লাইফ স্টাইল

শিশুর ডায়াবেটিস : কিভাবে বুঝবেন এবং করণীয় কী?

নিউজ ডেস্ক২৪ ডিসেম্বর ২০২৪২ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক :

ডায়াবেটিসকে সাধারণত প্রাপ্তবয়স্কদের রোগ হিসেবে দেখা হয়। তবে আশঙ্কার বিষয় হলো, শিশুরাও এই রোগে আক্রান্ত হতে পারে। বিশেষ করে টাইপ-১ ও টাইপ-২ ডায়াবেটিক শিশুদের মধ্যে ক্রমবর্ধমানভাবে দেখা যাচ্ছে। এ বিষয়ে সচেতন হওয়া এবং সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি।

শিশুর ডায়াবেটিসের লক্ষণগুলো কী?

খুব ছোট ডায়াবেটিসের প্রাথমিক লক্ষণগুলো শিশুরা নিজের মুখে বলতে পারে না। তাই বাচ্চাদের আচরণে পরিবর্তন দেখে সতর্ক হতে হবে।

পিপাসা এবং বারবার প্রস্রাব করা : শিশুর পিপাসা বেড়ে গেলে এবং ঘন ঘন প্রস্রাব করলে বিষয়টি নজরে রাখুন।
ক্ষুধা বৃদ্ধি : অতিরিক্ত খিদে পাওয়া ডায়াবেটিসের ইঙ্গিত হতে পারে।

ওজন কমে যাওয়া এবং ক্লান্তি : কোনো কারণ ছাড়াই শিশুর ওজন হ্রাস ও বারবার ক্লান্ত হয়ে পড়া।
মিষ্টি গন্ধযুক্ত শ্বাস : এটি ডায়াবেটিক কিটোঅ্যাসিডোসিসের লক্ষণ।
ইস্ট ইনফেকশন : মেয়েশিশুদের ক্ষেত্রে ঘন ঘন ইস্টজনিত ইনফেকশন হতে পারে।
চিকিৎসা পদ্ধতি
টাইপ-১ ডায়াবেটিক
টাইপ-১ ডায়াবেটিক সাধারণত ৪ থেকে ১৪ বছর বয়সের মধ্যে দেখা যায়।

এটা এ অটোইমিউন রোগ। শরীর নিজের ইনসুলিন উৎপাদন প্রক্রিয়া বন্ধ করে দিলে এই রোগ দেখা দেয়।
চিকিৎসা পদ্ধতি

ইনসুলিন থেরাপি নিয়মিত গ্রহণ কারা যেতে পারে।
নির্দিষ্ট সময় পরপর রক্তের শর্করার পরিমাণ পরীক্ষা করুন।
সুষম খাদ্যাভ্যাস এবং শিশুকে খেলাধুলায় উৎসাহিত করুন।

টাইপ-২ ডায়াবেটিক
আগে টাইপ-২ ডায়াবেটিক প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে বেশি দেখা যেত, তবে বর্তমানে এটি ১৫-১৯ বছর বয়সি কিশোর-কিশোরীদের মধ্যেও ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

চিকিৎসা পদ্ধতি

শিশুর ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুুলুন।
নিয়মিত রক্তের শর্করা পরীক্ষা করান।
শিশুর দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় শৃঙ্খলা আনার চেষ্টা করুন।
নিওনেটাল ডায়াবেটিস
শিশুরা জন্মের আগেই ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হতে পারে। এটা জিনগত কারণে হয়ে থাকে। পিতামাতার মধ্যে ডায়াবেটিসের ইতিহাস থাকলে এর ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।

চিকিৎসা পদ্ধতি

দীর্ঘমেয়াদি ওষুধের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা যেতে পারে।
নিয়মিত জেনেটিক কাউন্সেলিং করান।

করণীয়
ডায়াবেটিস পুরোপুরি নিরাময়যোগ্য না হলেও সঠিক চিকিৎসা ও নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে এর ঝুঁকি কমানো সম্ভব।
খাদ্যাভ্যাস : প্যাকেটজাত ও মিষ্টিজাতীয় খাবার থেকে শিশুদের দূরে রাখুন।
ওজন নিয়ন্ত্রণ : শিশুর ওজন সঠিক রাখতে তাকে শারীরিকভাবে সক্রিয় রাখুন। নিয়মিত খেলাধুলা করতে দিন, হাঁটা বা দৌড়ানোর অভ্যাস তৈরি করুন।
জীবনযাপন পদ্ধতি : সেডেন্টারি লাইফস্টাইল থেকে দূরে থাকুন এবং শারীরিক কার্যকলাপে উৎসাহ দিন।

শিশুর যেকোনো আচরণগত পরিবর্তন দেখলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। সময়মতো সঠিক পদক্ষেপ নিতে পারলে শিশু সুস্থভাবে বড় হতে পারবে।

 

সূত্র: যুগান্তর