অর্থ ও বাণিজ্য

মাসে ৮০০ কোটি টাকা লোকসান গুনছেন নিটিং ব্যবসায়ীরা

নিউজ ডেস্ক৩১ ডিসেম্বর ২০১৯২ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:

সময়মতো বায়াররা (ক্রেতা) ক্রয়কৃত নিটিং পণ্যের বিল পরিশোধ না করায় নারায়ণগঞ্জে নিটিং ব্যবসায় মাসে ৮০০ কোটি টাকা লোকসান গুনছেন ব্যবসায়ীরা।

এতে এ ব্যবসা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে প্রায় অর্ধশতাধিক ব্যবসায়ী। সোমবার সকালে ফতুল্লার বিসিক শিল্পনগরীতে অবস্থিত বাংলাদেশ নিটিং ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেওএ) ভবনে বার্ষিক প্রতিবেদন সভায় ব্যবসায়ীদের বক্তব্যে এ তথ্য উঠে এসেছে।

সংগঠনের সভাপতি সেলিম সারোয়ারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন সিনিয়র সহসভাপতি আবুল বাশার, সহসভাপতি রকিবুল হাসান রাকিব, নিজাম মুন্সি, মাহবুব-উল আনোয়ার, পরিচালক আবু বককর সিদ্দিক, গোলাম মাওলা, জাহিদুল আলম, খাইরুল ইসলাম, নির্মল চন্দ্র রায়, ইব্রাহীম চেঙ্গীস প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, ব্যবসায়ীদের মধ্যে ঐক্য না থাকায় কোন কোন ব্যবসায়ী কম মজুরিতে ওয়ার্ক অর্ডার নিচ্ছেন।

যে মজুরিতে তারা অর্ডার নিচ্ছেন ওই মজুরিতে তাদের লাভ তো দূরের কথা প্রায় ৩-৪ টাকা লোকসান গুনতে হয়।

অথচ টিকে থাকতে কিছু ব্যবসায়ী কম মজুরিতেই অর্ডার নিয়ে অন্য ব্যবসায়ীদের পথে বসাচ্ছেন। বক্তারা আরো বলেন, অনেক গার্মেন্ট ব্যবসায়ী অর্ডার দিয়ে অর্ধেক বা তারও বেশি মজুরি বাকি রেখে মাল তৈরি করে নিয়ে যায়।

এ দেই দিচ্ছি করে কালক্ষেপণ করেন। নির্ধারিত সময়ে বিল না পেয়ে অনেকেই কারখানা বন্ধ করে অন্য ব্যবসায় চলে গেছেন।

এভাবে গত ছয় মাসে নারায়ণগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রায় অর্ধশত নিটিং কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে।

বাংলাদেশ নিটিং ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সেলিম সারোয়ার আরও বলেন, নিটিং ব্যবসায়ীদের মধ্যে ঐক্য নেই। ফলে কেউ কেউ গোপনে কম মজুরিতে কাজের অর্ডার নিচ্ছেন।

এ কারণে মাসে প্রায় ৮০০ কোটি টাকা নিটিং ব্যবসায়ীদের লোকসান গুনতে হচ্ছে। নিটিং ব্যবসায়ীদের মন্দা কাটিয়ে উঠতে নিটিং মূল্য নির্ধারনে ৭৮ সদস্য উপকমিটি গঠন করা হয়েছে।

চেষ্টা করছি দ্রুত এ সমস্যা সমাধান করে ব্যবসায়ীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে। আর যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে কারখানা বন্ধ করে ব্যবসা গুটিয়ে নিয়েছে তাদের কাছে অনুরোধ করব– নিটিং ব্যবসায় ফিরে আসার।