জাতীয়

বিয়ে নিয়ে দ্বন্দ্বে খুন হন সেই আলোচিত ব্যবসায়ী : পুলিশ

নিউজ ডেস্ক২৩ জুন ২০২৬৩ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক :

মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার ব্যবসায়ী সোহেল মুন্সী হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রীর প্রথম স্বামী মো. দ্বীন ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সোমবার (২৩ জুন) দুপুরে মুন্সীগঞ্জ পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম।

পুলিশ সুপার জানান, গত ১৮ জুন রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে লৌহজং উপজেলার কালুরগাঁও গ্রামে নিজ বাড়ির উঠানে সোহেল মুন্সীকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। একই সঙ্গে তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় নিহতের মা সেফালী বেগম বাদী হয়ে লৌহজং থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা ও অগ্নিসংযোগের মামলা করেন।

ঘটনার পর জেলা পুলিশ ও লৌহজং থানা পুলিশ যৌথভাবে তদন্ত শুরু করে। তদন্তের একপর্যায়ে ঘটনাস্থলের পাশের একটি ঘর থেকে তিন বোতল মদ, মদ তৈরির বিভিন্ন উপকরণ এবং কয়েকটি দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানায়, সোহেল মুন্সী ভাঙারি ব্যবসার পাশাপাশি অবৈধ মাদক ব্যবসার সঙ্গেও জড়িত ছিলেন বলে প্রাথমিক তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার বলেন, তদন্তে জানা যায়, নিহতের স্ত্রী নুপুরের প্রথম স্বামী ছিলেন দ্বীন ইসলাম।

তাদের সংসারে আব্দুর রহমান নামে তিন বছর বয়সী একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। প্রায় দেড় বছর আগে নুপুর দ্বীন ইসলামের সঙ্গে আইনগত বিচ্ছেদ সম্পন্ন না করেই সোহেল মুন্সীকে বিয়ে করেন। পরে সোহেল ও নুপুরের সংসারেও সাফওয়ান মুন্সী নামে একটি ছেলে সন্তানের জন্ম হয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে দীর্ঘদিন ধরে সোহেলকে হত্যার পরিকল্পনা করেন দ্বীন ইসলাম। ঘটনার রাতে তিনি গোপনে সোহেলের বাড়িতে প্রবেশ করে প্রথমে মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেন।

আগুন দেখতে পেয়ে সোহেল ঘর থেকে বের হয়ে তা নেভানোর চেষ্টা করলে চাপাতি দিয়ে তার গলা, হাত ও পায়ে এলোপাতাড়ি কোপ দেন। গুরুতর আহত অবস্থায় সোহেল মাটিতে লুটিয়ে পড়লে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান তিনি। এ সময় সোহেলের মা ও স্ত্রী ঘর থেকে বের হয়ে চিৎকার শুরু করেন।
তদন্তের অংশ হিসেবে ঘটনাস্থল থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরের একটি সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে পুলিশ। ফুটেজে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়া এক ব্যক্তিকে দেখা যায়। পরবর্তী তদন্ত ও গ্রেপ্তারের পর পুলিশ নিশ্চিত হয়, ওই ব্যক্তি দ্বীন ইসলাম।

পুলিশ সুপার জানান, সোমবার ভোর ৬টার দিকে টঙ্গীবাড়ী উপজেলার যশলং ইউনিয়নের সেরাজাবাদ গ্রামে নিজ বাড়ি থেকে দ্বীন ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে একটি নেভি-ব্লু রঙের ফুলহাতা শার্ট, একটি ফুল প্যান্ট, এক জোড়া সাদা কেডস, একটি লাল গামছা এবং একটি বাটন মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তারকৃত আসামির বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।