সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক :
বর্তমান প্রযুক্তিনির্ভর জীবনে মোবাইল ফোন মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অপরিহার্য অংশ হয়ে উঠেছে। যোগাযোগ, কাজকর্ম এবং প্রয়োজনীয় তথ্য আদান-প্রদানের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। কিন্তু এই প্রযুক্তির ব্যবহারের মধ্যেও শরিয়তের দৃষ্টিকোণ থেকে কিছু আদব ও বিধান রয়েছে, যা একজন মুসলমানের জানা ও মেনে চলা জরুরি। বিশেষ করে মোবাইলের রিংটোনে গান বা বাদ্যযন্ত্রের সুর ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে—এটি কি গুনাহ? আর অনিচ্ছাকৃতভাবে এমন শব্দ শুনলে তার হুকুম কী?
শরিয়তে বাদ্যযন্ত্র ও মিউজিকযুক্ত সংগীত সুস্পষ্ট হারাম।

তাই মোবাইলের রিংটোন হিসেবে গান বা মিউজিক ব্যবহার করা আদবের পরিপন্থী এবং তা পরিহার করা জরুরি। তবে যদি কারও ফোনে শুধুমাত্র মিউজিকযুক্ত রিংটোনই থাকে এবং বিকল্প না থাকে, তবে কল আসার সময় অনিচ্ছাকৃতভাবে তা শোনা হলে এতে গুনাহ হবে না। কারণ এখানে উদ্দেশ্য গান শোনা নয়, বরং কল গ্রহণ করা। কিন্তু যদি সহজেই মিউজিক ছাড়া রিংটোন ব্যবহার করা সম্ভব হয়, তাহলে মিউজিক ব্যবহার করা অনুচিত ও গুনাহের অন্তর্ভুক্ত হতে পারে, কারণ এতে অপ্রয়োজনীয়ভাবে হারাম বা অপছন্দনীয় বিষয়ের ব্যবহার করা হচ্ছে।
ফিকহের কিতাবে এসেছে, ‘বাদ্যযন্ত্র ও অনুরূপ বিষয় শোনা হারাম, তবে অনিচ্ছাকৃতভাবে হঠাৎ শুনে ফেললে ব্যক্তি ক্ষমার যোগ্য। তবে তাকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে হবে যেন সে এমন কিছু শোনা থেকে নিজেকে রক্ষা করে।’ (রদ্দুল মুহতার, খন্ড : ৯, পৃষ্ঠা : ৫৬৬, ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়্যা, খন্ড : ৫, পৃষ্ঠা : ৩৫৪)
একজন সচেতন মুসলমানের জন্য উত্তম হলো এমন রিংটোন ব্যবহার করা যা শরিয়তের দৃষ্টিতে আপত্তিকর নয়। যেমন, সাধারণ নোটিফিকেশন টোন, ফোনের ডিফল্ট সাউন্ড অথবা কোনো শব্দবিহীন ভাইব্রেশন মোড।
এগুলো ব্যবহার করলে গুনাহের সন্দেহ থেকেও বেঁচে থাকা যায় এবং অন্যদের বিরক্তির কারণও হয় না। বিশেষ করে মসজিদ, মজলিস বা ইবাদতের পরিবেশে মিউজিকযুক্ত রিংটোন আরও বেশি অনুচিত। (কারাতাশি, খন্ড : ৬, পৃষ্ঠা : ৩৯৫, হিদায়া, খন্ড : ৪, পৃষ্ঠা : ৪৭৫)
তাই আমাদের উচিত, প্রযুক্তির ব্যবহারকে শরিয়তের আলোকে নিয়ন্ত্রণ করা এবং অপ্রয়োজনীয়ভাবে হারাম বা সন্দেহজনক বিষয় থেকে দূরে থাকা। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে সচেতনতা দান করুন, হালাল ও পবিত্র জীবনযাপন করার তাওফিক দিন। আমিন।









