জাতীয়

‘বিমানবন্দরে নিহত ব্যক্তিকে আত্মঘাতী বলেই মনে হচ্ছে’

নিউজ ডেস্ক২৫ মার্চ ২০১৭৩ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক: হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সামনের গোলচত্বরে বোমা বিস্ফোরণে নিহত ব্যক্তি আত্মঘাতী ছিল বলেই মনে করছেন ময়না তদন্তকারী চিকিৎসকরা। ময়না তদন্তকারী টিমের প্রধান ও ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের ফরেনসিক মেডিসিনের বিভাগীয় প্রধান সোহেল মাহমুদ জানিয়েছেন, ‘নিহত ব্যক্তির শরীরে বাঁধা বোমা বিস্ফোরণের ধরণ দেখে তাকে আত্মঘাতী বলেই আপাতদৃষ্টিতে মনে হচ্ছে।’ তার পিঠের পেছন থেকে কোমড়ের নিচের অংশ পর্যন্ত বিস্ফোরণে ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে বলেও জানান তিনি।

ময়না তদন্ত শেষে সাংবাদিকদের সোহেল মাহমুদ বলেন, ‘নিহতের পিটের মাঝ থেকে পরের অংশ ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। তার শরীরে ৫৪ ইঞ্চি তারের টুকরা পেয়েছি। স্কচটেপ দিয়ে বোমা শরীরে দিয়ে ছিল। বাঁ হাতের কবজিতে রেগুলেটরের মতো একটা জিনিস বাঁধা ছিল। তারের বাকি অংশ ছিল সেখানে। শরীরে স্প্লিন্টার পাওয়া গেছে।’

এর আগে রাজধানীর আশকোনায় র‌্যাবের নির্মাণাধীন সদর দফতরে নিহত ব্যক্তির সঙ্গে এর নিহতের কতটুকু সাদৃশ্য আছে জানতে চাইলে সোহেল মাহমুদ বলেন, ‘আশকোনায় নিহত ব্যক্তির বুক থেকে পুরো অংশ ছিন্ন বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল। আর এর বোমা বাঁধা ছিল পিঠের পেছন দিকে। তবে বিস্ফোরণের ধরনে মিল রয়েছে।’

তিনি জানান, ‘বিমানবন্দরে নিহত এই ব্যক্তি পরিচয় নির্ধারণ করার জন্য তার চুল  ও দাঁত সংরক্ষণ করা হয়েছে। বিস্ফোরণের আগে সে শক্তি বর্ধক কিছু খেয়েছিল কিনা তা জানতে ইউরিন, ব্লাড ও ভিসেরা সংরক্ষণ করা হয়েছে। এগুলো ক্যামিকেল অ্যানালাইসিসের জন্য রাসায়নিক পরীক্ষাগারে পাঠানো হবে।’

শনিবার (২৫ মার্চ) বেলা সোয়া ১২টার দিকে লাশের ময়না তদন্ত শুরু করেন তিন সদস্যের টিম। সোহেল মাহমুদের নেতৃত্বে ময়না তদন্তে অংশ নেন ফরেনসিক বিভাগের প্রভাষক ডা. প্রদীপ বিশ্বাস ও ডা. সোহেল কবীর। প্রায় ৪০ মিনিট তারা ময়না তদন্ত করেন।

শুক্রবার রাতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সামনের গোলচত্বরে বোমা বিস্ফোরণে নিহত হয় এই ব্যক্তি। ময়না তদন্তের জন্য রাত আড়াইটার দিকে তার লাশ ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল মর্গে আনা হয়। বিমানবন্দর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মনিরুল ইসলাম লাশ ঢামেকে নিয়ে আসেন।

জানা গেছে, শুক্রবার সন্ধ্যায় বিমানবন্দর পুলিশ বক্সে প্রবেশের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে বিস্ফোরণ ঘটায় ওই যুবক। এতে আত্মঘাতী ঘটনাস্থলেই নিহত হয়। তার বয়স আনুমানিক ২৩-২৫ বছর। পরনে ছিল জিন্স প্যান্ট ও ফুলহাতা শার্ট । এছাড়া ঘটনাস্থলে একটি ট্রাভেল ব্যাগ পাওয়া গেছে। যেখান থেকে তিনটি বোমা উদ্ধার করে নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে।

গত ১৭ মার্চ আশকোনার র‌্যাবের নির্মাণাধীন সদর দফতরে আত্মঘাতী হামলা চালায় এক জঙ্গি। এতে আত্মঘাতী হামলাকারী নিহত হয়। পরদিন ১৮ মার্চ খিলগাঁওয়ে শেখের জায়গা এলাকায় র‌্যাবের চেকপোস্টে হামলার চেষ্টা করে পুলিশের গুলিতে এক যুবক নিহত হয়।

 

সূত্র: বাংলাট্রিবিউন