লাইফ স্টাইল

বাড়ছে ডায়াবেটিস রোগি; পাল্লা দিয়ে কমছে ইনসুলিনের যোগান!

নিউজ ডেস্ক২৯ নভেম্বর ২০১৮২ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:

আধুনিক জীবনযাত্রা, মানসিক চাপ, দুশ্চিন্তার হাত ধরে যে সব রোগের আক্রমণ আমাদের জীবনে ভয়াল রূপে নেমে আসছে তার মধ্যে অন্যতম ডায়াবেটিস। বর্তমানে এই অসুখে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা বিশ্বে প্রায় ৪৩ কোটি। এই রোগিদের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় একটি ওষুধ ইনসুলিন। কিন্তু ডায়াবেটিসের সঙ্গে তাল মিলিয়ে তার সমাধান ইনসুলিনের সরবরাহ বাড়ছে না। ফলে অচিরেই ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য প্রয়োজনীয় ইনসুলিন জুটবে না।

‘ল্যানসেট ডায়াবেটিস ও অ্যান্ডোক্রিনোলজি জার্নালে’ প্রকাশিত এক গবেষণায় শঙ্কা প্রকাশ করে বলা হয়েছে, পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ আকার নিচ্ছে যে, ২০৩০ সালের দিকে এই অসুখে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা দাঁড়াবে ৫১ কোটিরও বেশি। এই অবস্থায় চাহিদা মেটাতে না পেরে দক্ষিণ এশিয়া, আফ্রিকা ও ওশিয়ানিয়া অঞ্চলে ইনসুলিনের জোগান একেবারে কমে যাবে। যার অন্যতম কারণ বিভিন্ন ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থার দ্বারা নির্ধারিত ইনসুলিনের অগ্নিমূল্য।

এই গবেষণায় আন্তর্জাতিক ডায়াবেটিস ফাউন্ডেশন ও আরও ১৪টি সংস্থার তথ্য বিশ্লেষণ করেছেন বিজ্ঞানীরা। তাতে দেখা গেছে, বর্তমানে বিশ্বের সকল প্রাপ্তবয়স্কের প্রায় ৯ শতাংশ এই রোগে আক্রান্ত! ২০৩০ সাল নাগাদ ২২১টি দেশে ‘টাইপ-২’ ডায়াবেটিসের সংখ্যা বেড়ে ৫১ কোটি ১০ লাখে দাঁড়াবে। তবে অসুখ আক্রান্তরা কতদিন এই ইনসুলিন ব্যবহার করার মতো আর্থিক সক্ষমতা ধরে রাখতে পারবে তা নিয়ে চিকিৎসকেরা চিন্তিত হয়ে পড়েছেন।

অ্যান্ডোক্রিনোলজিস্ট সতীনাথ মুখোপাধ্যায় বলেছেন, ‘ইনসুলিন মূলত বিদেশি ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থার দ্বারাই বাজারজাত হয়। জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের দ্বারা এটা তৈরি হলেও কোনো কারণ ছাড়াই গত ১০ বছরে প্রায় ৬০০ শতাংশ দাম বাড়িয়েছে সংস্থাগুলি। ফলে একটা সময়ের পর মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে চলে যাবে এই ওষুধ।’

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দেওয়া পরিসংখ্যান অনুসারে, সারা বিশ্বে এখন যেখানে টাইপ টু ডায়াবেটিসের কারণে ৬ কোটি ৩০ লাখ মানুষের ইনসুলিন প্রয়োজন, সেখানে দামের প্রভাবে সরবরাহ কমেছে অনেকটাই। পরিসংখ্যানে মাত্র ৩ কোটি ৩০ লাখ। দামের বাড়বাড়ন্ত এই হারে থাকলে সরবরাহ আরও কমবে বলে শঙ্কা গবষকদের। বর্তমান সরবরাহ বজায় থাকলে ২০৩০ সালে মাত্র অর্ধেক লোকই ওষুধটি হাতে পাবে।

এই গবেষণায় নেতৃত্বদানকারী স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির সহকারী অধ্যাপক সঞ্জয় বসুর মতে, জাতিসঙ্ঘ ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার যৌথ পদক্ষেপে এই দাম বাড়ানোর বিষয়টি নিয়ে বৈঠক চলছে, চেষ্টা করা হচ্ছে দাম আয়ত্তে এনে জোগান বাড়াতে। এ ছাড়া উন্নয়নশীল দেশগুলিতে এই অসুখের প্রকোপ বেশি হওয়ায় সেখানে জীবনযাত্রা ও খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন এনে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের দিকেও জোর দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।