আন্তর্জাতিক

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিতে চীনের তথ্যে ইরানের হামলা, দাবি ওয়াশিংটনের

নিউজ ডেস্ক১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬২ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:

মার্কিন সেনা ঘাঁটিতে ইরানের ভয়াবহ ব্যালিস্টিক মিসাইল হামলার প্রায় তিন মাস পর উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, জর্ডনের একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলার আগে ইরানকে হাই রেজলিউশন স্যাটেলাইট ছবি সরবরাহ করেছিল চীনা গোয়েন্দা সংস্থা।

ওই হামলায় প্রাণ হারিয়েছিলেন তিন মার্কিন সেনা। এই তথ্য প্রকাশ্যে আসতেই ফের উত্তপ্ত হতে পারে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন সম্পর্ক। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৭ জুলাই জর্ডনের মুয়াফাক সালতি এয়ার বেসে ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইল হামলায় তিন মার্কিন সেনার মৃত্যু হয়।

আহত হন একাধিক মার্কিন সেনা।

তাঁদের কয়েকজনকে দ্রুত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যেতে হয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর আগে একাধিকবার অভিযোগ করেছিলেন, পশ্চিম এশিয়ায় চলা সংঘাতের সময় চীনা গোয়েন্দা সংস্থাগুলি ইরানকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সরবরাহ করেছে।
এবার মার্কিন প্রশাসনের হাতে আসা তথ্য সেই অভিযোগের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। তবে ইরানের ওই হামলার জন্য সরাসরি চীনকে দায়ী করেনি ওয়াশিংটন।

মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, হামলার সঙ্গে যুক্ত স্যাটেলাইট ছবি নিয়ে চীনের কাছে প্রমাণ চাওয়া হলে বেইজিং প্রমাণ দেখতে চায়।
পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ অস্বীকার করে সাফ চীনা প্রশাসন জানিয়েছে, হামলায় তাদের কোনও সংস্থা সঙ্গে যুক্ত নয়। এই পরিস্থিতিতে ফের দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বিশেষ করে ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংয়ের বৈঠকের আগে বিষয়টি যথেষ্ট স্পর্শকাতর হয়ে উঠেছে। চীনের সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ করতে চান না ট্রাম্প।

ফলে মার্কিন প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা চীনা সহায়তার অভিযোগের প্রভাব যতটা সম্ভব কমিয়ে দেখানোর চেষ্টা করছেন বলে জানা যাচ্ছে।
উল্লেখ্য, পশ্চিম এশিয়ায় ইরান এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাত শুরু হয়েছিল ২৮ ফেব্রুয়ারি। আমেরিকা ও ইসরায়েল ইরানের একাধিক এলাকায় হামলা চালায়। ওই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই নিহত হন।

 

এর পাল্টা জবাবে ইরান ইসরায়েলের বিভিন্ন এলাকায় হামলা চালানোর পাশাপাশি একাধিক মার্কিন এয়ারবেসে হামলা চালায়। অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি আটকে দেয় তেহরান।

বর্তমানে পরিস্থিতি তুলনায় কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এলেও চীনা সংস্থার তথ্য সরবাহের এই অভিযোগ নিয়ে ফের পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞরা।