লাইফ স্টাইল

বেঁচে যাওয়া যে খাবার ফের গরম করে খেলে হতে পারে বিপদ

নিউজ ডেস্ক৩ ডিসেম্বর ২০২৪৩ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক :

খাওয়া শেষে বেঁচে যাওয়া খাবারগুলো আমরা অনেক সময় পরবর্তী সময়ের জন্য রেখে দিই। কেননা, গরম না করলে খাবারগুলো তাড়াতাড়ি নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তবে একজন বিশেষজ্ঞ জানিয়েছেন, কিছু খাবার আছে যেগুলো পুনরায় গরম করে খেলে স্বাস্থ্যের ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। এমন একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে নিউ ইয়র্ক পোস্ট।

ওই প্রতিবেদনে কিছু খাবারের কথা বলা হয়, যেগুলো পুনরায় গরম করলে বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। খাবারগুলো হলো- পালং শাক, চা এবং ভাত।

পালং শাক

ডায়েটিশিয়ান হরিণী বালার মতে, পালং শাকে নাইট্রেট থাকে। এই উপাদানটির মাত্রা রান্নার সঙ্গে সঙ্গে বেড়ে যায়।

গবেষণায় দেখা গেছে উচ্চতাপে শাক-সবজি পুনরায় গরম করার সময় নাইট্রেটগুলো নাইট্রোসামিনে রূপান্তরিত হয়। আর এই নাইট্রোসামিন ক্যান্সারের সঙ্গে যুক্ত একটি যৌগ।
হরিণী বালা তার সামাজিক মাধ্যমে একটি ভিডিওতে অনুরোধ জানিয়ে বলেন, ‘দয়া করে আপনারা পালং শাককে আবার গরম করবেন না, রান্না করার সঙ্গে সঙ্গেই তা খেয়ে ফেলুন।’ ভিডিওটি প্রায় দেড় লাখ মানুষ দেখেছে।

সেখানে তিনি দাবি করেন যে পুনরায় গরম করা শাকসবজির যৌগগুলো ‘বিষাক্ত’। সেই সঙ্গে স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে বাঁচতে কখনই মাইক্রোওয়েভে খাবার না গরম করার কথা জানিয়েছেন এই ডায়েটিশিয়ান।

চা

চা আবার গরম করা হলে এর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্যগুলো ভেঙে যায়। সেই সঙ্গে তিক্ত স্বাদে অবদান রাখা ট্যানিনের মাত্রাও বৃদ্ধি পায়। বালা ওই ভিডিওতে আরো দাবি করেন, চায়ের যে কোনো ‘সুপ্ত ব্যাকটেরিয়া’ পুনরায় গরম করার সাথে ‘সক্রিয়’ হয়ে উঠবে।

এর ফলে যিনি চা পান করবেন তার স্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি করবে।

ভাত

এই ডায়েটিশিয়ান ভাত পুনরায় গরম করার বিরুদ্ধেও সতর্ক করেছিলেন। তবে এই খাবারটি দুই ঘণ্টা ফ্রিজের ভেতরে বায়ুরোধী পাত্রে সংরক্ষণ করা হলে তা পুনরায় গরম করা ভালো। তাই এই খাবারটি পুনরায় গরম করতে হলে দুই ঘণ্টার বেশি অপেক্ষা করতে হবে। নয়তো এর মধ্যে থাকা বিপজ্জনক ব্যাকটেরিয়া ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকে।

বালা সতর্ক করে বলেন, ‘আপনি যদি সকালে ভাত রান্না করেন এবং পরের দিন খাওয়ার জন্য রাতে ফ্রিজে সংরক্ষণ করেন তবে ব্যাসিলাস সেরিয়াস গঠনের একটি বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে।’

ব্যাসিলাস সেরিয়াস হলো এক ধরনের ব্যাকটেরিয়া, যা সাধারণত স্টার্চি খাবারকে প্রভাবিত করে এবং ফলস্বরূপ খাদ্যে বিষক্রিয়া হয়। যাকে প্রায়ই ‘ফ্রাইড রাইস সিন্ড্রোম’ বলা হয়। এর ফলে মৃত্যুও ঘটতে পারে, তবে এটি বিরল।

ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের মতে, প্রতি বছর ব্যাসিলাস সেরিয়াস থেকে বিষক্রিয়ায় আনুমানিক ৬৩ হাজার ৪০০টি ঘটনা ঘটে। এই রোগের উপসর্গের মধ্যে সাধারণত পেট ফাঁপা, বমি বমি ভাব, বমি, ডায়রিয়া এবং জ্বর অন্তর্ভুক্ত থাকে।

তাই এসব খাবার থেকে দূরে থাকাই শ্রেয়।

সূত্র: কালের কণ্ঠ