লাইফ স্টাইল

শরীরের পাশাপাশি মনও ভালো রাখবে যেসব খাবার

নিউজ ডেস্ক১০ এপ্রিল ২০২৫৩ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক :

প্রতিবছর ৭ এপ্রিল পালিত বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস। কয়েক দিন আগেই দিনটি অতিবাহিত হয়েছে। এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে স্বাস্থ্য শুধু শারীরিক স্বাস্থ্যের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ নয়, বরং মানসিক স্বাস্থ্যের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পুষ্টিবিদদের মতে, আজকের সময়ে যেখানে মানসিক চাপ, উদ্বেগ ও বিষণ্নতার মতো মানসিক ব্যাধিগুলো বেশি হয়ে উঠেছে, সেখানে একটি ভালো খাদ্যাভ্যাস শুধু শরীরকেই সুস্থ রাখে না, মনকেও শান্ত ও সক্রিয় রাখে।

আজ এই প্রতিবেদনে এমন খাবার সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক, যা মানসিক ও শারীরিক উভয় স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। আর এগুলো সহজেই আপনার খাদ্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে পারেন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, স্বাস্থ্য হলো সম্পূর্ণ শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক সুস্থতার একটি অবস্থা, যা কেবল রোগ ও দুর্বলতার অনুপস্থিতি নয়। পুষ্টিবিদরা জানান, শরীরকে সুস্থ রাখার যে গুরুত্ব দেওয়া হয় তার থেকেও বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর।

তাই শরীর ও মন ভালো রাখতে কী কী খাবেন জেনে নিন—

আখরোট : আখরোটে ওমেগা-থ্রি ফ্যাটি এসিড পাওয়া যায়, যা মস্তিষ্কের কোষগুলোকে শক্তিশালী করে এবং স্মৃতিশক্তি তীক্ষ্ণ করে। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিদিন ৪-৫টি আখরোট খেলে মানসিক চাপ কমে এবং মেজাজ ভালো থাকে।

কিভাবে খাবেন

সকালে খালি পেটে ৪-৫টি আখরোট পানিতে ভিজিয়ে খান। এগুলো সালাদ বা স্মুদিতেও যোগ করতে পারেন।

ডার্ক চকোলেট : ডার্ক চকোলেট কেবল মেজাজই উন্নত করে না, বরং এতে উপস্থিত ফ্ল্যাভোনয়েড ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট মানসিক ক্লান্তি দূর করে এবং জ্ঞানীয় কার্যকারিতা উন্নত করে।

কিভাবে খাবেন

দিনে একবার ২০-৩০ গ্রাম ডার্ক চকোলেট খান। তবে এটি কমপক্ষে ৭০% কোকো থাকা প্রয়োজন।

সবুজ শাক-সবজি : পালং শাক, মেথি ও সরিষার মতো সবুজ শাক-সবজিতে প্রচুর পরিমাণে ফোলেট, আয়রন ও ভিটামিন-কে থাকে, যা মনকে তীক্ষ্ণ ও শরীরকে উদ্যমী রাখে।

কিভাবে খাবেন

এই সবজিগুলো আপনার খাদ্যতালিকায় সবজি, পরোটা বা স্যুপ আকারে অন্তর্ভুক্ত করুন।

দিনে একবার এটি খেতে ভুলবেন না। তবে শাক চেষ্টা করবেন দিনের বেলা খাওয়া। রাতে শাক অনেক সময় হজমের সমস্যা হতে পারে।
ডিম : ডিমে কোলিন নামক একটি উপাদান পাওয়া যায়, যা মস্তিষ্কের কোষ গঠনে সাহায্য করে। এটি স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি করে এবং ঘনত্ব উন্নত করে।

কিভাবে খাবেন

ব্রেকফাস্টে সেদ্ধ ডিম, অমলেট অথবা এগ-টোস্ট খেতে পারেন। দিনে ১-২টি ডিমই যথেষ্ট।

দই : দইয়ে থাকা প্রো-বায়োটিক পাকস্থলির পাশাপাশি মস্তিষ্কের জন্যও উপকারী। একটি সুস্থ অন্ত্র মনকেও শান্ত রাখে।

কিভাবে খাবেন

দুপুরের খাবারে এক বাটি দই খান অথবা স্মুদিতে মিশিয়ে নিন।

ফ্ল্যাক্স সিড : ফ্ল্যাক্স সিডে ওমেগা-থ্রি, ফাইবার ও লিগনান থাকে, যা হৃৎপিণ্ড ও মস্তিষ্ক উভয়ের জন্যই উপকারী। এটি মেজাজের পরিবর্তন এবং উদ্বেগ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।

কিভাবে খাবেন

১ চা চামচ তিসির বীজ ভেজে গুঁড়া করে নিন এবং দই, পোরিজ বা শেকে মিশিয়ে খান।

বেরি : ব্লুবেরি, স্ট্রবেরি ও পেয়ারার মতো বেরিগুলোতে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট থাকে, যা মস্তিষ্কের প্রদাহ কমায় এবং মানসিক ক্লান্তি দূর করে।

কিভাবে খাবেন

আপনি ব্রেকফাস্টে দই বা দইয়ের সঙ্গে মিশিয়ে খেতে পারেন অথবা চাইলে সকালের নাশতা হিসেবেও খেতে পারেন।

হলুদ : হলুদে পাওয়া কারকিউমিন মস্তিষ্কের প্রদাহ কমায় এবং মস্তিষ্কের কোষগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া থেকে রক্ষা করে। এটি বিষণ্নতা ও উদ্বেগ দূরে রাখতেও সহায়ক।

কিভাবে খাবেন

প্রতিদিন রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে হলুদের দুধ পান করা একটি ভালো অভ্যাস। তাই ঘুমানোর আগে এভাবে দুধ খাওয়া উচিত।

 

সূত্র: কালের কণ্ঠ