সব খবর

শিশুর পেটব্যথা

নিউজ ডেস্ক২৭ মার্চ ২০১৭৪ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:

শিশুর পেটে ব্যথা হলে মা-বাবা খুব উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। কেননা, শিশুরা পেটব্যথা শুরু হলে কাঁদে এবং কখনো কখনো ব্যথায় কাতরাতে থাকে। আবার পেটব্যথা হলে বেশির ভাগ মানুষ ভাবে—ও কিছু নয়, হয়তো কৃমি হয়েছে। তবে পেটব্যথা হলেই কৃমির সংক্রমণ ভেবে নেওয়া ঠিক নয়।

 

শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. আল-আমিন মৃধা বলেন, শিশুদের পেটব্যথার আছে অনেক কারণ। যেমন: চকলেট, জুস বা বাইরের জীবাণু পেটে গেলে পেটে ব্যথা করে। অনুষ্ঠানের ভারী খাবারও অনেকের সহ্য হয় না। পেটে সংক্রমণ বা গ্যাস, খাবারে অ্যালার্জি, ডায়রিয়া, কোষ্ঠকাঠিন্য, প্রস্রাবে সংক্রমণ, বয়ঃসন্ধিকালের সমস্যা ছাড়াও টিউমার, অ্যাপেন্ডিসাইটিসসহ বিভিন্ন সার্জিক্যাল সমস্যায়ও শিশুর পেটে ব্যথা হতে পারে। বিষয়টিকে তাই উড়িয়ে দেওয়ার কিছু নেই।

পেটে গ্যাস কিংবা সংক্রমণ হলে উপযুক্ত ওষুধে সেরে যায়, তবে শিশুকে এ ধরনের সমস্যা থেকে বাঁচার উপায় শেখানো দরকার। খাওয়ার আগে-পরে এবং টয়লেট ব্যবহারের পর সাবান দিয়ে হাত ধোয়া, স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া, মুখে নোংরা হাত না দেওয়া ইত্যাদি প্রশিক্ষণ দিতে হবে। কৃমি হলে পেটব্যথার সময়টিতে কৃমির ওষুধ না দিয়ে ব্যথা কমার দু-তিন দিন পর খাওয়ানো ভালো।

অকারণে পেটে ব্যথা

৩ থেকে ১০ বছর বয়সী শিশুর ঘন ঘন পেটব্যথার প্রায় ৯০ শতাংশ কোনো অসুখ ছাড়াই ঘটে থাকে, যাকে ‘ফাংশনাল এবডোমিনাল পেইন’ বলে। এ ধরনের ব্যথার নির্দিষ্ট কোনো চরিত্র নেই। মানসিক কারণে সাধারণত এমন সমস্যা হয়ে থাকে। কোথায় ব্যথা—জিজ্ঞাসা করা হলে শিশু সাধারণত নাভির কাছাকাছি চারপাশে আঙুল রাখে। এ জন্য বলা হয়ে থাকে শিশুর পেটে ব্যথার স্থান নাভি হতে যত দূরে থাকবে, ততই ওই ব্যথার সঙ্গে কোনো অসুখ জড়িত থাকার আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়। এ ধরনের পেটব্যথার শিশুরোগী অত্যধিক মানসিক চাপে ভোগে, কিছুটা সিরিয়াস প্রবৃত্তির হয়ে থাকে। শিশু স্কুলে যেতে না চাইলে, পড়া ভালো না লাগলে, পরিবারে অশান্তি থাকলে, বন্ধুরা কোনো বিষয় নিয়ে উত্ত্যক্ত করলে, হঠাৎ বাসা পরিবর্তন বা বন্ধু পরিবর্তন ইত্যাদি কারণে পেটব্যথার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। এই ব্যথা কিন্তু ইচ্ছাকৃত নয়, বরং তার মনের গহিনে যে টানাপোড়েন চলে, তার বহিঃপ্রকাশ ঘটে পেটব্যথার মাধ্যমে। এসব ক্ষেত্রে পরীক্ষা করে কিছু পাওয়া যায় না।

ব্যথা মানসিক নাকি কোনো শারীরিক সমস্যার কারণে?

* তিন বছরের নিচে শিশুর পেটে ব্যথা হলে তা সাধারণত রোগের কারণেই হয়ে থাকে।

* রোগের কারণে ব্যথা হলে শিশুরা সুনির্দিষ্টভাবে ব্যথার জায়গাটা দেখাতে পারে আর মানসিক কারণে হলে সেভাবে দেখাতে পারে না বা একেকবার একেক স্থানে দেখায়।

* ব্যথার সঙ্গে জ্বর, র‍্যাশ, হাড়ে ব্যথা, ওজন কমে যাওয়া ইত্যাদি সমস্যা হলে বুঝতে হবে, অবশ্যই সেই ব্যথার নির্দিষ্ট কারণ রয়েছে।

* ব্যথার কারণে শিশুর ঘুম ভেঙে গেলে কখনোই তা মানসিক নয়।

মনোরোগের কারণে ব্যথা হলে শিশুসন্তানকে মানসিক সমর্থন দিতে হবে। বকাঝকা না করে কারণটা বের করতে হবে।

পেটে গ্যাসের কারণে ব্যথা

পেটে গ্যাস বাচ্চাদেরও হয়, আবার বড়দেরও হয়। বাচ্চারা বলতে পারে না যে তাদের কেমন লাগছে আর তাই আমরা বুঝতেও পারি না। যেমন: ছোট শিশুর জ্বর হলে ঠান্ডা লাগলে আমরা সহজেই বুঝতে পারি, কিন্তু গ্যাস হয়েছে বা পেটের ব্যথায় বাচ্চা কান্নাকাটি করছে, সেটা আমরা সহজেই বুঝতে পারি না।

নবজাতকের পেটে গ্যাস হওয়ার কারণ হলো মায়ের বুকের দুধ খাওয়ানোর ত্রুটির কারণে। এতে বাতাস ঢুকে পেটে গ্যাস হয়। আবার মায়েদের দুধের ল্যাকটোজ ভেঙেও গ্যাস তৈরি হয়। এতে অবশ্য পায়খানা নরম হয়। আবার ফিডারে দুধ পান করার সময় কিছু বাতাস শিশুর পেটে প্রবেশ করে, এতেও গ্যাস হয়। ঢোক গেলার সময়ে পেটে বাতাস প্রবেশ করে নবজাতক শিশুর পেটে গ্যাস হতে পারে। সে ক্ষেত্রে দুধ খাওয়ানোর পর কাঁধের বাঁ বা ডান পাশে নিয়ে শিশুর পিঠের ওপর থেকে নিচের দিকে হাত বুলিয়ে দিতে হবে, এতে বাতাস বের হয়ে যায়।

 এ ছাড়া ছয় মাস বয়সের পর বুকের দুধের পাশাপাশি একটু বাড়তি খাবার দেওয়া হয়। এতেও অনেক সময় পেটে গ্যাস হতে পারে। হঠাৎ নতুন খাদ্যাভ্যাসে খাপ খেতে সময় নেয় বলে কিছুদিন এমন হতে পারে। এতে দুশ্চিন্তার কিছু নেই।

কখন হাসপাতালে নেবেন

ব্যথা যদি খুব তীব্র হয়, অনবরত বমি হয়, পেট শক্ত হয়ে যায়, সে ক্ষেত্রে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে। সুনির্দিষ্ট কারণ জানার আগে শিশুকে কিছুই খাওয়ানো উচিত নয়।

সূত্র: প্রথম আলো