জাতীয়

ভোলায় বিদ্যুৎ অফিসে কর্মকর্তা-গ্রাহকদের মারামারি, আহত ৫

নিউজ ডেস্ক৫ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:

ভোলার মনপুরায় বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়ে বিদ্যুৎ অফিসের কর্মকর্তা ও গ্রাহকদের মধ্যে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। এতে ওজোপাডিকোর উপ-সহকারী প্রকৌশলীসহ চার গ্রাহক আহত হয়েছেন।

খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
সোমবার (৫ অক্টোবর) সকালে উপজেলার ডাকবাংলো মোড় ওজোপাডিকো বিদ্যুৎ অফিসে এ ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন, ওজোপডিকোর উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান মনির, স্থানীয় হাজিরহাট বাজারের ব্যবসায়ী মো. শরিফ, মো. আক্তার, সোহাগ ও নীরব।

এ ঘটনায় উভয় পক্ষই পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করেছেন।

বিদ্যুৎ অফিসে হামলা ও প্রকৌশলীকে মারধরের অভিযোগ এনে মনপুরা থানায় মামলা হয়েছে। অন্যদিকে বিদ্যুৎ অফিসে চার গ্রাহককে মারধররে বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ-মিছিল করেছে হাজিরহাট বাজার ব্যবসায়ীরা। পরে তারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে স্মারকলিপি দেন।

আহত গ্রাহক শরিফ, আক্তার, সোহাগ ও নীরব বলেন, রাতে ৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎ দেওয়ার নিয়ম থাকলেও আমরা মাত্র এক থেকে দেড় ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাই।

তা ছাড়া একটু বেশি সময় বিদ্যুৎ বিতরণের জন্য এক্সট্রা টাকা চায় উপ-সহকারী প্রকৌশলী মনির। টাকা না দিলে লাইন কেটে দেয়। এ সমস্ত অভিযোগ নিয়ে বিদ্যুৎ অফিসে গেলে উপ-সহকারী প্রকৌশলী মনির উত্তেজিত হয়ে আমাদের মারধর করে জামা-কাপড় ছিঁড়ে দেয়। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে উপ-সহকারী প্রকৌশলী মনিরের বিচার দাবি করেন তিনি।
বিদ্যুৎ অফিসের (ওজোপাডিকো) দায়িত্বরত উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান মনির জানান, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহ বিঘ্নিত হচ্ছে।

গ্রাহকরা কোনো কথা না শুনে আমাকে মারধরে করে। আমরা থানায় মামলা করেছি। বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য একস্ট্রা টাকার বিষয়টি অস্বীকার করেন তিনি।
ওয়েস্টজোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কম্পানি (ওজোপডিকো) মনপুরার আবাসিক প্রকৌশলী মো. ফরিদুল ইসলাম জানান, পাওয়ার হাউজের তিনটি মেশিনের মধ্যে দুইটি নষ্ট। একটি দিয়ে কোনোমতে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। কিন্তু অফিসে গিয়ে কর্মকর্তাদের মারধর করা ঠিক হয়নি। যারা ঘটনার সঙ্গে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

মনপুরা থানার ওসি মাজাহারুল ইসলাম জানান, খবরে পেয়ে পুলিশ বিদ্যুৎ অফিসে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। বিদ্যুৎ অফিসে হামলা ও বিদ্যুৎ কর্মকর্তাকে মারধরের ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে।

মনপুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা তজুমুদ্দিন উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) তড়িৎ চন্দ্র শীল জানান, বিদ্যুৎ বিভ্রাটসহ গ্রাহকদের ওপর হামলার অভিযোগ এনে ব্যবসায়ীরা স্মারকলিপি দিয়ে গেছে। বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হবে।