নিজস্ব প্রতিবেদক:
হালকা সবুজ রঙের ফুল। শাখা-প্রশাখা। তার পরে ফুল থেকে গুটিতে পরিণত হয়েছে। ফুল থেকে গুটি হতে ঘানিকটা সাহায্য করেছে বৈশাখের হালকা বৃষ্টি। এই বৃষ্টিতে দিয়েছে নবযৌবন। আর গুটিগুলো রূপ নিয়েছে লিচুতে। রসালো লিচুতেও সম্ভাবনার স্বপ্ন দেখছেন রাজশাহীর কৃষকেরা। রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর বলছে, বর্তমানে রাজশাহী জেলার ৪৭৬ হেক্টর জমিতে লিচুর বাগান রয়েছে।
রাজশাহীর পবা উপজেলার মথুরা গ্রামের কৃষক হাসান আলী বলেন, আমের মুকল আসে। আর লিচুর আসে ফুল। সেখান থেকেই গুটি বাঁধে লিচু। এরপর ধীরে ধীরে পরিণত হয়। সাধারণত হালকা ঠাণ্ডা আবেশে লিচুর ফুল ভালো হয়। আর ফুল ফোটার পর বৃষ্টি না হলে তা ঝরেও পড়ে না।

রাজশাহীতে লিচুর আবাদ বাড়ছে। পবা ছাড়াও রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ী, বাগমারা, বাঘা, চারঘাট, পুঠিয়া ও দুর্গাপুরে আগের চেয়ে বেশি লিচু চাষ হচ্ছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, মহানগরীর ছোটবোনগ্রাম, কাটাখালী, বুধপাড়া, রায়পাড়া ও বুলনপুর এলাকাতেও বর্তমানে বাণিজ্যিকভাবে লিচুর চাষ শুরু হয়েছে। এছাড়া প্রতিটি বাগানের গাছগুলোতে এখন থোকায় থোকায় লিচুর সবুজ গুটি ঝুলে আছে। যার শোভায় সবুজ প্রকৃতি আরও সবুজ হয়ে উঠেছে।
রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর বলছে, গেলো কয়েক বছরে আমের পাশাপাশি শুধু লিচু চাষ করেই জেলার শতাধিক চাষি স্বনির্ভর হয়ে উঠেছেন। এখন ছোট-বড় মিলিয়ে রাজশাহী শহরেই শতাধিক লিচুর বাগান রয়েছে। বাগান ছাড়াও বসতবাড়িতে দেশি লিচুর পাশাপাশি উচ্চ ফলনশীল চায়না-৩ এবং বোম্বে ও মাদ্রাজি জাতের লিচু চাষ হচ্ছে। তাই হালে লিচু চাষও জনপ্রিয়তা পেয়েছে এ অঞ্চলে।
রাজশাহী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক (ডিডি) দেব দুলাল ঢালি বলেন, গত ৪/৫ বছরে বছরে এই জেলায় লিচু চাষ বেড়েছে। কেবল আম ও লিচুর চাষ করেই বছরজুড়ে স্বচ্ছল থাকছেন অধিকাংশ কৃষক। তাই ধীরে ধীরে লিচু চাষেও কৃষকের আগ্রহ বাড়ছে। লিচু চাষ করে অনেক কৃষক স্বাবলম্বী হয়ে ওঠায় এবার লিচুতেও নীরব বিপ্লব ঘটতে চলেছে।
বর্তমানে রাজশাহী জেলার ৪৭৬ হেক্টর জমিতে লিচুর বাগান রয়েছে। এখন কেবল তাপপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার ভয় রয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার লিচুর বাম্পার ফলন হবে বলেও ধারণা দেন রাজশাহী কৃষি বিভাগের এই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।
স/আ









