সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক :
জ্বালানি তেলের রেশনিং ব্যবস্থার জাঁতাকলে পিষ্ট হচ্ছে দেশের অর্থনীতির চাকা। প্রয়োজনের তুলনায় নগণ্য পরিমাণ ডিজেল বরাদ্দ পাওয়ায় বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যসহ নৌপথে পণ্য পরিবহন। এ অবস্থায় রেশনিং সিস্টেম তুলে দিয়ে ঢাকা ও চট্টগ্রামের গার্মেন্টস কারখানা এবং অফডকগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় ডিজেল বরাদ্দের দাবিতে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে আলাদা চিঠি দিয়েছে তৈরি পোশাক মালিকদের সংগঠন ‘বিজিএমইএ’ এবং বেসরকারি ডিপো মালিকদের সংগঠন ‘বিকডা’।
রেশনিং প্রথা তুলে ডিজেল দিনবর্তমানে ভয়াবহ লোডশেডিংয়ের কবলে পড়ে গার্মেন্টস কারখানাগুলোতে উৎপাদন সচল রাখতে জেনারেটরই একমাত্র ভরসা।

কিন্তু রেশনিং সিস্টেমের কারণে বিশাল আকৃতির এসব জেনারেটর চালানোর মতো পর্যাপ্ত ডিজেল মিলছে না। ফলে ব্যাহত হচ্ছে রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা।
বিজিএমইএর পরিচালক রাকিবুল আলম চৌধুরী বলেন, ‘কারখানায় জেনারেটরের জন্য যে পরিমাণ জ্বালানি প্রয়োজন, সরবরাহ তার ধারেকাছেও নেই। এ কারণে বিজিএমইএ থেকে সরকারকে আবেদন জানানো হয়েছে, যাতে রেশনিং প্রথা শিথিল করে জেনারেটর চালানোর জন্য পর্যাপ্ত ফুয়েল দেওয়া হয়।
’
দেশের রপ্তানি পণ্যের শতভাগ জাহাজীকরণ এবং ৬৫ ধরনের আমদানি পণ্য খালাস হয় ২১টি বেসরকারি অফডক (ডিপো) থেকে। এসব ডিপোতে প্রতিদিন এক হাজার ১০০-এর বেশি প্রাইম মুভার ও কনটেইনার হ্যান্ডলিং যন্ত্রপাতির জন্য প্রায় ৬০ থেকে ৬৫ হাজার লিটার ডিজেল প্রয়োজন।
অফডক মালিকদের সংগঠন বিকডার মহাসচিব রুহুল আমিন সিকদার উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘ডিজেল না পাওয়ায় ডিপোগুলোতে কনটেইনার জট তৈরি হচ্ছে। অভ্যন্তরীণ আমদানি পণ্য পরিবহনেও সংকট দেখা দিয়েছে।
দ্রুত সমাধান না হলে উভয় খাতেই বড় ধরনের ক্ষতি হয়ে যাবে। আমরা সরকারের কাছে ডিজেলের যথাযথ বরাদ্দ চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছি।’
চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙর থেকে পণ্য খালাসে নিয়োজিত প্রায় এক হাজার ১০০ লাইটারেজ জাহাজের চিত্র আরো ভয়াবহ। দৈনিক দুই থেকে আড়াই লাখ লিটার ডিজেল প্রয়োজন হলেও মিলছে মাত্র এক লাখ লিটারের কম।
বিআইডব্লিউটিসির মুখপাত্র পারভেজ আহমেদ বলেন, ‘একটি জাহাজের গন্তব্যে যেতে তিন হাজার লিটার তেল দরকার হলে সে পাচ্ছে মাত্র ৫০০ লিটার।
এই পরিমাণ তেল নিয়ে পণ্য লোড করা গেলেও গন্তব্যে পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না। কারণ নৌপথে তো আর তেলের কোনো ডিপো নেই।’ বাংলাদেশ ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট কো-অর্ডিনেশন সেলও এরই মধ্যে জ্বালানি মন্ত্রণালয়ে চিঠির মাধ্যমে বরাদ্দ বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছে।









