ধর্ম

মুখে শিশ বাজালে কী গুনাহ হবে

নিউজ ডেস্ক৬ মে ২০২৬২ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক :

মানুষের জীবন নানা অভ্যাস, আচরণ ও দৈনন্দিন ছোট ছোট কর্মকাণ্ডের সমষ্টি। কখনো সচেতনভাবে, আবার কখনো অচেতনভাবেই আমরা অনেক কিছু করে ফেলি। যার কিছু ভালো, কিছু অনর্থক, আবার কিছু শরীয়তের দৃষ্টিতে পরিত্যাজ্য। তেমনই একটি বিষয় হলো, মনের অজান্তে বা অচেতনভাবে মুখ দিয়ে শিশ বাজানো, প্রশ্ন হলো, এতে কি গুনাহ হবে?
ইসলাম মানুষের আচার-আচরণ, সংস্কৃতি ও অভ্যাসের দিকেও সূক্ষ্ম দৃষ্টি দেয়।

তাই ইসলামের দৃষ্টিতে কিছু কাজ এমন আছে, যেগুলো সরাসরি হারাম না হলেও তা অনুচিত, অশোভন বা ফাসেক-ফুজ্জারদের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত। অপ্রয়োজনে শিশ বাজানোও সেই ধরনের একটি কাজ হিসেবে আলেমরা বিবেচনা করে থাকেন। কেননা, হাদিসে এসেছে, ইবনে ওমর (রা.) বর্ণনা করেন, মহানবী (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি কোনো জাতির অনুকরণ করে, সে তাদেরই একজন।’ (সুনান আবি দাউদ, হাদিস : ৪০৩১)
এই হাদিস থেকে বোঝা যায়, মুসলমানের উচিত এমন সব কাজ থেকে বিরত থাকা, যা অসৎ বা অবাধ্য লোকদের সংস্কৃতি ও আচরণের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।

প্রাচীনকাল থেকে শিশ বাজানোকে অনেক সময় ফাসেক-ফুজ্জারদের আমোদ-প্রমোদের অংশ হিসেবে দেখা হয়েছে। ফিকহের গ্রন্থগুলোতে উল্লেখ আছে যে, নাচ, ঠাট্টা-বিদ্রূপ, হাততালি এবং বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র-যেমন তানবুর, রাবাব, মিজমার ইত্যাদি-এসবকে অপছন্দনীয় (মাকরূহ) বলা হয়েছে। কারণ এগুলো সাধারণত অশ্লীল বা গুনাহপূর্ণ পরিবেশের সঙ্গে সম্পৃক্ত। একইভাবে, এই ধরনের কাজ শোনা বা উপভোগ করাও নিরুৎসাহিত করা হয়েছে।
তবে যদি কেউ অনিচ্ছাকৃতভাবে এগুলো শুনে ফেলে, তাহলে তাকে গুনাহগার গণ্য করা হয় না। তবে শর্ত হলো, সে তা এড়িয়ে চলার চেষ্টা করবে। (রাদ্দুল মুহতার, খন্ড : ৯, পৃষ্ঠা : ৫৬৬, কারতাশি ও দারুল ফিকর, খন্ড : ৬, পৃষ্ঠা : ৩৯৫)
এখন প্রশ্ন আসে, মনের অজান্তে যদি মুখ দিয়ে শিশ বের হয়ে যায়, তাহলে কি গুনাহ হবে? এর উত্তর হলো, ইসলাম মানুষের ইচ্ছা ও নিয়তকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়। যদি কোনো কাজ সম্পূর্ণ অনিচ্ছাকৃতভাবে, অভ্যাসবশত বা অজান্তে হয়ে যায়, তাহলে সাধারণত তার জন্য গুনাহ হয় না। কারণ আল্লাহ তাআলা বান্দার ওপর এমন কোনো বোঝা চাপান না, যা তার সাধ্যের বাইরে।

তবে এটাও সত্য, একজন সচেতন মুসলমানের উচিত নিজের অভ্যাসগুলোকে পরিশুদ্ধ করা এবং ধীরে ধীরে এমন কাজগুলো পরিত্যাগ করা, যা ইসলামী শালীনতা ও আদর্শের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
সুতরাং আমাদের উচিত—নিজের আচরণকে পরিমার্জিত করা, উত্তম অভ্যাস গড়ে তোলা এবং এমন সব কাজ বর্জন করা, যা আমাদের চরিত্র ও ইসলামী পরিচয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এতে করে আমরা দুনিয়া ও আখিরাতে কল্যাণ লাভ করতে পারব। ইনশাআল্লাহ।