ধর্ম

ভোগ-বিলাস যেভাবে পতন ডেকে আনে

নিউজ ডেস্ক৫ মে ২০২৬৩ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক :

মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন,

بَلۡ مَتَّعۡنَا هٰۤؤُلَآءِ وَ اٰبَآءَهُمۡ حَتّٰی طَالَ عَلَیۡهِمُ الۡعُمُرُ ؕ اَفَلَا یَرَوۡنَ اَنَّا نَاۡتِی الۡاَرۡضَ نَنۡقُصُهَا مِنۡ اَطۡرَافِهَا ؕ اَفَهُمُ الۡغٰلِبُوۡنَ

সরল অনুবাদ :
বরং আমিই তাদের ও তাদের পূর্বপুরুষদের উপভোগ করতে এসব ভোগ-সম্ভার দিয়েছিলাম। এমনকি তাদের হায়াতও দীর্ঘ হয়েছিল। তারা কি দেখে না যে, আমি চতুর্দিক থেকে তাঁদের দেশকে সঙ্কুচিত করে দিচ্ছি? তবুও কি তারা (মনে করে যে তারা) বিজয়ী হবে? (সুরা : আম্বিয়া, আয়াত : ৪৪)

সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা :
মক্কার কাফের-মুশরিকরা ইসলামের যতই বিরোধিতা করছিল আল্লাহ তাআলা ইসলামের বিজয় ততটাই ত্বরান্বিত করছিলেন। কিন্তু তার পরও তারা ইসলামের বিরোধিতা থেকে ক্ষান্ত হচ্ছিল না।

তাই আল্লাহ তাআলা তাদের উদ্দেশ করে বলেন, তারা কি এটা দেখে না যে, আমি চারদিক থেকে তাদের সংকুচিত করে এনেছি। দেশে দেশে তাদের পতন হচ্ছে আর ইসলাম বিজয়ী হচ্ছে। আর ইসলামের বিজয়ের মাধ্যমে কুফর-শিরক বিদূরীত হচ্ছে। এসব দেখেও কি তারা ঈমান আনবে না? (কুরতুবি, তাফসিরে জাকারিয়া)
এ আয়াতে যে ভূমি বা দেশ সংকোচনের কথা বলা হয়েছে এর মানে হলো, আরব উপদ্বীপের চতুর্দিক থেকে শিরক ও কুফরের প্রভাব ক্রমশ হ্রাস পাচ্ছে এবং ইসলাম ক্রমবিস্তার লাভ করছে ও মুসলিমদের প্রভাব উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে।

আরব উপদ্বীপ-এ মুশরিকদের প্রভাব-বলয় দিন দিন কমে আসছে। আর ইসলাম প্রভাব বিস্তার করছে। এটা এক সতর্ক সংকেত। মুশরিকদের উচিত এর থেকে শিক্ষা গ্রহণ করা।

(তাফসিরে তাওজিহুল কোরআন, মুফতি তাকি উসমানী)
যদি তাদের বা তাদের পূর্বপুরুষদের জীবন সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য ও ভোগ-বিলাসে অতিবাহিত হয়, তাহলে কি তারা মনে করে যে, তারা সঠিক পথে আছে এবং ভবিষ্যতেও তাদের কোনো কষ্ট হবে না? বরং তাদের ক্ষণস্থায়ী জীবনের সুখ-বিলাস তো আমার ‘ধীরে পাকড়াও’ নীতির অংশবিশেষ। এতে কারো ধোকায় পড়া উচিত নয়। আর আয়াতে যে বলা হয়েছে, ইসলামের অগ্রসরতা দেখেও কি কাফেররা মনে করে যে তারাই বিজয়ী? এটা অস্বীকৃতিমূলক প্রশ্ন। অর্থাৎ তারা কখনো প্রকৃতপক্ষে জয়ী নয়, তারা অচিরেই পরাজিত ও অপমানিত হবে। (তাফসিরে আহসানুল বায়ান)

শিক্ষা ও বিধান

১. দুনিয়ার ভোগ-বিলাস আল্লাহর পক্ষ থেকে পরীক্ষা।

আল্লাহ দেখতে চান, কে আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞ হয় আর কে গাফেল হয়।
২. বেশি দিন বেঁচে থাকা বা সময় পাওয়া মানেই সফল হওয়া নয়; বরং সেই সময় কী কাজে ব্যয় হচ্ছে সেটাই গুরুত্বপূর্ণ।

৩. আল্লাহর অবাধ্য হলে মানুষের শক্তি, ক্ষমতা ও প্রভাব ধীরে ধীরে হ্রাস পায়—যদিও সে প্রথমে তা বুঝতে পারে না।

৪. ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেওয়া জরুরি। কেননা যারা অতীত থেকে শিক্ষা নেয় না, তারা একই ভুলে তাদের পতন অনিবার্য হয়ে পড়ে।

৫. সাময়িক শক্তি বা প্রভাব দেখে নিজেকে বিজয়ী ভাবা বড় ভুল। কেননা প্রকৃত বিজয় আল্লাহর আনুগত্যে।

৬. আল্লাহর শাস্তি কখনো কখনো ধীরে আসে। এজন্য অনেক মানুষ বুঝতেই পারে না যে সে ক্ষতির দিকে এগোচ্ছে—এটাই আল্লাহর ‘ধীরে ধীরে পাকড়াও’।