একাত্তরে মহান মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী রাজাকার, আলবদর ও আলশামসের সদস্যদের তালিকা প্রণয়নের সুযোগ রেখে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল আইন-২০২০-এর খসড়া অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে বিদ্যমান আইনটি রহিত করে নতুন আইনের খসড়া অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন প্রক্রিয়া শেষে এটি জাতীয় সংসদে পাস হলে পরে এটি আইনে পরিণত হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্ব ভার্চ্যুয়াল এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
পরে সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বৈঠকের সিদ্ধান্ত জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ থেকে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় যারা রাজাকার, আলবদর, আলশামস বাহিনীর সদস্য হিসেবে কর্মকাণ্ডে লিপ্ত ছিল বা আধা সামরিক বাহিনীর সদস্য হিসেবে সশস্ত্র যুদ্ধে নিয়োজিত থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা বা মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছে, তাদের তালিকা প্রণয়ন ও গেজেট প্রকাশের জন্য সরকারের কাছে সুপারিশ করবে মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল। বিদ্যমান আইনে এই বিধান নেই। রাজাকারের তালিকা প্রণয়নে আজকের মন্ত্রিসভার বৈঠকে কোনো সিদ্ধান্ত হয়েছে কি না জানতে চাইলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, আগে আইনটি হোক। বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনা হয়নি। এ ছাড়া প্রস্তাবিত আইনে আগের মতো প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা প্রণয়ন, অসত্য তথ্যের ভিত্তিতে তা করলে ব্যবস্থা নেওয়াসহ বিভিন্ন বিধান রাখা হয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘২০০২ সালে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল আইন ছিল। সেই আইন পরিপূর্ণভাবে বর্তমান সময়ের চাহিদা পূরণ করতে পারছিল না। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল আইনের খসড়া করেছে। এই আইন পাস হলে আগের আইন বাতিল হয়ে যাবে।’
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘আইনের খসড়ায় মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধা সংগঠনের নিবন্ধন কীভাবে হবে, মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযুদ্ধ সংশ্লিষ্ট বিদ্যমান সংগঠনের নিবন্ধনের বিধান, কাউন্সিলের কার্যকলাপ পরিচালনা, কীভাবে অর্থায়ন হবে, কাউন্সিলের তহবিল ও বাজেট কীভাবে হবে এসব বিষয় রাখা হয়েছে। আগের আইনকে বদলে এ আইন করা হচ্ছে।’
নতুন আইন অনুযায়ী অসত্য তথ্যের ভিত্তিতে গেজেটভুক্ত ও সনদপ্রাপ্ত অমুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করবে।
কী ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করা হবে জানতে চাইলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘এটা ডিপেন্ড করবে কেমন অপরাধ করেছে তার ওপর। শুধু সার্টিফিকেট নিয়েছে নাকি অন্য সুবিধা নিয়েছে, নাকি দুটোই নিয়েছে বা তার সন্তানরাও সুযোগ-সুবিধা নিয়েছেন কিনা, আইন অনুযায়ী শাস্তির সুপারিশ করা হবে। দণ্ডবিধি অনুযায়ী এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা প্রণয়ন ও গেজেট প্রকাশের জন্য সরকারের কাছে সুপারিশের কথাও খসড়া আইনে বলা আছে। আগের আইনেও এই বিধান ছিল।’
রাজাকারের তালিকার বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘রাজাকারের তালিকা করার বিষয়টি খসড়া আইনে রাখা হয়েছে। আইনে সব বিষয়ে ডিটেইল করা নেই, এটা রুল (বিধি) করবে। স্বাধীনতাবিরোধী বলতে কী বোঝাবে রুলে তা বিস্তারিত বলা থাকবে। আগে আইন হোক, এরপর বিধি করবে। কীভাবে এই তালিকা করা হবে তা নিয়ে আলোচনা হয়নি।’
সূত্রঃ যুগান্তর ,বাংলাদেশ প্রতিদিন









