সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক :
মুসিবত বা বিপদাপদ মানুষের জীবনের অবিচ্ছেদ্য বাস্তবতা। তবে কোরআন ও হাদিস আমাদের এই শিক্ষা দিয়েছে যে, বিপদের মুহূর্তে ঈমানদারের জিহ্বা যখন আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তনের ঘোষণা দেয় এবং তাঁর উপর ভরসা স্থাপন করে, তখন বিপদ শুধু ধৈর্যের পরীক্ষা হয়ে থাকে না; বরং কল্যাণের দরজাও খুলে দেয়। এ সত্যটি সবচেয়ে সুন্দরভাবে প্রতিফলিত হয়েছে উম্মু সালামাহ্ (রা.)-এর জীবনের ঘটনাতে, যেটি তিনি নিজেই আমাদেরকে বর্ণনা করেছেন-
عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ، أَنَّهَا قَالَتْ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ ” مَا مِنْ مُسْلِمٍ تُصِيبُهُ مُصِيبَةٌ فَيَقُولُ مَا أَمَرَهُ اللَّهُ إِنَّا لِلَّهِ وَإِنَّا إِلَيْهِ رَاجِعُونَ اللَّهُمَّ أْجُرْنِي فِي مُصِيبَتِي وَأَخْلِفْ لِي خَيْرًا مِنْهَا . إِلاَّ أَخْلَفَ اللَّهُ لَهُ خَيْرًا مِنْهَا ” . قَالَتْ فَلَمَّا مَاتَ أَبُو سَلَمَةَ قُلْتُ أَىُّ الْمُسْلِمِينَ خَيْرٌ مِنْ أَبِي سَلَمَةَ أَوَّلُ بَيْتٍ هَاجَرَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم . ثُمَّ إِنِّي قُلْتُهَا فَأَخْلَفَ اللَّهُ لِي رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم . قَالَتْ أَرْسَلَ إِلَىَّ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَاطِبَ بْنَ أَبِي بَلْتَعَةَ يَخْطُبُنِي لَهُ فَقُلْتُ إِنَّ لِي بِنْتًا وَأَنَا غَيُورٌ . فَقَالَ ” أَمَّا ابْنَتُهَا فَنَدْعُو اللَّهَ أَنْ يُغْنِيَهَا عَنْهَا وَأَدْعُو اللَّهَ أَنْ يَذْهَبَ بِالْغَيْرَةِ ” .

‘উম্মু সালামাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি, কোনো মুসলিমের ওপর মুসিবত আসলে সে যদি বলে- আল্লাহ যা হুকুম করেছেন- “ইন্না- লিল্লা-হি ওয়া ইন্না- ইলায়হি র-জিউন” (অর্থ- আমরা আল্লাহরই জন্যে এবং তারই কাছে ফিরে যাব) বলে এবং এ দোয়া পাঠ করে- “আল্ল-হুম্মা’ জুৱনী ফী মুসীবাতী ওয়া আখলিফ লী খয়রাম মিনহা- ইল্লা- আখলাফাল্ল-হু লাহ খয়রাম মিনহা-” (অর্থ- হে আল্লাহ! আমাকে আমার মুসিবতে সওয়াব দান কর এবং এর বিনিময়ে এর চেয়ে উত্তম বস্তু দান কর, তবে মহান আল্লাহ তাকে এর চেয়ে উত্তম বস্তু দান করে থাকেন।)।
উম্মু সালামাহ্ (রা.) বলেন, এরপর যখন আবু সালামাহ ইনতিকাল করেন, আমি মনে মনে ভাবলাম, কোন মুসলিম আবূ সালামাহ থেকে উত্তম? তিনি সর্বপ্রথম ব্যক্তি, যিনি হিজরত করে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নিকট পৌছে গেছেন। এতদসত্ত্বেও আমি এ দোয়াগুলো পাঠ করলাম। এরপর মহান আল্লাহ আবু সালামার স্থলে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর মতো স্বামী দান করেছেন। উম্মু সালামাহ (রা.) বলেন, আমার নিকট রাসুলুল্লাহ (সা.) বিয়ের পয়গাম পৌছাবার উদ্দেশে হাতিব ইবনে আবু বালতা’আহ-কে পাঠালেন।
আমি বললাম, আমার একটা কন্যা আছে আর আমার জিদ বেশী। তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, তার কন্যা সম্পর্কে আমি আল্লাহর কাছে দোয়া করব যাতে তিনি তাকে তার কন্যার দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি দেন। আর (তার সম্পর্কে) দোয়া করব যেন আল্লাহ তার জিদ দূর করে দেন। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৯১৮)
হাদিসের শিক্ষা
মুসিবতের মুহূর্তে (إِنَّا لِلَّهِ…) এই দোয়া পাঠ করা সুন্নত।
এটি হৃদয়কে স্থির করে এবং আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তনের চেতনা জাগায় মুসিবতে ধৈর্য ধরে আল্লাহর নির্ধারিত দোয়া পাঠ করলে তিনি উত্তম প্রতিদান দিয়ে থাকেন। এটি আল্লাহর ওয়াদা। বিশ্বাসীরা কখনো হতাশ হয় না; সে জানে; বিয়োগের পরেও আল্লাহ আরও উত্তম কিছু দিতে সক্ষম। পরিবারগত বা স্বভাবগত সমস্যা থেকেও রক্ষা পাওয়ার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করা সুন্নত। যেমন ‘জিদ’ দূর করার জন্য মহানবী (সা.) দোয়া করেছেন।
ধৈর্যশীল ব্যক্তির জন্য আল্লাহ উত্তম বিনিময় রাখেন। উম্মু সালামাহ (রা.)-কে আবু সালামাহর বদলে রাসুল (সা.)-কে দিয়েছেন।









