অর্থ ও বাণিজ্য

শিল্প-কারখানা খোলা রেখেই লকডাউনের কৌশল নিতে হবে

নিউজ ডেস্ক২৪ এপ্রিল ২০২০২ মিনিট পড়া

একজন অর্থনীতিবিদ হিসেবে আমার ভাবনায় যে বিষয় ঘুরে ফিরে আসছে তা হলো করোনার এই সংকটপূর্ণ সময় ও এ থেকে উত্তরণের পর কিভাবে অনাহারী মানুষের মৃত্যু ঠেকানো যাবে? দেশের উৎপাদন এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় বিপুল ক্ষয়ক্ষতি বিবেচনায় নিয়েই আমাদের লকডাউনে থাকতে হচ্ছে।

তুলনামূলকভাবে দরিদ্র মানুষদের বরাবরই মৌলিক চাহিদা পূরণে হিমশিম খেতে হয়। করোনাভাইরাসের প্রভাবে অতি দরিদ্র মানুষের সংখ্যা আরো বাড়বে, যারা অনাহারে-অর্ধাহারে দিন যাপন করবে। এরই মধ্যে জাতিসংঘ আসন্ন দুর্ভিক্ষের ব্যাপারে সতর্কবাণী দিয়েছে। তাহলে প্রশ্ন আসে—এই দুর্যোগে আমাদের করণীয় কী? কিভাবে আমরা টিকে থাকব?

উত্তরে বলতে হয়, উপায় অবশ্যই আছে। আমরা নিজেরা সচেতন থেকে এই ভাইরাস ছড়ানো প্রতিরোধ করতে পারি। কিন্তু একই সঙ্গে উৎপাদন কার্যক্রম অব্যাহত রাখলে শারীরিক ও মানসিকভাবে এই রোগের বিরুদ্ধে আমাদের লড়াইটাও জোরদার হবে। এবং ব্যাপকভাবে ক্ষুধা ছড়ানো রোধ করা সম্ভব হবে। আমি মনে করি এখনই চলমান লকডাউন কৌশল নিয়ে আলোচনা করা দরকার, যাতে কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া যায়।

আমি চিকিৎসক নই তবে আমি দেখেছি দুর্বল শরীরের অধিকারীরা বাদে স্বাস্থ্যবানরা ভালোভাবেই করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলা করছে। এ কারণে মৃত্যুহারও কম।

এখন সুস্বাস্থ্যের অধিকারীরাও লকডাউনে আছেন কারণ যেকারোর মাধ্যমেই করোনাভাইরাস ছড়াতে পারে। এ জন্যই আমাদের লকডাউন কৌশল নিয়ে আরো ভাবতে হবে যেন স্বাস্থ্যবানরা করোনাভাইরাস মোকাবেলা করে পুরোদমে কাজ করতে পারেন।

একটাই উপায় হতে পারে তা হলো— শিল্প-কারখানা সচল রেখে লকডাউন কৌশল করা গেলে ভবিষ্যতের বড় অর্থনৈতিক বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হবে। পরীক্ষামূলকভাবে সেই চেষ্টা করা যেতে পারে। শিল্প শ্রমিকদের লকডাউনে থেকে কাজের অনুমতি দেওয়া যেতে পারে। শিল্পোদ্যোক্তারা এ বিষয়টি ভেবে দেখতে পারেন। আপনারা স্বাস্থ্যবান লোকদের কাজে ডাকতে পারেন সেই সঙ্গে তাঁদের পরামর্শ দিতে পারেন কিভাবে এই ভাইরাস মোকাবেলা করে তাঁরা কাজ করতে পারবেন। এর ফলে অর্থনীতির চাকা সামনে এগোবে।

 

সুত্রঃ কালের কণ্ঠ