সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক :
ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার খারুয়া বাজারে দুই পক্ষের সংঘর্ষ থামাতে জারি করা ১৪৪ ধারা চতুর্থ দিনের মতো অব্যাহত রয়েছে। দুই-তিনটি ওষুধের দোকান ছাড়া বাজারের সব দোকানপাট বন্ধ রয়েছে।
এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। এ ছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে উপস্থিতিও কম।
এর আগে গত ৪ জুন খারুয়া ও নরেন্দ্রপুর গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে সংঘর্ষ, দোকান ভাঙচুর ও মালপত্র লুটপাট শুরু হয়। পরে থানা-পুলিশ ও র্যাব ঘটনাস্থলে গিয়ে আট রাউন্ড ফাঁকা গুলি বর্ষণ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

পরে বাজার ও তৎসংলগ্ন এলাকায় ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারা জারি করেন নান্দাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফাতেমা জান্নাত।
ওই সংঘর্ষের ঘটনায় নান্দাইল মডেল থানার পুলিশ বাদী হয়ে ৭০ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাতপরিচয় চার-পাঁচ শত লোককে অভিযুক্ত করে একটি মামলা করে। ওই মামলায় গ্রেপ্তারের আশঙ্কায় অনেকেই গ্রাম ছেড়ে পালিয়েছে। অভিযুক্ত দুই ব্যক্তি জানান, তারা ঘটনার দিন খারুয়া বাজারে ছিলেন না।
তার পরও তাদের আসামি করা হয়েছে।
স্থানীয় একটি ফার্মেসির মালিক মো. ফারুক মিয়া জানান, মানুষের কখন কোন ওষুধের প্রয়োজন হয়, সে কারণে তিনি ফার্মেসি খোলা রেখেছেন। কিন্তু বেচাকেনা নেই বললেই চলে। মানুষ ভয়ে বাজারে আসে না বলে জানান তিনি।
খারুয়া বাজারের কয়েকজন ফলের দোকানি বলেন, গত ৪ জুন থেকে দোকান বন্ধ থাকায় দোকানের ফল নষ্ট হয়ে গেছে।
কিছু ফল বাড়িতে নিয়ে পরিবারের সদস্যদের খাইয়েছি। বাকিগুলো ফেলে দিতে হয়েছে।
খারুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোছা. শামছুন্নাহার বলেন, ‘আমাদের বিদ্যালয়ে ৩৮০ জন শিক্ষার্থী। ১৪৪ ধারা জারির খবরে গ্রামের বাসিন্দা তাদের সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে রাজি হচ্ছে না। শনিবার দিন মাত্র ৬৮ জন শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে এসেছিল।’
খারুয়া উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া মহিলা মাদরাসা ও কওমি মাদরাসায় শিক্ষার্থী উপস্থিতি কমে গেছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ।
চা বিক্রেতা বাবুল মিয়া বলেন, ‘পরিবারে ৬ সদস্য আমার ওপর নির্ভর করে। এই আয় দিয়ে সংসার চলে। কিন্তু গত পাঁচ দিন ধইর্যা কোনো আয় নাই। বড় বেকায়দায় আছি।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নান্দাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফাতেমা জান্নাত বলেন, পরিস্থিতি ধীরে ধীরে উন্নতি হচ্ছে। পুলিশের থেকে সবুজ সংকেত পাওয়া গেলে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।









