ধর্ম

মানবকল্যাণ ছিল মহানবী (সা.)-এর অনুপম আদর্শ

নিউজ ডেস্ক১২ নভেম্বর ২০১৯২ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী বা মহানবী (সা.)-এর দুনিয়ায় শুভাগমন দিবস উপলক্ষে গত রবিবার মাইজভাণ্ডার দরবার শরিফের ইমাম শাহ্সূফী মাওলানা সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল-হাসানীর নেতৃত্বে মিরপুর-১ থেকে বের হয় বিশাল জশনে জুলুস বা শোভাযাত্রা। পরে সরকারি বাঙলা কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত শান্তি মহাসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন তিনি।

মহাসমাবেশে আল-হাসানী বলেন, ‘শান্তি, সম্প্রীতি ও মানবকল্যাণই ছিল মহানবী (সা.)-এর অনুপম আদর্শ। তাঁর জীবনাদর্শ অনুসরণ এবং যথাযথ স্মরণের মাধ্যমে আমরা জাগতিক জীবনে শান্তি এবং পরকালীন অনন্ত জীবনেও মুক্তির দিশা পেতে পারি।’

তিনি বলেন, ‘মানবজাতিসহ সমগ্র সৃষ্টিজগতের মাঝে আজ অফুরান আনন্দের হিল্লোল বয়ে যাচ্ছে। কেননা ১২ রবিউল আউয়ালের এই দিনে পুরো জগেক আলোকিত করে পৃথিবীতে এসেছেন মানবজাতির মুক্তির দিশারি হজরত মুহাম্মদ (সা.)। তিনি যখন দুনিয়ায় আগমন করেন তখন ছিল তমসাচ্ছন্ন তথা আইয়্যামে জাহেলিয়াতের যুগ। আরবের গোত্রে গোত্রে যুদ্ধবিগ্রহ লেগেই থাকত। ওই সময়ে কন্যাসন্তানকে অভিশাপ মনে করে জীবন্ত কবর দেওয়া হতো। নারী জাতির কোনো মর্যাদাই ছিল না। নারীরা ছিল ভোগ-বিলাসিতার পণ্য। মহানবী (সা.) এসবের অবসান ঘটিয়ে নারী জাতিকে মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করেছেন। শুধু তা-ই নয়, রাষ্ট্র ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তায় তিনি মদিনা সনদ প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করেন।’

অনুষ্ঠানের উদ্বোধক মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক এমপি বলেন, ‘আজ মানবজাতির আনন্দ-খুশি প্রকাশ করার দিন। কেননা এই দিনে দুনিয়ায় শুভ পদার্পণ করেছেন মানবতার নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)। জীবনের সব পর্যায়ে তাঁকে অনুসরণ করতে পারলে আমাদের জীবন হবে সফল, দ্যুতিময়, সার্থক ও কামিয়াব।’ তিনি ধর্মীয় উন্মাদনা সৃষ্টিতে মহলবিশেষের অপতৎপরতার ব্যাপারে সবার সতর্কতা কামনা করেন।

বিশেষ অতিথি ছিলেন সৈয়দ মাশুক-এ-মইনুদ্দীন, সৈয়দ হাসনাইন-এ-মইনুদ্দীন, পার্লামেন্ট অব ওয়ার্ল্ড সূফীজের সাংগঠনিক সম্পাদক ড. আহমদ তিজানী বিন ওমর ও আন্জুমানে রহমানিয়ার সাবেক সভাপতি ইকবাল রিছালপুরী।