ধর্ম

মাহে রমজান পরিশুদ্ধ জীবন গঠনের অনুশীলন

নিউজ ডেস্ক২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬২ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক :

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি (প্রকৃত) ঈমানসহকারে এবং ইহতিসাব অর্থাৎ একান্ত সওয়াব লাভ, মতান্তরে আত্মপর্যালোচনার মাধ্যমে সংশোধনের উদ্দেশ্যে রামাদানের রোজা রাখবে, তার পূর্ববর্তী সব পাপ ক্ষমা করে দেওয়া হবে। (অনুরূপভাবে) যে ব্যক্তি ঈমান ও ইহতিসাবসহকারে রামাদানে (রাতে) কিয়াম (সালাত আদায়) করবে, তার পূর্ববর্তী সব পাপই ক্ষমা করে দেওয়া হবে।’ (বুখারি)

১. আসুন, ঈমানি চেতনাসমৃদ্ধ সুন্দর ও পরিশুদ্ধ জীবন গঠন এবং সত্যিকার মানুষ ও আল্লাহর একনিষ্ঠ বান্দারূপে জীবনযাপনের মহান প্রত্যয় নিয়ে শুরু করি পবিত্র মাহে রামাদানের সিয়াম সাধনা ও কিয়াম (সালাতুত তারাবি)।

২. আসুন, পবিত্র কোরআন নাজিলের এ মাসে বেশি বেশি কোরআন তিলাওয়াত করি, সাধ্যমতো বুঝে পড়ার চেষ্টা করি এবং কোরআনের শিক্ষার আলোকে জীবন গঠনের শপথ গ্রহণ করি।

৩. আসুন, ঈমান শাণিত করার এ মাসে একটু গভীরভাবে ভেবে দেখি, আমাদের ঈমান ও আমল তাওহিদি চেতনায় কতটুকু ঋদ্ধ? আমরা কি ছোট-বড় এবং প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য সব ধরনের শিরকের ছোবল থেকে নিজেকে

সম্পূর্ণরূপে মুক্ত রাখতে পেরেছি?

উল্লেখ্য, শিরকি ধারণা মিশ্রিত কোনো ইবাদতই আল্লাহর কাছে কবুল হবে না।

৪. আসুন, আত্মশুদ্ধির দীর্ঘ অনুশীলনের এ মাসে নিজের প্রবৃত্তিকে রামাদানের দহনক্রিয়ায় পুড়িয়ে যাবতীয় অসৎ গুণ ও স্বভাব থেকে পরিশুদ্ধ করি; যেকোনো মিথ্যাচার, পরনিন্দা, কাদা ছোড়াছুড়ি ও পাপাচার থেকে বিরত থাকি এবং যেকোনো জাহিলি (অমানবিক) চিন্তা ও কর্ম পরিহার করি।

৫. আসুন, ফজিলতের এ মাসে আল্লাহর প্রতি পূর্ণ ভালোবাসা, ভয় ও বিনয় এবং নিষ্ঠা ও একাগ্রতাসহকারে বেশি বেশি ইবাদত করতে শিখি।

উল্লেখ্য, এসব বৈশিষ্ট্য ব্যতীত কোনো ইবাদতই আল্লাহর কাছে যথাযোগ্য পুরস্কার লাভের উপযোগী নয়।

৬. আসুন, সহমর্মিতা প্রদর্শনের এ মাসে অন্যকে ভালোবাসতে, ক্ষমা করতে ও সহযোগিতা করতে শিখি এবং অসহায় ও অভাবীদের পাশে দাঁড়াই।

উল্লেখ্য, মানুষের উপকার সাধন আল্লাহর একটি অতি প্রিয় কাজ।

৭. আসুন, ইহতিসাবের এ মাসে গভীরভাবে আত্মপর্যালোচনা করি, আমাদের সব ইবাদত ও কাজ কি একমাত্র আল্লাহর জন্যই নিবেদিত? তাঁর সন্তুষ্টি অর্জন ও প্রতিদান লাভই কি আমাদের একমাত্র উদ্দেশ্য? নাকি এগুলোর পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য বা স্বার্থ লুকায়িত আছে?