সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক :
রবিবার থেকে বিটিভিতে প্রচারিত হচ্ছে তৌকীর আহমেদের নতুন ধারাবাহিক নাটক ‘ধূসর প্রজাপতি’। রবি, সোম ও মঙ্গলবার রাত ৯টায় প্রচারিত হয় এটি। গতকাল নির্মাতা-অভিনেতার সঙ্গে কথা বলেছেন কামরুল ইসলাম।
ধারাবাহিক নাটক নির্মাণ থেকে অনেকটা সরেই এসেছিলেন, ফিরলেন কী মনে করে?

বছর চারেক আগে বানিয়েছিলাম ‘রূপালী জ্যোত্স্নায়’, চ্যানেল আইতে প্রচার হয়েছিল।
আমি তো সব মাধ্যমেই কাজ করি। মঞ্চ, টিভি, চলচ্চিত্র, ওটিটি—সবখানে। বিটিভি প্রস্তাব দিল, তাদের জন্য একটি ধারাবাহিক নির্মাণ করতে। যুতসই গল্পও ছিল, তাই কাজটি করা।
প্রজাপতি তো সাধারণত রঙিন হয়, এখানে ধূসর কেন?
হা হা হা! আমার মনে হয়, জীবনের রংই ধূসর। পরে সেটাতে বিভিন্ন রং আসে। তবে আমি জীবনটাকে ধূসর জায়গা থেকে দেখার চেষ্টা করেছি, সেখান থেকেই এ গল্প। এটা সম্পর্ক ও সমাজ বাস্তবতার গল্প।
বিভিন্ন স্তরের মানুষের মধ্য দিয়ে সময় এবং সমাজকে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি।
এ নাটকে আবুল হায়াত, দিলারা জামানের মতো বর্ষীয়ান অভিনয়শিল্পী যেমন আছেন, আছেন এ প্রজন্মের শিল্পীরাও। সব মিলিয়ে কেমন হলো?
আমি সব সময় ভালো অভিনয়শিল্পী নিয়ে কাজ করি। আবুল হায়াত, দিলারা জামানের মতো গুণী শিল্পীদের নিয়ে কাজ করলে নির্ভার থাকা যায়। আর তাঁদের সঙ্গে এ প্রজন্মের আইশা খান কিংবা সাবরিন আজাদদের নিয়েছি, এটা তাদের জন্যও একটা সুযোগ, অনেক কিছু শেখার।
তা ছাড়া এমনিতেও ওরা ভালো কাজ করছে, সে জন্যই নেওয়া। আর শুটিংয়ের ক্ষেত্রেও প্রত্যেকের দারুণ সহযোগিতা পেয়েছি। এ জন্য মাত্র তিন মাসের মধ্যেই ২৬ পর্বের একটা ধারাবাহিক সম্পন্ন করতে পারলাম। আরেকটা কথা বলে রাখি, এ নাটকে সিনিয়র যে অভিনয়শিল্পীরা আছেন, তারা স্রেফ বাবা-মায়ের চরিত্রে না; অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তাঁদের চরিত্র।
অভিনয়ে আপনিও আছেন। নিজের গল্প-নির্মাণে নিজেকে বেছে নেন কিভাবে?
ভুলে গেলে চলবে না, আমি একজন অভিনেতা। এবং বেশ অভিজ্ঞ অভিনেতা। তবে হ্যাঁ, গল্প লেখার সময় যদি মনে হয়, অমুক চরিত্রটা আমি ভালো করব, তখনই সেটা করি। এটা শুধু নাটকেই করি, চলচ্চিত্রে না। চলচ্চিত্র অনেক জটিল এবং ব্যস্ততার কাজ। সেখানে গল্পটাকে অনেক বিস্তৃত পরিসরে তুলে ধরতে হয়। তাতে যেন ব্যাঘাত না ঘটে, তাই নিজের ছবিতে অভিনয় থেকে বিরত থাকি। আর একসঙ্গে অভিনয় ও নির্মাণ নতুন কিছু না। বিশ্ব চলচ্চিত্রে অনেক ব্যক্তি ছিলেন ও আছেন, যারা দুটি কাজই একসঙ্গে করছেন। আমাদের দেশেও আছেন।
দুই বছর আগে নতুন ছবির আভাস দিয়েছিলেন। পরে আর কোনো খবর পাওয়া যায়নি…
দেশ ও সমাজ নানা অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তা ছাড়া আমি যে ধরনের ছবি বানাই, সেগুলো প্রচলিত ধারার না। তাই প্রযোজক পাওয়াও মুশকিল। বছরের অনেকটা সময় তো দেশের বাইরে থাকি। তবে এখন মনে হচ্ছে, ছবি করতে হবে। সময় চলে যাচ্ছে।
প্রযোজক সংকটের কথা আগেও বলেছিলেন…
এটা আক্ষেপ না, বাস্তবতা। কেউ এ ধরনের ছবিতে লগ্নি না করে বাণিজ্যিক ভাবনা থেকে ছবি করতেই পারেন। কয়েকটা চিত্রনাট্য প্রস্তুত, দেখা যাক কী করতে পারি।
সাম্প্রতিক চলচ্চিত্রগুলো দেখেছেন?
থাক, এ বিষয়ে কথা না বলি। আমি যেহেতু একটা নির্দিষ্ট ধারায় ছবি বানাই, আমার মতাদর্শ, পছন্দ সেখানে দৃশ্যমান। ফলে অন্যরা যেসব ছবি করছেন, সেগুলো নিয়ে আমার কিছু না বলাই শ্রেয়। যার যেমন ইচ্ছা হবে, তেমন ছবি বানাতেই পারেন। হ্যাঁ, আমি সর্বশেষ ‘উৎসব’ দেখেছি।
অভিনয়ে নতুন কিছু করছেন?
কিছু কাজের কথাবার্তা চলছে, এখনো চূড়ান্ত নয়। এ মাসে আবার যুক্তরাষ্ট্রে যাব। মাস দুয়েক পর ফিরব। তখন হয়তো কাজ করব।









