ধর্ম

ভারতবর্ষে দ্বিনি দাওয়াতের গুরুত্ব

নিউজ ডেস্ক২০ জানুয়ারি ২০২৬৩ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক :

প্রতিটি জাতি ও সম্প্রদায়ের ইতিহাসে সংকটকাল আসে, যখন অস্তিত্ব রক্ষার জন্য তাদের যোগ্যতার পরীক্ষা দিতে হয়। মেধার স্বাক্ষর রাখতে হয় এবং সুপ্ত প্রতিভা ব্যবহার করতে হয়। এই সংকট তাদের ভেতর স্পৃহা ও জাগরণ তৈরি করে। যে সম্প্রদায় সংকটের ভেতর দিয়ে যায় না তাদের ওপর আস্থা ও ভরসা রাখা যায় না; বরং তা তাদের চেতনার মশাল নিভিয়ে দেয়, আত্মবিস্তৃত ও বিলাসী করে তোলে।

বর্তমানে ভারতীয় মুসলিমরা একটি সংকটকাল কাটাচ্ছে এবং তারা এই সংকট সমাধান ও অতিক্রম করার চেষ্টা করছে। কিছু তাদের ভুলের ফসল; আর কিছু অতীত ব্যর্থতা, চিন্তা ও রাজনৈতিক বিরোধের ফল। কিছু সংকট তৈরি হয়েছে সেসব ঘটনা ও অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে, যার ভেতর দিয়ে অতীতে ভারতকে যেতে হয়েছে। কোনো সন্দেহ নেই এসব সংকট সাময়িক, আপতিত।

শিগগিরই এর সমাধান হবে যদি ভারতীয় মুসলিমরা ধৈর্য ও সহনশীলতার ওপর অটল থাকে এবং তারা বিষয়গুলো প্রজ্ঞা, ধীরস্থিরতা ও সহমর্মিতার সঙ্গে মোকাবেলা করে। আর তারা লাভ করে সুপথের অধিকারী, ভারসাম্যপূর্ণ ও সাহসী নেতৃত্ব। এখানে আমরা ভারতীয় মুসলিম সমাজের সবচেয়ে গুরুতর সংকটগুলো উল্লেখ করব।
ভারতীয় মুসলিম সমাজের সংকটগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুতর সংকট হলো ইসলামী দাওয়াতের সংকট।

সবাই জানে ইসলাম ধর্ম দাওয়াত ও সুসংবাদের। ভারতের যেসব মানুষ ইসলাম গ্রহণ করেছে তারা একনিষ্ঠ দ্বিন প্রচারক সুফি, পীর, আলেম ও ব্যবসায়ীদের প্রচেষ্টায়ই বেশি মুসলিম হয়েছে। নবদীক্ষিত মুসলিমদের সংখ্যা সেসব মুসলমানের চেয়ে বেশি, যারা ইসলামের আদিভূমি তথা আরব উপদ্বীপ, ইরান, তুর্কিস্তান ইত্যাদি অঞ্চল থেকে ভারতে আগমন করে। প্রত্যেক যুগেই ইসলামের একনিষ্ঠ দাওয়াত তার শরীরে নতুন রক্ত ও শক্তি সৃষ্টি করেছে। ভারতে দ্বিন প্রচারকারী ইসলামী সমাজ এমন একটি নতুন প্রজন্ম সৃষ্টি করে, যারা পরবর্তী সময়ে নিজের মেধা-প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন, শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেছেন।

এমনকি ভারতের বহু অভিজাত ও প্রভাবশালী পরিবার, যারা তাদের প্রতিভা ও প্রতিপত্তির জন্য পরিচিত ছিল, তারা বৃহত্তর ইসলামী পরিবারে সঙ্গে একীভূত হয়ে গেছে। ভারতীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের বহু বিখ্যাত ব্যক্তি ও মনীষীর বংশধারার নিকটতর ও দূরতম স্তরে হিন্দু পরিবারের সঙ্গে সম্পৃক্ততা আছে। নিকট অতীতের এমন ব্যক্তিদের মধ্যে আছেন ‘তুহফাতুল হিন্দ’ গ্রন্থকার মাওলানা উবায়দুল্লাহ পটিয়ালভি (রহ.), মাওলানা উবায়দুল্লাহ সিন্ধি, আল্লামা মুহাম্মদ ইকবাল, শায়খ সানাউল্লাহ অমৃতসরি, মাওলানা আহমদ আলী লাহোরি। খুব কমসংখ্যক মুসলিমই জানে যে তারা ইসলাম গ্রহণকারী পরিবারের সদস্য বা আল্লাহ তাদের অন্তরকে ইসলামের জন্য উন্মুক্ত করেছিলেন। ফলে নিজেই মুসলিম হন।
মুসলিম শাসনের শেষ ভাগ ও ইংরেজ শাসনের শুরু ভাগ পর্যন্ত ইসলামের দাওয়াত ও ইসলামী শিক্ষার প্রসারের ধারা অব্যাহত থাকে এবং তা সামনের দিকে অগ্রসর হতে থাকে। প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক অমুসলিম স্বেচ্ছায় ইসলাম গ্রহণ করত। কেননা ইসলাম যুক্তিযুক্ত ও প্রজ্ঞাময় ধর্ম। এতে আছে নিষ্কলুষ একত্ববাদী বিশ্বাস, ন্যায়পরায়ণতা, সমতা। ইসলামে নেই শ্রেণিবৈষম্য ও ছুত-অচ্ছুতের বালাই। কোরআন, নবীজি (সা.)-এর জীবনাদর্শ ও ইসলামের মহান শিক্ষা মানুষের অন্তর্দৃষ্টি খুলে দেয় এবং চিন্তা-চেতনাকে আলোকময় করে। যদি ইসলাম প্রচারের স্বাভাবিক ধারা অব্যাহত থাকত তবে এই সম্ভাবনা ছিল যে মুসলিমরা ভারতের সংখ্যাগরিষ্ঠ ধর্মীয় গোষ্ঠীতে এবং এশিয়ায় সর্ববৃহৎ শক্তিতে পরিণত হবে।

সূত্র : ভারতীয় সভ্যতা সংস্কৃতিতে মুসলিম অবদান