পাশের বাড়ির এক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘রিকশা চালানোর মাধ্যমে যে পরিবার চলত, দিন এনে দিন খেতে হতো; সেখানে ৫ আগস্টের পর রিয়াদের বিলাসী জীবনযাপন, ছাদ ঢালাই করে পাকা বাড়ি নির্মাণ করা দেখে আমরা অবাক হয়েছি।’

৫ আগস্টের পর নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়ে রিয়াদ নিজেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সরকারি কমিটির সদস্য পরিচয় দিতেন।

সমন্বয়ক রিয়াদের নেতৃত্বে সাবেক সংসদ সদস্য শাম্মী আহমেদের গুলশানে ৮৩ নম্বর রোডের একটি বাসায় তার স্বামীর কাছে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। প্রথমে ১০ লাখ টাকা দিয়ে বাকি টাকা দিতে অসম্মতি জানান। পরে শনিবার রাতে বাসায় গিয়ে বাকি টাকা দাবি করেন। নগদ টাকা দিতে না পারায় স্বর্ণালঙ্কার দিতে বলেন। এসময় গোপনে পুলিশকে জানালে রিয়াদসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে গুলশান থানা পুলিশ।
রিয়াদের সম্পর্কে মায়ের দাবি, সন্তানের পড়াশোনার জন্য এখনো গ্রামের বাড়ি থেকে টাকা পাঠাতে হয়। ছেলের গ্রেপ্তারের খবরে মর্মাহত তারা।